- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ২১, ২০২৬
নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মোদি, আন্দোলনরত ছাত্রদের কী বার্তা প্রধানমন্ত্রীর ?
২০২৬ সালের নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের ব্যাপক বিক্ষোভের এক দিন পর প্রথমবার এই ইস্যুতে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “প্রশ্নফাঁস মহাপাপ। এটি রোধ করা গোটা দেশের দায়িত্ব।” একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনের লাইব্রেরি ভবনের জিএমসি বালাযোগী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে এই বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্য তুলে ধরেন।
রিজিজু জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “শিশুদের উস্কানি দেবেন না, ওদের সঠিক পথ দেখান।” তাঁর কথায়, ভুল পথে চলে যাওয়া সহজ হলেও সঠিক পথে ফিরে আসা অনেক কঠিন। তাই তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব সমাজের সকলের।
মোদি আরও বলেন, এমন একটি স্বচ্ছ, ত্রুটিমুক্ত ও নির্ভুল পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনও সুযোগই না থাকে। এই লক্ষ্য পূরণে সরকার, প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজ—সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শুধু নিট বিতর্ক নয়, সংসদীয় কার্যক্রম নিয়েও বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এনডিএ শরিকদের আইন প্রণয়নের কাজে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিরোধী দলগুলির প্রতিও সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আবেদন জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু দেশের ভবিষ্যৎ এবং যুবসমাজের স্বার্থে সব সাংসদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
এদিকে নিট-ইউজির প্রশ্নফাঁস-সহ একাধিক দাবিতে সোমবার রাজধানী দিল্লিতে সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল, প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। এই আন্দোলনে যোগ দেন সমাজসেবী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকও।
বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিজুড়ে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয় এবং জারি করা হয় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা), যার ফলে চার জনের বেশি মানুষের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা ছিল। সংসদমুখী মিছিল আটকাতে পুলিশ লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস নিয়ে প্রস্তুত ছিল।
পুলিশি বাধা সত্ত্বেও বহু বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান। শেষ পর্যন্ত তাঁদের আটকায় পুলিশ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করা হয় এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া হয়। বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করে বাসে তুলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সম্মত হয় কেন্দ্রীয় সরকার। একই সময়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দফতরে গিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার ঘণ্টা ধরে ওই বৈঠক চলে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডার সঙ্গে বৈঠকের পরেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালেও বিক্ষোভকারীরা তা নাকচ করে দেন। নড্ডা জানান, আন্দোলনকারীদের প্রস্তাবেই সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয় এবং তাঁরা লিখিত আবেদনও জমা দেন। এরপর তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
এদিকে সোনম ওয়াংচুক ঘোষণা করেন, আন্দোলনকারীদের সংসদ ভবনে সাংসদদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন। সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত হাতে লেখা চিঠিতে তিনি পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ছাত্র-যুবদের সঙ্গে নৃশংস আচরণ করা হয়েছে।
ওয়াংচুক বলেন, সংসদ অভিযানে নানা ধরনের উস্কানি থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা শান্তি বজায় রেখেছেন, যা তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি সরকারের কাছে আবেদন জানান, ছাত্রদের যেন তাঁদের অভিযোগ সরাসরি সংসদ সদস্যদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সাক্ষাতের অনুমতিও চান তিনি।
সোমবার থেকেই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিভিন্ন দলের সাংসদরা সংসদে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময়েই সংসদ অভিযানে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ, যাঁদের অধিকাংশই ছাত্র-যুব, অংশ নিয়েছিলেন বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি। বৃষ্টির মধ্যেও জাতীয় পতাকা ও সংবিধানের কপি হাতে নিয়ে তাঁরা মিছিল চালিয়ে যান।
এই বিক্ষোভ এবং নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস বিতর্কের আবহেই মঙ্গলবার প্রথমবার প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট বার্তা দেন—প্রশ্নফাঁস কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না, দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় স্বচ্ছ ও নির্ভুল পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি শিশু ও তরুণদের উস্কানি না দিয়ে সঠিক পথ দেখানোর আহ্বানও জানান।
❤ Support Us






