- দে । শ ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- অক্টোবর ৩১, ২০২৬
বক্সার অরণ্যে ঘরে ঘরে গ্রন্থাগার, বই ঘিরে সামাজিক ঐক্যের নতুন পরিসর
শারদোৎসবের সময় কলকাতা সহ রাজ্যজুড়ে বামপন্থীদের বইয়ের স্টলে হামলা, ভাঙচুর ও হেনস্তার ঘটনা দেখেছে বাংলা। নিন্দার ঝড় তুলেছেন বইপ্রেমী মানুষেরা। ৩১শে অক্টোবর, শনিবার বইয়ের উপড় আক্রমণের প্রতিবাদে কলকাতায় ও বিভিন্ন জেলায় ‘বইয়ের জন্য হাঁটুন’ নামে বিশেষ নাগরিক মিছিলের ডাকও দেওয়া হয়েছে। সিপিআইএম, এসএফআই, সহ অনান্য সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই পৃথক পৃথক কর্মসূচি নিয়েছে। লক্ষ্য একটাই বইয়ের উপর হামলার বিরুদ্ধে আমজনমত তৈরি করা, মুক্তচিন্তার পরিবেশ রক্ষা করা। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি। এই যখন বঙ্গ নাগরিক সভ্যতার নন্দনভূমি কলকাতা ও অনান্য শহর-মফস্বলের অবস্থা, তখন রাজধানী থেকে বহু দূরে নিবিড় শান্ত অরণ্যের মাঝে, ঘরে ঘরে গ্রন্থাগার গড়ছেন জনজাতি তরুণেরা।
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের গভীর অরণ্যের মধ্যে ছোট্ট জনজাতি গ্রাম পানিঝোরায় বইকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠছে নতুন সমাজ। গ্রামের এক একটি বাড়ি হয়ে উঠছে এক একটি গ্রন্থাগার। কোথাও বাংলা সাহিত্যের বই, কোথাও গল্প-উপন্যাস, কোথাও আবার বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান কিংবা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির বই। সেখানে বই পড়ার জন্য কোনো সদস্যপদ লাগে না, লাগে না কোনো নির্দিষ্ট পরিচয়ও। যে কেউ, যে কোনো বই নিতে পারেন, পড়া শেষ হলে ফিরিয়ে দিয়ে নিয়ে যেতে পারেন অন্য বই। গ্রামের তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই এমন উদ্যোগের সূচনা। তাঁদের লক্ষ্য, শুধু গ্রামকে বইয়ের গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলা নয়, শিক্ষার আলোয় বদলে দেওয়া গোটা এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসর।
আলিপুরদুয়ারের প্রত্যন্ত এই জনপদে বাস করেন প্রায় ৩২০ জন মানুষ। পরিবার রয়েছে ৭০ থেকে ৭৩টি। ওরাওঁ, মুন্ডা, খাড়িয়া, রাভা, গারো, মেচ, ডুকপা-সহ একাধিক জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি রয়েছেন বাঙালি, বিহারি ও নেপালি ভাষাভাষীরাও। ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় আচার ও জীবনযাপনের ধরন আলাদা হলেও পানিঝোরার বাসিন্দাদের একসূত্রে বেঁধেছে বই। গ্রামের বাড়িগুলির বারান্দায় তৈরি হয়েছে ছোটো ছোটো বইয়ের তাক। প্রতিটি তাকেই রয়েছে ২৫ থেকে ৩০টি বই। কোনো বাড়ির নাম ‘প্রথম আলো’, কোনোটির ‘সঞ্চয়িতা’, আবার কোনো বাড়ির পরিচয় ‘মেঘমল্লার’। বাড়ির নামের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে বইয়ের নামও।
গ্রামের ২৫টি পরিবার ইতিমধ্যেই নিজেদের বাড়িতে এমন গ্রন্থাগার তৈরি করেছে। প্রতিটি বাড়ির বইয়ের সংগ্রহের বিষয়ও আলাদা। প্রমীলা টোপ্পোর বাড়িতে রয়েছে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার বই। কৃতা কেরকেট্টার বাড়িতে গল্পের বইয়ের সংগ্রহ। দীপিকা ওরাওঁয়ের বাড়িতে জায়গা পেয়েছে বাংলা কথাসাহিত্য। ছোটোদের জন্য রয়েছে কমিকস, গল্পের বই। আবার বড়োদের জন্য রয়েছে নানা বিষয়ভিত্তিক বই। গ্রামের স্কুলের পাশেই তৈরি হয়েছে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। তবে এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা মনে করছেন, এখনো অনেক বেশি বইয়ের প্রয়োজন । বিশেষত সরকারি চাকরি, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় বইয়ের অভাব রয়েছে।
পানিঝোরায় বইকে কেন্দ্র করে এই সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট। কাছের দামনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক পার্থ সাহার উদ্যোগে প্রথমে গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলির সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু হয়। তাঁর বক্তব্য, পিছিয়ে পড়া এলাকার মানুষের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দেওয়া ও তাঁদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়াই ছিল প্রাথমিক লক্ষ্য। একই সঙ্গে গ্রামের প্রত্যেক শিশুর স্কুলে যাওয়া নিশ্চিত করার চেষ্টা শুরু হয়। ধীরে ধীরে সেই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হন গ্রামের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা। তাঁরাই এখন বিভিন্ন সামাজিক কাজের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
