Advertisement
  • দে । শ
  • জুলাই ২৮, ২০২৬

আবাস যোজনায় ভূরিভূরি দুর্নীতি, শুরু টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আবাস যোজনায় ভূরিভূরি দুর্নীতি, শুরু টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া

উপভোক্তাদের আইডি, জবকার্ড হাতিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ। মৃতদের নামে টাকা তুলে হজম। অভিযোগ, আবাস যোজনার সেইসব টাকা ঢুকেছিল তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সদস্য ও নেতাদের অ্যাকাউন্টে। মঙ্গলকোটের বিভিন্ন পঞ্চায়েতে এমন ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতে শোরগোল পড়ে যায়। এবার সে টাকা প্রকৃত উপভোক্তাদের তহবিলে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হল।

মঙ্গলকোটের ঝিলু ১নং পঞ্চায়েতের কুন্দা গ্রামের বাসিন্দা তৃণমূল নেতা তাপস কেশ ও তার স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ২০১৯—২০ আর্থিক বর্ষে আবাস যোজনার ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে ঢুকেছিল। এদিন মঙ্গলকোট ব্লক কার্যালয়ে গিয়ে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিলেন তাপসবাবু। জানা গেল, কুন্দা গ্রামেরই বাসিন্দা তোতন মাঝির প্রাপ্য তাপসবাবুর অ্যাকাউন্টে আর বীণাপাণি মাঝির টাকা তাপসবাবুর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল। তাপসবাবুর দাবি, ‘ভুলবশত আমার ও আমার স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছিল। সেটা ফেরত দিলাম।’

মঙ্গলকোটের বিজেপি বিধায়ক শিশির ঘোষ জানান, ‘টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হলো। অনেকেই আমাকে ফোন করে বলছেন, তারাও টাকা ফেরত দিয়ে দেবেন। আমরা চাই প্রকৃত উপভোক্তারাই সরকারের সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পান।’ যোগ করেন, ‘২০২০—২১ ও ২০২১—২২ দুটি আর্থিক বছরের আবাস যোজনার তালিকায় ২ হাজার দুর্নীতি চিহ্নিত হয়েছে। তাহলে তৃণমূলের পুরো জমানার হিসেব ধরলে সেই অঙ্কটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, ভাবুন।’ বিষয়টি যাতে ব্লক প্রশাসনও তদন্ত করে, সে দাবি তুলছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল, মঙ্গলকোটের কৈচর ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতের কৈচর গ্রামের বধূ পদ্মাবতী যশ ও তার দাদা নির্মল কোঁয়ারের আবাস যোজনার তালিকায় নাম রয়েছে। পঞ্চায়েতের নথিতে দেখা যাচ্ছে, দুজনেই আবাস যোজনার ঘর তৈরির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। পদ্মাবতী বললেন, ‘২০২০-২১ অর্থবর্ষে আমি আর দাদা আবাসের টাকা পেয়েছি জেনে আকাশ থেকে পড়লাম। এক নয়াও পাইনি। আমাদের নামে টাকা যারা হজম করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ পদ্মাবতীর পড়শি রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের ২০২১ সালের ১২ অক্টোবর ৬০ হাজার, ৩০ অক্টোবর ৫০ হাজার ও ২২ নভেম্বর ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে পঞ্চায়েতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি জেনে তার প্রাপ্য হজমকারীদের শাস্তি চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন রবীন্দ্রনাথবাবু। ২০২১-২২  সালে স্থানীয় বাসিন্দা জীবনকৃষ্ণ চৌধুরি তিন কিস্তিতে আবাস যোজনার ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পেয়েছেন। অথচ ২০১২ সালে মৃত্যু হয়েছে জীবনকৃষ্ণর।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!