Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ২১, ২০২৬

জন্তর মন্তরে সিজেপি-র আন্দোলনের ২৪তম দিনেও অবস্থান অব্যাহত । সরকার-পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ, বুধবার হাইকোর্টে শুনানি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জন্তর মন্তরে সিজেপি-র আন্দোলনের ২৪তম দিনেও অবস্থান অব্যাহত ।  সরকার-পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ, বুধবার হাইকোর্টে শুনানি

নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি-র নেতৃত্বে চলা আন্দোলন মঙ্গলবার ২৪তম দিনে পৌঁছেছে । সোমবারের ‘সংসদ চলো’ মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ এবং নিরাপত্তা জোরদারের পরও আন্দোলনকারীরা বৃষ্টি ও কড়া নিরাপত্তা উপেক্ষা করে মঙ্গলবারও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন ।

আন্দোলনকারীদের মূল দাবি হলো, নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জবাবদিহি ।

মঙ্গলবার সিজেপি-র আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেন, “কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা আলোচনার জন্য তাদের প্রতিনিধিদলকে ডেকে একদিকে সংলাপের আশ্বাস দেন, অন্যদিকে একই সময়ে জন্তর মন্তরে পুলিশ লাঠিচার্জ চালায় ।”
দিপকের দাবি, “জেপি নাড্ডার বাড়িতে আমাদের মুখপাত্র সৌরভ দাস ও অশুতোষ রাঙ্কাকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। তাঁদের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয় এবং প্রায় তিন ঘণ্টা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি ।”

অন্যদিকে, মঙ্গলবার এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেপি নাড্ডা সংক্ষেপে বলেন, “বৈঠক ভালোই হয়েছে ।”

এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, আমরা চাই যাতে দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে। তিনি রাজ্যগুলিকে জাতীয় স্বার্থে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম রোধে কাজ করার আহ্বান জানান। বলেন, এই দায় সারা দেশের।

অভিজিৎ দিপকে দাবি করেন, সোমবারের লাঠিচার্জে এক তরুণী গুরুতর আহত হয়ে আইসিইউ-তে ভর্তি রয়েছেন । তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কড়া নিরাপত্তা এবং সর্বত্র তল্লাশির মধ্যে জন্তর মন্তরের আশপাশে “ট্রাকভর্তি পাথর” কোথা থেকে এল ? তাঁর বক্তব্য, যখন প্রত্যেক আন্দোলনকারীকে তল্লাশি করা হচ্ছিল এবং চারদিকে ব্যারিকেড ছিল, তখন ওই পাথর সেখানে পৌঁছাল কীভাবে, তার উত্তর দিল্লি পুলিশকে দিতে হবে । দিপকের অভিযোগ, মিছিল থামাতে চাইলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করতে পারত, কিন্তু তার বদলে লাঠিচার্জ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, “আমরা এক মাস ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করেছি। সোমবার প্রথম আক্রমণ পুলিশই চালায়।”

মঙ্গলবার এক্স-এ পোস্ট করে অভিজিৎ দিপকে আন্দোলনকারীদের, বিশেষ করে আহত ছাত্রীদের কাছে ক্ষমা চান। তিনি লেখেন, “বিশেষ করে যেসব ছাত্রীকে পুরুষ পুলিশকর্মীরা নির্মমভাবে মারধর করেছেন, তাঁদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমি আপনাদের আরও ভালোভাবে রক্ষা করতে পারতাম ।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “শুধুমাত্র ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করতে গিয়ে সরকার বহু ছাত্রছাত্রীর রক্ত ঝরাতে প্রস্তুত ছিল।” আহতদের ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করারও আহ্বান জানান তিনি ।
সোমবারের ঘটনায় দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি বুধবার দিল্লি হাই কোর্টে হওয়ার কথা রয়েছে । মামলায় পুলিশের ভূমিকার বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে ।
সিজেপি মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশের কাছে জানতে চান, সোমবারের আন্দোলনের পর এখনও কতজন বিক্ষোভকারী পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন । তিনি অবিলম্বে আটক সকলকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান ।

কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধি পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “এভাবে তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে আচরণ করা যায় না। তাঁদের সমস্যা বাস্তব এবং গভীর। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পরিবারের মানুষ ঋণ নেন, কোচিং করান, অসংখ্য কষ্ট সহ্য করেন। তাই তাঁদের দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।”
রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিবাল জেপি নাড্ডার বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “আন্দোলনকারীদের দাবি তো সবারই জানা ছিল। সরকার এতদিন কী করছিল? অপেক্ষা করছিল কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ চালানোর ?”
গায়ক-অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ছাত্রদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে লেখেন, “আজ যা হয়েছে তা অত্যন্ত ভুল। ছাত্রদের সঙ্গে এভাবে আচরণ করা উচিত হয়নি। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, তাঁদের দাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে শুনুন।”
সোমবারের সংঘর্ষের পর মঙ্গলবারও নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল, নর্থ, সাউথ, সাউথ-ওয়েস্ট এবং সাউথ-ইস্ট জেলা-সহ একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বহুস্তরীয় ব্যারিকেড, যানবাহনে কড়া তল্লাশি, বাড়তি টহল এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও আন্দোলনপ্রবণ এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, অনির্দিষ্টকালের অনশন চালিয়ে যাওয়া সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক-এর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও তিনি এখনও শিরায় স্যালাইন বা গ্লুকোজ নিতে অস্বীকার করছেন বলে জানিয়েছে সফদরজং হাসপাতাল।

হাসপাতালের মেডিক্যাল বুলেটিন অনুযায়ী, তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম রয়েছে, পটাশিয়ামের মাত্রা ৩.২ mEq/L, পাশাপাশি অ্যানিমিয়া ও শ্বেত রক্তকণিকার ঘাটতিসহ প্যানসাইটোপেনিয়া-র লক্ষণও রয়েছে। চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নিয়মিত নজর রাখছে।

এই পরিস্থিতিতে সোমবারের সংঘর্ষের পরও মঙ্গলবার জন্তর মন্তরে অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ও আন্দোলনকারীরা । দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষায় অনিয়মের বিচার, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চলবে ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!