- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুলাই ২১, ২০২৬
২১ জুলাই শহিদ মঞ্চ থেকে পদ্ম শিবিরকে বিঁধে ঘোষণা মমতার, ‘জেলায় যাবো, হিম্মত থাকলে আটকান ‘ । দলীয় তহবিল পেলে শহীদ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, প্রতিশ্রুতি বিদ্রোহি ঋতব্রতর
২১ জুলাই-এর শহিদ স্মরণের সভা থেকে ১৯৯৭ সালের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুঁজে পাওয়া গেল। এবার আর ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। কলকাতা হাই কোর্ট ক্যাথিড্রাল রোডে ২১ জুলাইয়ের সভা করার অনুমতি দিয়েছে। সেই সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম না-করে তাঁকে আক্রমণ করলেন। তাঁর দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, কেবল তৃণমূলের কোল খালি করা হচ্ছে। এই বক্তব্যের রেশ ধরে তিনি বলেন, “মুখ খুললে আপনি ১০ বছর তৃণমূলে থেকে কী করেছেন, মুখোশ খুলে দেব?” প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূলকে রোখা যাবে না। বিজেপি হঠাও, লুম্পেন হঠাও।” সঙ্গে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকরাও গলা মেলান।
এদিন আবারও মমতার গলায় খেলা হবে স্লোগান শোনা যায়। তবে তিনি বলেন, “এবার ব্যাট-বল খেলা হবে। অনেক বাইক দিয়েছে বিজেপি। বাইক থেকে ডিম ছুড়ছে। এবার এই ডিম বিজেপির ওপর পড়বে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, “বিজেপি যদি এভাবে বাড়াবাড়ি করে তাহলে নবান্ন অভিযান, লালবাজার অভিযান হবে। ভালো করে সরকার চালান সহযোগিতা করবো। না হলে আজ থেকে রাস্তায় নামা শুরু হলো। জেলায় জেলায় যাবো। হিম্মত থাকলে আটকান। অনুমতি যদি না দেন তাহলে রাস্তাই আমাদের রাস্তা দেখাবে। আইনের মাধ্যমেই লড়াই করে সব বুঝে নেবো।”
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এবার আমি জেলায় যাবো। দেখি কে আটকায়। আমার সঙ্গে থাকবেন তো? আমি রাস্তায় হাঁটবো। পাশে থাকবেন তো ? সবাই মিলে থাকলে আমার কোনও আপত্তি নেই। অস্তিত্বটা বাংলায় ছিল, থাকবে। আমি বারুইপুরের ধর্ষিতার বাড়ি যাবো শুনে আমায় পুলিশ দিয়ে বাড়িতে বন্দি করেছে। আমি বলছি আমি জেলায় যাবো। হিম্মত থাকলে আটকান। বিজেপির অত্যাচার হিটলার, স্তালিনকে ছাড়িয়ে গেছে। আমি তাই বলছি আপনারা যদি তৈরী থাকেন কথা দিন, শপথ নিন। ভয় পাবেন না। সারা পশ্চিমবঙ্গকে জেল ঘোষণ করে দাও। পুলিশ এসে বলছে ওদিকে চলুন না হলে জেলে চলুন। এই আন্দোলন গণতন্ত্রের, স্বাধীনতার লড়াই। মনে রাখবেন আগামী দিনে জেলে গেলে ছাড়া পাওয়ার পর গলায় মালা পরিয়ে বরন করব।”
সারা দেশের সব বিজেপি বিরোধী দলকে এদিনের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়ার আহ্বান জানান। বলেন, “যদি সাহস থাকে তাহলে আমাদের সঙ্গে থাকুন। আর যদি ভয় পান বিজেপির সঙ্গে চলে যান।”
দলের কর্মীদের প্রতি এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বান, “আগে আমি একা এমপি ছিলাম। তার থেকে এতগুলো এমপি হয়েছি। লড়াই করে জিতেছি। সিপিএম-এর বিরুদ্ধে লড়ে ক্ষমতায় এসেছি। আমি মারিনি। বিজেপি আপনাদের মারছে। মনে রাখবেন বিজেপির বিষদাঁত ভাঙবে। আজ সংসদে বিল পাশ করবেন, কাল নতুন সরকার এসে ওই বিল বাতিল করে দেবে।”
এদিন একাডেমি অফ ফাইন আর্টসের প্রবেশদ্বারের অফিস বিজেপি দখল করে গেরুয়া রং করার বিরুদ্ধে নাট্যকার চন্দন সেন-এর প্রতিবাদী ভূমিকার প্রশংসা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “চন্দনবাবু অন্য দল করেন কিন্তু প্রাইভেট ট্রাস্টি দখলের বিরুদ্ধে তিনি যে ভাবে প্রতিবাদ করেছেন সেটা প্রশংসার যোগ্য।” প্রসঙ্গত একাডেমী অফ ফাইন আর্টসের প্রবেশদ্বারের অফিস বিজেপি দখল করে গেরুয়া রং করার বিরুদ্ধে নাট্যকার চন্দন সেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করে বিহিত চান।
