- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ৭, ২০২৬
নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে সিবিআইয়ের চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর তথ্য, চিরকুটে লিখে পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছত প্রশ্নের উত্তর
নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় ৯৪ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই । সেই চার্জশিটে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁসের পদ্ধতি, তাঁদের ভূমিকা এবং পুরো চক্র কী ভাবে কাজ করত, তার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
সিবিআই মোট ১৩ জনকে এই মামলায় অভিযুক্ত করেছে। তাঁদের প্রত্যেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে । তদন্তকারীদের অভিযোগ, নিট পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েক জন আধিকারিকই প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিলেন । তাঁরা প্রথমে মুখস্থ করা প্রশ্ন ছোট ছোট কাগজের চিরকুটে লিখে রাখতেন । পরে সেই প্রশ্ন ও উত্তর নির্দিষ্ট কিছু পড়ুয়া এবং কোচিং সেন্টারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হত। এর বিনিময়ে অভিযুক্তরা মোটা অঙ্কের টাকা নিতেন ।
সিবিআইয়ের চার্জশিটে এনটিএ-র তিন বিশেষজ্ঞ আধিকারিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন —
- রসায়ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ পিভি কুলকর্ণী
- উদ্ভিদবিদ্যার বিশেষজ্ঞ মণীশ মান্ধারে
- পদার্থবিদ্যার বিশেষজ্ঞ মনীষা হাভালদার
তিন জনই বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন। অভিযোগ, নিটের প্রশ্নপত্র তৈরির জন্য গঠিত বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য ছিলেন তাঁরা ।
সিবিআইয়ের দাবি, প্রশ্নপত্র চূড়ান্ত হওয়ার পর ওই তিন আধিকারিক প্রশ্নগুলি ছোট ছোট কাগজে লিখে রাখতেন । সহজ প্রশ্নগুলি তাঁরা মুখস্থ করে নিতেন । এরপর এনসিইআরটি-র যে সমস্ত বইয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর রয়েছে, সেই অংশ চিহ্নিত করে দেওয়া হত । পরে ওই চিরকুট এবং চিহ্নিত বই ‘মিডলম্যান’-দের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হত ।
চার্জশিটে সিবিআই জানিয়েছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু কোচিং সেন্টারের যোগাযোগ ছিল। প্রশ্নফাঁসের সুবিধা শুধুমাত্র সেই সব জায়গাতেই পৌঁছত বলে অভিযোগ ।
তদন্তকারীদের মতে, পুরো প্রক্রিয়াটি ইচ্ছাকৃত ভাবে অফলাইনে পরিচালিত করা হয়েছিল । ডিজিটাল মাধ্যমে কোনও প্রমাণ যাতে না থাকে, সে জন্য প্রশ্ন মুখস্থ করে হাতে লেখা চিরকুট ব্যবহার করা হত । সেই চিরকুট ও বই সরাসরি এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির হাতে পৌঁছে দেওয়া হত ।
সিবিআইয়ের দাবি, অভিযুক্তদের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র টাকা উপার্জন ছিল না । নির্দিষ্ট কিছু কোচিং সেন্টারের ফলাফল ও সাফল্যের হার বাড়ানোও এই চক্রের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে ।
তদন্তের সময় সিবিআই আধিকারিকরা একাধিক এমন চিরকুট উদ্ধার করেছেন, যেখানে প্রশ্ন ও উত্তর সংক্রান্ত তথ্য লেখা ছিল । চার্জশিটে এনটিএ-র পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিবিআই । তদন্তকারীদের অভিযোগ, যেখানে প্রশ্নপত্র সংরক্ষিত থাকত, সেখানে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় যথাযথ তল্লাশির ব্যবস্থা ছিল না ।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একাধিক ত্রুটি থাকায় বিশেষজ্ঞরা সহজেই প্রশ্নপত্র দেখে তা মুখস্থ করতে পারতেন এবং পরে হোটেল বা বাড়িতে গিয়ে লিখে রাখতে পারতেন ।
সিবিআই জানিয়েছে, অভিযুক্ত পিভি কুলকর্ণী ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত টানা তিন দিন ধরে তিনটি আলাদা সেটের প্রশ্নের অনুবাদের কাজ করেছিলেন ।
সিবিআইয়ের চার্জশিটে তিন এনটিএ আধিকারিক ছাড়াও একাধিক মিডলম্যান, কোচিং সেন্টারের কর্মী এবং এমন পরীক্ষার্থীদের নাম রয়েছে, যাঁরা প্রশ্নফাঁসের সুবিধা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), দুর্নীতিদমন আইন এবং পরীক্ষায় অনিয়ম রোধ সংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে ।
চার্জশিটে সিবিআই জানিয়েছে, তদন্তের সময় ৩৬০ জন প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং ৪২২টি গুরুত্বপূর্ণ নথি পরীক্ষা করা হয়েছে ।
❤ Support Us







