- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ২০, ২০২৬
সদর দফতরেই মৃত্যু ত্রিপুরার পুলিশ প্রধানের
রাজ্যের সর্বোচ্চ পুলিশকর্তার মৃত্যুতে স্তম্ভিত ত্রিপুরা। আগরতলার পুলিশ সদর দফতরের নিজের দফতর থেকেই সোমবার উদ্ধার হলো ত্রিপুরার ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিজিপি) অনুরাগ ধনকরের দেহ। প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার আশঙ্কা করছেন তদন্তকারীরা। যদিও সরকারিভাবে এখনো মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় প্রশাসন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।
সোমবার দুপুরে পুলিশ সদর দফতরে আচমকাই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ১৯৯৪ ব্যাচের আইপিএস অফিসার অনুরাগ ধনকরকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে তড়িঘড়ি আগরতলার গোবিন্দ বল্লভ পন্ত (জি বি পন্ত) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. প্রদীপ ভৌমিক জানান, দুপুর প্রায় ১২টার সময় ধনকরকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। সে সময় তাঁর শরীরে কোনো নাড়ির স্পন্দন, রক্তচাপ, তাপমাত্রা বা অন্য কোনও প্রাণচিহ্ন ছিল না। জরুরি বিভাগে সঙ্গে সঙ্গেই ‘কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন’ (সিপিআর) শুরু হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল প্রায় ৪০ থেকে ৪৮ মিনিট ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালালেও তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করা হয়।
চিকিৎসকরা জানান, এ মুহূর্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই সবকিছু স্পষ্ট হবে। হাসপাতালে আনার সময় রোগীর শরীরে কোনো প্রাণচিহ্ন ছিল না বলেই তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা যায়নি। তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এদিকে, ডিজিপির মৃত্যুকে ঘিরে শুরু থেকেই একাধিক জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। এক আধিকারিকের জানিয়েছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এ দাবির সত্যতা যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ সূত্রের দাবি, অনুরাগ ধনকর সম্ভবত নিজের সার্ভিস পিস্তল দিয়েই নিজেকে গুলি করেছিলেন। আবার কিছু প্রাথমিক রিপোর্টে তাঁকে অফিসকক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে, পরস্পরবিরোধী তথ্যের কোনোটিকেই এখনো সরকারিভাবে নিশ্চিত করেনি প্রশাসন। তদন্তকারীরা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন। ময়নাতদন্ত এবং ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্টের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া যাবে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, মুখ্যমন্ত্রীর সচিব কিরণ গিট্টে-সহ একাধিক শীর্ষ সরকারি ও পুলিশ আধিকারিক দ্রুত পুলিশ সদর দফতরে পৌঁছন। পরে তাঁরা হাসপাতালে যান। গোটা পুলিশ সদর দফতর ঘিরে ফেলে তদন্তকারী দল। ঘটনাস্থল সিল করে শুরু হয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ। মুখ্যমন্ত্রীর সচিব কিরণ গিট্টে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার আশঙ্কা করা হলেও মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না প্রশাসন।
ডিজিপি অনুরাগ ধনকর ছিলেন ১৯৯৪ ব্যাচের ত্রিপুরা ক্যাডারের আইপিএস অফিসার। ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি ত্রিপুরার ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার আগে তিনি রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল (ইন্টেলিজেন্স) পদে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে ত্রিপুরা পুলিশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তিনি সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এও কাজ করেছেন। বিশেষ করে সিবিআইয়ে কর্মরত অবস্থায় একাধিক বহুচর্চিত তদন্তের দায়িত্ব সামলে তিনি পেশাদার ও দক্ষ তদন্তকারী হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছিলেন। রাজ্যের প্রবীণতম ও অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসারদের অন্যতম হিসেবেই প্রশাসনিক মহলে তাঁর পরিচিতি ছিল।
মাত্র এক বছরেরও কিছু বেশি সময় আগে রাজ্যের পুলিশপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়া এই প্রবীণ আধিকারিকের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ত্রিপুরা পুলিশে। প্রশাসনের অন্দরে নেমে এসেছে গভীর স্তব্ধতা। সহকর্মী ও সরকারি আধিকারিকদের অনেকেই এই ঘটনাকে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে বর্ণনা করেছেন। এখন সকলের নজর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে। কী পরিস্থিতিতে রাজ্যের পুলিশপ্রধানের মৃত্যু হল, আদৌ এটি আত্মহত্যা কি না, না কি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্ত এগোচ্ছে। তদন্তকারীরা কোনো সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দিচ্ছে না।
❤ Support Us








