Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ২৮, ২০২৬

১ আগস্ট থেকে শুরু ‘ডিজিটাল জনগণনা’, অনলাইনে কী ভাবে তথ্য জমা দেবেন তথ্য ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
১ আগস্ট থেকে শুরু ‘ডিজিটাল জনগণনা’, অনলাইনে কী ভাবে তথ্য জমা দেবেন তথ্য ?

ভারতে প্রথম বার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে হতে চলেছে জনগণনা। এর প্রস্তুতি হিসেবে শুরু হচ্ছে জনগণনার প্রথম ধাপ, যেখানে নাগরিকেরা নিজেরাই অনলাইনে নিজেদের তথ্য নথিভুক্ত করার সুযোগ পাবেন। এই প্রক্রিয়াকে বলা হচ্ছে ‘সেল্‌ফ এনুমারেশন’ বা স্ব-শুমারি।

সরকারের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, আগামী ১আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নাগরিকেরা অনলাইনে স্ব-নিবন্ধিকরণের মাধ্যমে জনগণনার তথ্য জমা দিতে পারবেন। এর জন্য তাঁদের জনগণনা সংক্রান্ত সরকারি পোর্টাল https://se.census.gov.in যেতে হবে। প্রথমে নির্দিষ্ট পোর্টালে লগ ইন করতে হবে। এরপর ধাপে ধাপে নিম্নলিখিত তথ্যগুলি পূরণ করতে হবে—

১. রাজ্য নির্বাচন ও ক্যাপচা পূরণ:
পোর্টালে প্রবেশ করার পর নিজের রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নির্বাচন করতে হবে। এরপর নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য ক্যাপচা পূরণ করতে হবে।

২. বাড়ির কর্তা বা কর্ত্রীর তথ্য:
পরবর্তী ধাপে বাড়ির প্রধান ব্যক্তির নাম দিতে হবে। পাশাপাশি মোবাইল নম্বর ও ই-মেল আইডি দেওয়ার সুযোগ থাকবে, যদিও এগুলি ঐচ্ছিক।

৩. ভাষা নির্বাচন ও ওটিপি যাচাই:
এরপর নিজের পছন্দের ভাষা নির্বাচন করতে হবে। রেজিস্টার করা মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) পাঠানো হবে, যা দিয়ে যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।

৪. ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য:
এই ধাপে জেলা, পিন নম্বর এবং গ্রাম, শহর বা এলাকার নাম উল্লেখ করতে হবে। তথ্য দেওয়ার পর একটি মানচিত্র দেখা যাবে, যেখানে নাগরিক নিজের বাড়ির অবস্থান চিহ্নিত করতে পারবেন।

৫. বাড়ি সংক্রান্ত তথ্য প্রদান:
এরপর হাউসলিস্টিং বা বাড়ির তালিকাভুক্তির তথ্য দিতে হবে। সব তথ্য পূরণ করার পর একটি প্রিভিউ স্ক্রিনে পুরো বিবরণ দেখা যাবে। সেখানে সব তথ্য ঠিক আছে কি না যাচাই করে নিতে হবে।

. চূড়ান্ত জমা ও এসই আইডি সংগ্রহ:
সবশেষে ‘ফাইনাল সাবমিট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। জমা দেওয়ার পর নাগরিকের মোবাইল নম্বর বা ই-মেলে একটি ১১ সংখ্যার স্বতন্ত্র নম্বর বা ‘এসই আইডি* পাঠানো হবে। জনগণনার কাজে নিযুক্ত সরকারি কর্মীরা বাড়িতে এলে ওই নম্বর তাঁদের দেখাতে হবে। তথ্য যাচাইয়ের পর তা নির্দিষ্ট সার্ভারে আপলোড করা হবে।

জনগণনার প্রথম পর্যায়ে কী কী তথ্য সংগ্রহ করা হবে?

২০২৭ সালের জনগণনা দু’টি পর্যায়ে সম্পন্ন হবে। প্রথম পর্যায়ে হবে বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনা। এই পর্যায়ে সংগ্রহ করা হবে—

  • বাড়ির অবস্থা ও ধরন
  • পরিবারের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য
  • পানীয় জলের ব্যবস্থা
  • শৌচাগারের সুবিধা
  • বিদ্যুৎ সংযোগ
  • রান্নার জ্বালানির ধরন
  • ইন্টারনেট সংযোগের তথ্য
  • রেডিয়ো, টেলিভিশন, কম্পিউটার, দুই ও চার চাকার গাড়ির মতো সম্পদের তথ্য

এই প্রথম পর্যায়ের কাজ চলবে ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যেই বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনার কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে প্রশাসন।

দ্বিতীয় পর্যায়ে হবে প্রকৃত জনসংখ্যা গণনা

প্রথম পর্যায়ের পর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হবে জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়। এই পর্যায়ে প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে—

  • পরিবারের সদস্যদের নাম
  • বয়স
  • লিঙ্গ
  • জাতি সংক্রান্ত তথ্য
  • ধর্ম সংক্রান্ত তথ্য

এসব তথ্যের ভিত্তিতেই দেশের প্রকৃত জনসংখ্যার হিসাব তৈরি করা হবে।

কলকাতায় জনগণনার প্রস্তুতি

২০২৭ সালের জনগণনার প্রস্তুতি হিসেবে কলকাতা শহরকে মোট ৮,১১২টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্লকে গড়ে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন বাসিন্দা থাকবেন। জনগণনার কাজ যাতে সুষ্ঠু, নির্ভুল ও দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!