Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • আগস্ট ১১, ২০২৬

পড়ুয়াদের ওপর লাঠিচার্জের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ড বন্‌ধের ডাক বিজেপির, বিধানসভা অভিযানে এবিভিপি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পড়ুয়াদের ওপর লাঠিচার্জের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ড বন্‌ধের ডাক বিজেপির, বিধানসভা অভিযানে এবিভিপি

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন ক্রমেই আরও উত্তপ্ত হচ্ছে। সোমবার বিধানসভা অভিযানে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি লাঠিচার্জ, জলকামান, কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগের অভিযোগ ঘিরে মঙ্গলবার রাজ্য জুড়ে বন্‌ধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। একই দিনে পুরনো বিধানসভা ভবন থেকে নতুন বিধানসভা চত্বর পর্যন্ত ‘বিধানসভা মার্চ’-এর কর্মসূচি নিয়েছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। ফলে আন্দোলনের ১৮তম দিনে ঝাড়খণ্ডে এক দিকে যেমন পড়ুয়াদের বিক্ষোভ তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই সরাসরি রাজনৈতিক সংঘাতের চেহারা নিচ্ছে গোটা পরিস্থিতি।

বিজেপির অভিযোগ, সোমবার বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়াদের উপর ‘বর্বর’ ভাবে বলপ্রয়োগ করেছে পুলিশ। দলের দাবি, পুলিশের লাঠির আঘাতে শতাধিক পড়ুয়া আহত হয়েছেন। যদিও রাঁচী পুলিশের বক্তব্য, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৪ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। বন্‌ধের ডাক দিয়ে ঝাড়খণ্ড বিজেপির রাজ্য সভাপতি আদিত্য সাহু বলেন, ‘চাকরি বিক্রি করা হচ্ছে। আমাদের সন্তানদের উপর অন্যায় অত্যাচার চলছে। বর্বরের মতো আমাদের সন্তানদের উপর লাঠি চালানো হয়েছে। প্রতিবাদী পড়ুয়ারা আমাদের সন্তান। তাই ওদের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি কর্মীরা পথে নামবে।’ বিজেপির ঘোষণা, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত গোটা রাজ্যে বন্‌ধ চলবে। দলের হুঁশিয়ারি, পড়ুয়াদের উপর পুলিশের ‘বর্বরতা’র প্রতিবাদে ঝাড়খণ্ড স্তব্ধ করে দেওয়া হবে। জরুরি পরিষেবাকে অবশ্য বন্‌ধের আওতার বাইরে রাখার কথা জানিয়েছে বিজেপি।

ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) ও ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি)-এর একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তুলে ২৫ জুলাই থেকে আন্দোলনে নেমেছেন হাজার হাজার পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থী। জেপিএসসি-জেএসএসসি মঞ্চের অধীনে চলা এই আন্দোলন ইতিমধ্যেই ১৮ দিনে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় নিয়ম ভাঙা হয়েছে। কোথাও প্রশ্নপত্র ফাঁস, কোথাও পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন, আবার কোথাও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, পুরো নিয়োগ ব্যবস্থার খোলনলচে বদলাতে হবে এবং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। দাবিদাওয়া নিয়ে সরকারের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক হয়েছে আন্দোলনকারীদের। রবিবারও জেপিএসসি-জেএসএসসি মঞ্চের সঙ্গে সরকারের ষষ্ঠ দফার বৈঠক হয়। কিন্তু সে বৈঠক থেকেও কোনো সমাধানসূত্র বেরোয়নি। বৈঠকের পরে সরকারি প্রতিনিধিদের দাবি, আন্দোলনকারীদের প্রায় ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। পড়ুয়ারা অবশ্য সে দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, মূল দাবিগুলিই এখনো পূরণ হয়নি। সোমবারের পুলিশি পদক্ষেপ ক্ষোভকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

এ টানাপড়েনের মধ্যেই আন্দোলনকারীদের একাংশ অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসেন। ছয় জন অনশন করছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর শারীরিক অবস্থারও অবনতি হয়। রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনক ভাবে কমে গেলে তাঁকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। আন্দোলনকারীদের দাবির কেন্দ্রে রয়েছে নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত। তাঁদের দাবি, অভিযোগের তদন্তে সিবিআই এবং ইডিকে যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগুলি বাতিল বা স্থগিত রাখতে হবে। শুধু কয়েকটি পরীক্ষা বাতিল করলেই সমস্যার সমাধান হবে না বলে দাবি পড়ুয়াদের। তাঁদের বক্তব্য, গোটা নিয়োগ ব্যবস্থার খোলনলচে বদলাতে হবে। পরীক্ষা পরিচালনা থেকে ফল প্রকাশ এবং নিয়োগ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের যাতে বঞ্চিত হতে না হয়, তার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সোমবার হাজার হাজার পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থী মিছিল করে বিধানসভার দিকে এগোলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা একের পর এক ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত জগন্নাথপুর মন্দিরের কাছে তাঁদের আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কোনো রকম আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। বিধানসভা এলাকার কাছে পৌঁছতেই একের পর এক লাঠির আঘাত আসে বলে অভিযোগ তাঁদের। জলকামান এবং কাঁদানে গ্যাসও ব্যবহার করা হয়।  পুলিশের বক্তব্য, আন্দোলনকারীরা একাধিক ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলপ্রয়োগ করতে হয়। আন্দোলনকারীরা বিধানসভার তিনটি গেট পেরিয়ে চত্বরে ঢুকে পড়েছিলেন বলেও খবর। চতুর্থ গেটের কাছে তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে বিধানসভার অধিবেশনও মুলতুবি করতে হয়।

