- বি। দে । শ
- আগস্ট ৭, ২০২৬
পাকিস্তানের পাশে সৌদি-তুরস্ক ? সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে জোর জল্পনা
কয়েক মাস আগে ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী মন্তব্য করেছিলেন, “অপারেশন সিঁদুর এখনও চলছে ।” একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ভারতবিরোধী কার্যকলাপ বন্ধ না হলে পাকিস্তানকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে । তাঁর বক্তব্যে ভবিষ্যতে ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’-এর সম্ভাবনাও ইঙ্গিত হিসেবে উঠে এসেছিল । যদিও কবে বা আদৌ এমন কোনও নতুন অভিযান হবে কি না, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি ।
এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের সম্ভাব্য যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা । সংবাদ সংস্থা এএফপি-র দাবি, সৌদি আরবের জেদ্দায় শুক্রবার এই তিন দেশের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে ।
সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, এই চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল । তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে সেই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগিয়েছে । সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রও দাবি করেছে, শুক্রবারই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।
যদি এই প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হয়, তাহলে ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও তুরস্কের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে । তবে চুক্তির আনুষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট সামরিক সহায়তার বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না ।
প্রসঙ্গত, গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিরস্ত্র নাগরিক নিহত হন । ভারতের অভিযোগ, এই হামলার সঙ্গে লস্কর-ই-তইবার ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)-এর জঙ্গিরা জড়িত ছিল । এর জবাবে ৭ মে ভোররাতে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে । ভারতীয় সেনার দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের মোট নয়টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয় ।
এরপর ভারতীয় দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তান সীমান্তবর্তী জনবহুল এলাকা ও সামরিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলার চেষ্টা করে । ভারত সেই হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি পাল্টা আঘাত হানে। ভারতের দাবি, এই অভিযানে পাকিস্তানের অন্তত ১১টি বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় । এছাড়া ভারতীয় সেনার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানে ১০০-রও বেশি জঙ্গি এবং ৩৫ থেকে ৪০ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন ।
ভারতের সরকারি দাবি অনুসারে, প্রায় ৮৮ ঘণ্টা ধরে চলা সংঘাতের পর পাকিস্তানের অনুরোধে উভয় দেশ সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয় । তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই দাবির একাধিক দিক নিয়ে ভিন্ন বক্তব্যও সামনে এসেছে ।
ভবিষ্যতে যদি আবারও সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় বা ভারতের তরফে নতুন কোনও সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়, তাহলে সম্ভাব্য সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের ।
❤ Support Us








