- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১১, ২০২৬
কেন্দ্রের কঠোর সমালোচনা, ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন করার খেসারত ! ‘এসআইআর’-এ নাম বাদ অভিনেতা প্রকাশ রাজের ?
কর্ণাটকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা চলছেই। তার মধ্যেই তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ তুললেন জনপ্রিয় অভিনেতা প্রকাশ রাজ। তাঁর দাবি, বেঙ্গালুরুতে ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া প্রায় ৬৫ লক্ষ নামের মধ্যে তিনিও এক জন। রুপোলি পর্দায় তাঁর দাপুটে উপস্থিতি। রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা বিষয়ে সরব থাকার জন্যও পরিচিতি রয়েছে তাঁর। বিজেপি এবং কেন্দ্র সরকারের নীতির সমালোচনায় একাধিক বার মুখ খুলেছেন প্রকাশ রাজ। সম্প্রতি দিল্লির যন্ত্ররমন্তরে পড়ুয়াদের আন্দোলনে সশরীরে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সংসদ ভবন অভিযানের মতো কর্মসূচিতেও তাঁকে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছিল। ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ যাওয়ায় জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
কর্নাটকে ‘এসআইআর’-এর কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে প্রাথমিক তালিকা। প্রকাশিত তালিকায় নিজের নাম দেখতে পাননি বলে দাবি প্রকাশ রাজের। মঙ্গলবার ভিডিয়ো বার্তায় বিষয়টি সামনে আনেন ৬১ বছরের অভিনেতা। তাঁর দাবি, বেঙ্গালুরু কেন্দ্রের যে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে তিনিও রয়েছেন। ভিডিয়ো বার্তায় প্রকাশ রাজ বলেন, ‘আমি আপনাদের সঙ্গে একটা কৌতুক ভাগ করে নিতে চাই। আমি সেই ৬৫ লক্ষ ভোটারের এক জন, যাঁদের ভোটাধিকার এসআইআরের পরে বেঙ্গালুরু কেন্দ্র থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। কৌতুকটা ভালোই, তাই না?’ এরপরই নিজের সঙ্গে বেঙ্গালুরুর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন অভিনেতা। বলেন, ‘আমি এই বিধানসভা কেন্দ্রেই জন্মেছি। এখানেই থেকেছি। এখানে আমার স্কুল, কলেজ, থিয়েটারজীবন— সব কিছু। আর আপনাদের জানিয়ে রাখি, আমি এই কেন্দ্র থেকেই লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থীও হয়েছিলাম।’ প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন প্রকাশ রাজ। ফলে যে কেন্দ্রের সঙ্গে তাঁর জন্ম, পড়াশোনা, কর্মজীবন এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের সম্পর্ক রয়েছে, সেখানকার ভোটার তালিকাতেই তাঁর নাম না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা।
নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে অভিনেতার প্রতিক্রিয়াও যথেষ্ট তির্যক। ভোটার তালিকায় নাম ফেরাতে তাঁকে কী কী করতে হবে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলে প্রকাশ রাজ বলেন, ‘দেখি, আমার ভোটার আইডি ফিরে পেতে কী প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। কী কী কাগজ দেখাতে হবে?’ এর পরেই কেন্দ্রের শাসক দলের উদ্দেশে কটাক্ষ ছুড়ে দেন তিনি। বলেন, ‘আপনারা ক্ষমতা ব্যবহার করে হয়তো কিছু নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারেন, যাঁরা আপনাদের ভোট নাও দিতে পারেন। কিন্তু এভাবে আমাদের থামাতে পারবেন? আমাদের শক্তি দিয়েই একদিন আপনাদের ক্ষমতা সরিয়ে দেব।’ ভিডিয়োর শেষে প্রকাশ রাজের মন্তব্য, ‘কৌতুকটা ভালই। খেলা শুরু হোক।’ কর্নাটকে ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, এমন নামগুলিকে মূলত পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। অনুপস্থিত, অন্যত্র স্থানান্তরিত, মৃত, একাধিক বার নাম থাকা। এ ছাড়া অন্যান্য কারণে যাঁদের নাম সংশোধন বা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের রাখা হয়েছে ‘অন্যান্য’ শ্রেণিতে। বেঙ্গালুরুর ক্ষেত্রে এই তালিকা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেশি। নির্বাচন দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কর্নাটকের মোট ৫,৫৪,৩২,৩১৪ জন ভোটারের মধ্যে ১,০৯,৮৩,৯০১ জনকে ‘অযোগ্য’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট ভোটারের ১৯.৮১ শতাংশ। বেঙ্গালুরু আরবান জেলায় এই সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্য। প্রাক্-‘এসআইআর’ হিসাব অনুযায়ী, ৪০,২১,০৩৯ জন ভোটারের মধ্যে ১৭,৭৪,৬২৬ জনকে এ তালিকায় রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ৪৪.১৩ শতাংশ ভোটারের নাম এই শ্রেণির মধ্যে পড়েছে। দক্ষিণ অংশে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সেখানে ২১,৪৪,৭৮৪ জন ভোটারের মধ্যে ১০,৮৭,৮২৯ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শতাংশের হিসাবে যা ৫০.৭২।
প্রকাশ রাজের নাম ঠিক কোন কারণে তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন রিপোর্টে তাঁর নাম বেঙ্গালুরু সেন্ট্রালের শান্তিনগর কেন্দ্রের তালিকায় থাকার কথা বলা হয়েছে। সেখানে তাঁর ক্ষেত্রে ‘স্থায়ী ভাবে অন্যত্র সরে গিয়েছেন’— এমন কারণ উল্লেখ করা হয়েছে বলে খবর। যদিও অভিনেতার অভিযোগ বা ওই কারণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। প্রকাশ রাজের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার ঘটনা এমন সময়ে সামনে এল, যখন একাধিক ভোটার পরিচয়পত্র রাখার অভিযোগে অভিনেতার বিরুদ্ধে একটি মামলাও চলছে। অভিযোগকারী দাবি করেছিলেন, প্রকাশ রাজের কাছে কর্নাটক, তেলঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু— চার রাজ্যের ঠিকানায় চারটি ভোটার পরিচয়পত্র রয়েছে। একজন ব্যক্তির একাধিক ভোটার পরিচয়পত্র থাকা নির্বাচন কমিশনের নিয়মবিরুদ্ধ বলেই অভিযোগ। সে মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছিল। পরে গত ১০ জুলাই বেঙ্গালুরুর একটি আদালত তাঁকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেয়। সে মামলার সঙ্গে ‘এসআইআর’-এ তাঁর নাম বাদ যাওয়ার কোনও সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি।
কর্নাটকে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে চাপানউতোর অবশ্য থামেনি। বিরোধীদের অভিযোগ, বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার ফলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে, নির্বাচন দফতরের বক্তব্য, সংশোধনের উদ্দেশ্যই হলো তালিকায় মৃত, স্থানান্তরিত, অনুপস্থিত বা একাধিক বার থাকা ভোটারের তথ্য চিহ্নিত করা এবং তালিকাকে আরও নির্ভুল করা। কর্নাটকে ‘এসআইআর’-এর চূড়ান্ত গণনাপর্ব শেষ হবে ১৭ আগস্ট। ২৪ আগস্ট প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দাবি-আপত্তির নিষ্পত্তি চলবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা ২৭ অক্টোবর। ফলে প্রকাশ রাজের নাম শেষ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় ফেরে কি না, তা দেখার পাশাপাশি নজর থাকবে ‘এসআইআর’-এ বাদ যাওয়া বিপুল সংখ্যক নামের কতগুলি চূড়ান্ত তালিকায় ফিরে আসে, সে দিকেও। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক আকচাআকচির মধ্যেই সাধারণ ভোটারদের উদ্বেগও বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত কত নাম থাকে, কত নাম বাদ যায়— তারই উত্তর মিলবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর।
❤ Support Us








