- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১১, ২০২৬
৩ মাস পর বাড়ি ফিরেও বিক্ষোভের মুখে সাংসদ-বিধায়ক দম্পতি, মাঝরাতে সিতাই ছাড়লেন জগদীশ-সঙ্গীতা
প্রায় তিন মাস পর বাড়ি ফিরেছিলেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া এবং সিতাইয়ের বিধায়ক সঙ্গীতা রায়। কিন্তু বাড়িতে ঢোকার পরই তাঁদের ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত পুলিশি নিরাপত্তায় রাতেই বাড়ি ছাড়তে হয় সাংসদ-বিধায়ক দম্পতিকে। জগদীশের দাবি, এলাকায় কোনো রকম অশান্তি বা রাজনৈতিক উত্তেজনা চান না তিনি। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই রাতেই সিতাই ছেড়ে বেরিয়ে যান তাঁরা।
কোচবিহার জেলায় বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র একটি আসনে জয় পেয়েছে। সে আসনটি সিতাই। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে সিতাইয়ের বিধায়ক সঙ্গীতা রায়কে এলাকায় কার্যত দেখা যায়নি। অন্যদিকে, তাঁর স্বামী তথা কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়াও এত দিন দিল্লিতে ছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিধায়ক সঙ্গীতা রায় তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় স্বামী সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেননি।
জগদীশ বর্তমানে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়েছেন এবং এত দিন দিল্লিতেই ছিলেন। অন্যদিকে, পুত্রের চিকিৎসার জন্য সঙ্গীতা কলকাতায় ছিলেন বলে খবর। গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এক বারই প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁদের দেখা গিয়েছিল। তবে তার পরেও তাঁরা নিজেদের বাড়িতে ফেরেননি। সোমবার রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় সিতাই বাজার এলাকায় নিজেদের বাসভবনে ঢোকেন জগদীশ ও সঙ্গীতা। কিন্তু তাঁদের ফেরার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই বাড়ির সামনে জড়ো হতে শুরু করেন স্থানীয় কয়েক জন। শুরু হয় চিৎকার, স্লোগান এবং বিক্ষোভ। যদিও বিক্ষোভকারীদের হাতে কোনো রাজনৈতিক দলের পতাকা দেখা যায়নি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বসুনিয়াদের বাড়িতে পুলিশ পৌঁছয়। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভ থামেনি। বরং পুলিশ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাড়িতে না থাকার সিদ্ধান্ত নেন সাংসদ-বিধায়ক দম্পতি। জানা গিয়েছে, রাত ১২টা নাগাদ তাঁরা বাড়িতে ঢুকেছিলেন। প্রায় দু’ঘণ্টা পর, রাত ২টো নাগাদ পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। সিতাই থেকে তাঁরা কোচবিহারের দিকে রওনা দেন। কারা এই বিক্ষোভের পিছনে ছিলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে সঙ্গীতা রায় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে রয়েছেন। অন্ দিকে, জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পর এনডিএ-র শরিক হয়েছেন। ফলে তাঁদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভের ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।
বিক্ষোভের সঙ্গে বিজেপির কোনো যোগ রয়েছে কি না, সে প্রশ্নে বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, ‘কে কখন বাড়িতে ঢুকবেন আর কখন বার হবেন, আমার কাছে তো সেসব খবর থাকবে না। তবে আমাদের দলের কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এমন ক্ষোভ-বিক্ষোভ করা যাবে না। এখন সাধারণ মানুষ যদি এ সব করে, তাতে তো আমাদের কিছু করার নেই।’ মাঝরাতে বাড়ি ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া ফোনে বলেন, ‘আমার কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল বাড়িতে। সেগুলো নিতে গিয়েছিলাম। তা ছাড়া এলাকার পরিবেশ-পরিস্থিতি কেমন রয়েছে, তার খোঁজখবর নিতেও গিয়েছিলাম। কিন্তু রাতেই একদল মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল!’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি যদি বাড়িতে থাকতাম, তাহলে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হলেও হতে পারত। কিন্তু আমি চাই না, আমার থাকার জন্য এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হোক। গন্ডগোল-ঝামেলা চাই না। তাই রাতেই এলাকা থেকে চলে এসেছি।’
❤ Support Us







