Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুলাই ২০, ২০২৬

২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ বিধানসভায় । ‘মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই গুলি’, প্রধান সাক্ষী হিসেবে মমতাকেই নাকি ডাকেনি কমিশন, বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ বিধানসভায় । ‘মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই গুলি’, প্রধান সাক্ষী হিসেবে মমতাকেই নাকি ডাকেনি কমিশন, বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

পনেরো বছর ধরে ফাইলবন্দি থাকার পর অবশেষে ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের গুলিচালনা-কাণ্ডের তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করা হল। ৩৩তম ২১ জুলাইয়ের প্রাক্কালে সোমবার বিধানসভায় নিয়ম মেনে রিপোর্টটি উপস্থাপন করেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রিপোর্টের বিভিন্ন অংশ তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল এবং পুলিশের গুলিচালনার যথার্থতার কোনও প্রমাণ কমিশন খুঁজে পায়নি। একইসঙ্গে কমিশনের সাক্ষীদের তালিকাও প্রকাশ করা হয়। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দাবি, ১৯৯৩ সালের ঘটনার অন্যতম প্রধান প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাকি সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য কমিশন কখনও তলবই করেনি।
এই রিপোর্ট প্রসঙ্গে কালীঘাট তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দক্ষিণহস্ত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এই তথ্য প্রকাশ করতে তাঁর এতদিন লাগলো?”
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সচিত্র পরিচয়পত্রকে বাধ্যতামূলক করার দাবিতে মহাকরণ (বর্তমান নবান্ন নয়, তৎকালীন রাইটার্স বিল্ডিং) অভিযান কর্মসূচি ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতা। সেই সময় রাজ্যে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল এবং মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। অভিযোগ, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ গুলি চালায়। ওই ঘটনায় ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই ২১ জুলাই দিনটি তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে শহিদ দিবস হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এক সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করেন। কিন্তু কমিশন তদন্ত শেষ করলেও গত ১৫ বছরে সেই রিপোর্ট কখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
সোমবার বিধানসভায় রিপোর্ট পেশ করে শুভেন্দু অধিকারী জানান, তদন্ত চলাকালীন মোট ৪৪ জনকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, তৎকালীন পুলিশের একাধিক শীর্ষকর্তা-সহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। কিন্তু রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার অন্যতম প্রধান সাক্ষী হওয়ার কথা যাঁর, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কমিশন কোনওদিনই সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকেনি।
অন্যদিকে, তৎকালীন বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করা হলেও তিনি কমিশনের সামনে হাজির হতে অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, যাঁর নির্দেশে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে, সেই মণীশ গুপ্তকেই পরবর্তীকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছেন। সেই পরিস্থিতিতে কমিশনের সামনে সাক্ষ্য দেওয়া তাঁর কাছে যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হয়নি।
রিপোর্টের উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেন, সেদিন কোনও ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ গুলি চালিয়েছিল এবং সেই নির্দেশ এসেছিল মণীশ গুপ্তের কাছ থেকে। তবে মণীশ গুপ্তকে ঠিক কার নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল, সে বিষয়ে কমিশন নিশ্চিত কোনও তথ্য পায়নি।
এদিন শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তোলেন, যদি তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে এমন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ থেকেই থাকে, তাহলে তৃণমূল সরকার কেন তা দীর্ঘ ১৫ বছর প্রকাশ্যে আনেনি? তাঁর অভিযোগ, মণীশ গুপ্তকে রাজনৈতিকভাবে রক্ষা করতেই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর কথায়, প্রতি বছর ২১ জুলাই শহিদ স্মরণে বৃহৎ কর্মসূচি আয়োজন করা হলেও নিহতদের প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার আন্তরিক পদক্ষেপ নেয়নি। সেই কারণেই কমিশনের রিপোর্ট বছরের পর বছর জনসমক্ষে আসেনি বলেও দাবি করেন তিনি।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!