সোমবারের ঘটনার পরেই রাজনৈতিক ভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে বিজেপি। দলের অভিযোগ, চাকরিপ্রার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি রাজ্য সরকার উদাসীন। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না করে আন্দোলন দমন করতেই পুলিশি বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি আদিত্য সাহুর বক্তব্যে সে ক্ষোভই স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘চাকরি বিক্রি করা হচ্ছে। আমাদের সন্তানদের উপর অন্যায় অত্যাচার চলছে। বর্বরের মতো আমাদের সন্তানদের উপর লাঠি চালানো হয়েছে। প্রতিবাদী পড়ুয়ারা আমাদের সন্তান।’ বিজেপির দাবি, সোমবারের পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে মঙ্গলবার গোটা ঝাড়খণ্ডে বন্‌ধ সফল করা হবে। দলীয় কর্মীদের পথে নামার আহ্বান জানিয়ে সাহু বলেন, পড়ুয়াদের উপর পুলিশের ‘বর্বরতা’র বিরুদ্ধে রাজ্যবাসীকে প্রতিবাদে শামিল হতে হবে।

বন্‌ধের সকালে রাঁচীর একাধিক এলাকায় বিজেপি কর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। কাঁকে রোডের সিএমপিডিআই গেট, কিশোরগঞ্জ, আরগোরা, কাঁকে এলাকায় রাস্তা আটকে দেওয়া হয়। নিউক্লিয়াস মল, হারমু চক এবং কিশোরগঞ্জ চকের কাছে টায়ার পোড়ানোর খবরও মেলে। কয়েকটি জায়গায় পুলিশ ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়।রামগড়ে রাঁচী-পটনা জাতীয় সড়ক বা এনএইচ-৩৩-ও অবরোধ করেন বিজেপি কর্মীরা। চার লেনের ওই রাস্তায় কয়েকশো মানুষ বসে পড়ায় দুই দিকে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পরে কুজু পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ ওঠে। সেখান থেকেও কয়েক জন বন্‌ধ সমর্থককে আটক করা হয়।  রাঁচী-সহ রাজ্যের একাধিক এলাকায় অধিকাংশ স্কুল, দোকানপাট ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ। যান চলাচলও তুলনামূলক কম।

বিজেপির বন্‌ধের মধ্যেই মঙ্গলবার বিধানসভা অভিযানের ডাক দেয় এবিভিপি। পুরনো বিধানসভা ভবন থেকে নতুন বিধানসভা চত্বর পর্যন্ত মিছিল করার কর্মসূচি নেওয়া হয়। মিছিল এগোতেই পুলিশের সঙ্গে এবিভিপি কর্মীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশ একাধিক এবিভিপি কর্মীকে আটক করে। তাঁদের বাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় বসে পড়েন। শুরু হয় স্লোগান। পরে পুলিশ তাঁদের ঘিরে ফেলে একে একে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। তবে, বিজেপি আন্দোলনের পাশে দাঁড়ালেও পড়ুয়াদের তরফে বার বার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। ছাত্রনেতা পীযূষ বলেন, কেউ তাঁদের দাবিকে সমর্থন করলে তাঁরা স্বাগত জানাবেন। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলকে তাঁরা সমর্থন করছেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘আমরা স্পষ্ট ভাবে কোনও নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করছি না। কেউ যদি আমাদের সমর্থনে বন্‌ধ ডাকে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। কিন্তু আমরা পড়ুয়ারা রাজনীতি বা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। আমাদের একটাই লক্ষ্য— আমাদের দাবি পূরণ করা।’

মঙ্গলবার দুপুরে আন্দোলনকারীদের মূল কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানেই পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, তাঁরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গেই সরাসরি কথা বলতে চান। ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি পদক্ষেপের ঘটনায় সরব হয়েছেন সোরেন সরকারের জোটসঙ্গী কংগ্রেসের দলনেতা রাহুল গান্ধীও। তিনি শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদরত পড়ুয়াদের উপর বলপ্রয়োগের নিন্দা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ছাত্রছাত্রীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। রাহুল বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের হিংসার আমরা নিন্দা করি।’ তাঁর দাবি, ঝাড়খণ্ড সরকারকে পড়ুয়াদের কথা শুনে দ্রুত তাঁদের সমস্যার সমাধান করতে হবে।