মমতা বলেন, “সব চোরগুলো চলে গিয়েছে। বেঁচে গিয়েছি।” তার পরেই তিনি দাবি করেন, ইডি-সিবিআইয়ের ভয় দেখানো হচ্ছে। এই সূত্রে তাঁর সংযোজন, “ভয় দেখিয়ে কিছু মানুষকে কিছু ক্ষণের জন্য চুপ রাখা যায়।” ঋতব্রত শিবিরকে ‘বিজেপির বি টিম’ বলে কটাক্ষ করে মমতার ভবিষ্যদ্বাণী, ওই টিমও দ্রুত ভেঙে যাবে। ঋতব্রত শিবিরের উদ্দেশে মমতার বার্তা, “ক্ষমা করুন, আপনাদের আর প্রয়োজন নেই। ধনে-মানে-প্রাণে ভাল থাকুন।” নতুনদের ‘সোনার খনি’ নিয়ে তিনি নতুন করে শুরু করবেন বলে দাবি করেন মমতা। এদিন বিজেপিকে “তারকাটা” পার্টি বলেও কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বলেন, “আগে তো আমরা দু’জন এমপি ছিলাম। এখন তো ১৬-১৭ জন আছে। কোনও চিন্তা নেই। ফসল কাটা শেষ হয়নি।” এরপরই বলেন, “সাহস থাকলে আমার সঙ্গে থাকবেন। নাহলে বিজেপির স্পনসরড টিমের সাথে না থেকে সরাসরি বিজেপিতে চলে যাবেন।” নিজেদের ‘আসল’ বলেও এদিন দাবি করে মমতার স্লোগান, ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস জিন্দাবাদ।’
অন্যদিকে কলকাতার মেয়ো রোডে ২১ জুলাই উপলক্ষে আয়োজিত সভা থেকে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ২১ জুলাইয়ের ঘটনাকে ঘিরে গঠিত তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট দীর্ঘদিন প্রকাশ না করার বিষয়টি নিয়ে নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তীব্র প্রশ্ন তোলেন । তাঁর বক্তব্য, শহিদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে রিপোর্ট এতদিন জনসমক্ষে আনা হয়নি কেন, সেই জবাব রাজ্যের প্রাক্তন সরকারের দেওয়া উচিত।
সভামঞ্চ থেকে ঋতব্রত বলেন, “সম্মান জানিয়েই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে চাই — ভাবের ঘরে চুরি কেন ? তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হলো না কেন ? কেন এতদিন তা ঠান্ডা ঘরে ফেলে রাখা হয়েছিল ? কাদের আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল ?”
২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শহিদ দিবসের মঞ্চকে রাজনৈতিক কর্মসূচির বদলে ‘রিয়্যালিটি শো’-এর মঞ্চে পরিণত করা হয়েছিল। ঋতব্রতের কথায়, “এত বছর শহিদ পরিবারগুলির যথাযথ সম্মান হয়নি। দলের সাংসদ-বিধায়করাও অনেক সময় মঞ্চে জায়গা পাননি। অথচ টেলিভিশনের সিরিয়ালের পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীরা মঞ্চে অগ্রাধিকার পেয়েছেন। শহিদ দিবস কোনও রিয়্যালিটি শো নয়, এটি শহিদদের স্মরণ করার দিন।”
দলের প্রতীক ও তহবিলের অধিকার বর্তমানে বিচারাধীন বলে উল্লেখ করে ঋতব্রত জানান, ভবিষ্যতে তাঁদের শিবির যদি দলের তহবিলের দায়িত্ব পায়, তবে ২১ জুলাইয়ের শহিদ পরিবারগুলিকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এ দিনের সভায় যোগ দিতে আসা কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, কৃষ্ণনগর, ব্যারাকপুর এবং বীরভূমে তাঁদের সমর্থকদের উপর হামলা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, মহেশতলা থেকে সভায় আসার জন্য ভাড়া করা বাসগুলিকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, বিজেপির এক নেতা বাসমালিকদের ফোন করে হুমকি দিয়েছেন। এই সংক্রান্ত ফোন রেকর্ডিং তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন ঋতব্রত।
❤ Support Us