রাহুলের মন্তব্য ঘিরে অবশ্য বিজেপির পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস জেএমএম-নেতৃত্বাধীন হেমন্ত সোরেন সরকারের অংশ হওয়া সত্ত্বেও রাহুল দ্বিচারিতা করছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার প্রশ্ন, রাহুল যখন ঝাড়খণ্ডের শাসক জোটেরই অংশ, তখন তিনি কি আদৌ আন্দোলনরত পড়ুয়াদের কথা শুনতে পাচ্ছেন? বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ, অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোকে বিক্ষোভের সময় মারধর করা হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদ চত্বরেও এ নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাতের ছবি দেখা যায়। শাসক ‘এনডিএ’-র সাংসদেরা সংসদ লাইব্রেরি থেকে মকর দ্বার পর্যন্ত মিছিল করে ‘রাহুল গান্ধী জবাব দো’ এবং ‘রাহুল গান্ধী ভাগো মত’ স্লোগান দেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী সাংসদেরা পাল্টা বিক্ষোভ দেখান। দুই পক্ষ মুখোমুখি চলে এলে নিরাপত্তারক্ষীরা মাঝখানে মানববেষ্টনী তৈরি করেন।

এ আবহেই বিজেপির বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপি যুব মোর্চার সদস্যদের ট্রাকে করে ঝাড়খণ্ডে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকে বড়ো করে দেখাতে এবং তার চরিত্র বদলে দিতে ‘ভুয়ো ভিড়’ জড়ো করার চেষ্টা করছে বিজেপি। একটি ভিডিয়ো ক্লিপ প্রকাশ করে বেণুগোপাল দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে কয়েক জন যুবককে ট্রাকে করে ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনে পাঠানো হচ্ছে। বেণুগোপালের দাবি, ‘ঝাড়খণ্ডের যুবকদের নামে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা বন্ধ করুন।’ যদিও কংগ্রেসের এই অভিযোগের মধ্যেও পড়ুয়ারা নিজেদের রাজনৈতিক ভাবে নিরপেক্ষ রাখার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে, আন্দোলনকারীদের চাপে ইতিমধ্যেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঝাড়খণ্ড সরকার। রাজ্য সরকারের বক্তব্য, ‘১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষা’ এবং ২০২৩ ও ২০২৫ সালের ‘ব্যাকলগ’ পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রী সুদিব্য কুমার জানিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ সামনে আসার পর সরকার স্বতঃপ্রণোদিত ভাবেই ইডি তদন্তে সম্মতি দিয়েছে। তবে ‘জেএসএসসি-সিজিএল’ পরীক্ষা বাতিল করা যাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর যুক্তি, ওই পরীক্ষা আদালতের নজরদারিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সিআইডি তদন্তের তদারকির জন্য অবসরপ্রাপ্ত হাই কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে সরকার। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ‘জেপিএসসি’ এবং ‘জেএসএসসির স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ বা ‘এসওপি’-তেও সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য। এ ক্ষেত্রে আইআইটি-আইএসএম ধানবাদ, আইআইএম রাঁচী এবং এক্সএলআরআই জামশেদপুরের মতামত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ এখন তদন্তের আওতায় কেন্দ্রীয় সংস্থারও। নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অর্থপাচার-বিরোধী তদন্ত শুরু করেছে ইডি। অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ড সিআইডি গ্রেফতার করেছে জেপিএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান এল খিয়াংতেকে। এ মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০। সোরেন সরকারের দাবি, আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ সামনে আসার পরই ইডি তদন্তে সম্মতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, তদন্তের পাশাপাশি নিয়োগ পরীক্ষাগুলির ভবিষ্যৎ এবং বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত কোথায়?

দীর্ঘ অনশনে থাকা ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর শারীরিক অবস্থার অবনতি আন্দোলনকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে। রক্তে শর্করার মাত্রা ব্যাপক ভাবে কমে যাওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল এবং বিপদমুক্ত বলে জানানো হয়। সোমবার গভীর রাতে ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরফান আনসারি কোনও প্রোটোকল বা নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই রাঁচীর সদর হাসপাতালে পৌঁছে যান। সেখানে তিনি মাহাতো-সহ আন্দোলনের সময় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অন্যান্য পড়ুয়ার সঙ্গে দেখা করেন। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও হাসপাতালে মাহাতোর সঙ্গে ভিডিয়ো কলে কথা বলে তাঁর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। পড়ুয়াদের আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরীবালও। রাজ্য সরকারের কাছে অবিলম্বে সমস্যার সমাধানের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে হিংসা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

ফলে ২৫ জুলাই শুরু হওয়া নিয়োগ-আন্দোলন ১৮ দিনে এসে আর শুধু জেপিএসসি-জেএসএসসি পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগে আটকে নেই। পড়ুয়াদের অনশন, বিধানসভা অভিযান, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, শতাধিক পড়ুয়া আহত হওয়ার বিজেপির দাবি, পুলিশের ১৪ জন কর্মী আহত হওয়ার পাল্টা দাবি, বিজেপির রাজ্যব্যাপী বন্‌ধ, এবিভিপির বিধানসভা মার্চ এবং কংগ্রেস-বিজেপির রাজনৈতিক চাপানউতোর— সব মিলিয়ে ঝাড়খণ্ডের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!