পার্থ জানান, এ পরিবর্তন এক দিনের ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলা, তাঁদের সমস্যা বোঝা, একসঙ্গে কাজ করার মধ্য দিয়েই তৈরি হয়েছে এ উদ্যোগ। সবচেয়ে আশার কথা, এখন গ্রামের পড়ুয়ারাই নিজেদের উদ্যোগে পরিবর্তনের দায়িত্ব নিচ্ছে। পানিঝোরার এই অভিজ্ঞতা দেখে আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামেও একই ধরনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। কল্কুট, গারামবস্তি, মাঝেরডাবরি ও তামারচি-সহ বিভিন্ন গ্রামে বই সংগ্রহ করে গ্রন্থাগার তৈরির পরিকল্পনা চলছে। পানিঝোরাকে আরও সুসংগঠিত ভাবে ‘বইয়ের গ্রাম’ হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন এবং ‘আপনকথা’ নামে একটি সংস্থা। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের অধীনে ‘আলোকবর্তিকা’ প্রকল্পের মাধ্যমে ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার কথা। প্রকল্পের মূল ভাবনা, গ্রামের প্রতিটি বাড়ির সঙ্গে একটি করে ছোটো গ্রন্থাগার যুক্ত করা। অর্থাৎ, কোনো একটি নির্দিষ্ট ভবনের মধ্যে বইয়ের সংগ্রহ সীমাবদ্ধ থাকবে না। গোটা গ্রামটাই হয়ে উঠবে একটি উন্মুক্ত গ্রন্থাগার।
প্রকল্প অনুযায়ী, প্রতিটি বাড়িতে তৈরি করা হবে কাঠের ছোটো বইয়ের তাক। সেখানে থাকবে বিভিন্ন বিষয়ের বই। কল্পবিজ্ঞান, বিজ্ঞান, সমাজসচেতনতা, সাহিত্য — নানা ধরনের বইয়ের সংগ্রহ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রামের ১০ জন স্বেচ্ছাসেবক এই গ্রন্থাগারগুলির দেখভাল করবেন। কারা বই নিতে আগ্রহী, কোন বই ধার দেওয়া হচ্ছে এবং কখন তা ফেরত আসছে, সেই হিসাবও রাখা হবে তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে। গ্রামের প্রবেশপথে তৈরি হবে একটি কাঠের তোরণ। সেখানে থাকবে বইয়ের গ্রামের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা সম্পর্কে একটি ফলক। তোরণ পেরিয়ে গ্রামে ঢুকলেই পর্যটকদের চোখে পড়বে অজস্র গ্রন্থাগার। গ্রামের মাঝখানে একটি বড়ো গ্রন্থাগার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। আপাতত পানিঝোরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ঘরকে গ্রন্থাগার হিসেবে গড়ে তোলার কথা। সেখানে দুটি আলমারিতে রাখা হবে ৫০০-র বেশি বই। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি থাকবে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিভিন্ন রেফারেন্স বই। এই গ্রন্থাগারের দায়িত্বে থাকবেন স্থানীয় দু-জন স্বেচ্ছাসেবক। পরবর্তী সময়ে উপযুক্ত জমি পাওয়া গেলে আরও বড়ো আকারে গ্রন্থাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু বই পড়ার সুযোগ তৈরি করাই নয়, গ্রামের মানুষের সার্বিক বিকাশের কথাও ভাবা হয়েছে এই প্রকল্পে। মাসে এক দিন করে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ক্লাস এবং সাংস্কৃতিক চর্চার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রামের ৫০টি বাড়ির দেওয়ালে আঁকা হবে শিক্ষামূলক বার্তা আর মনীষীদের বাণী। উত্তরবঙ্গের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বক্সা, জয়ন্তী ও আলিপুরদুয়ারের ইতিহাস নিয়ে অন্তত ১০০টি বই সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, ডুয়ার্সে বেড়াতে আসা পর্যটকেরাও এই গ্রন্থাগার ব্যবহার করতে পারবেন। ‘আপনকথা’র সম্পাদক পার্থ সাহার বক্তব্য, পিছিয়ে পড়া এলাকায় বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার প্রসার ঘটানোই তাঁদের কাজের মূল উদ্দেশ্য। তাঁর কথায়, সামাজিক বঞ্চনা কাটিয়ে ওঠার অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে বই। পানিঝোরায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন পড়ুয়া রয়েছে। কিন্তু তাঁদের অনেকেরই নিজেদের পছন্দমতো বই কেনার আর্থিক সামর্থ্য নেই। ফলে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার তৈরি হলে পড়ুয়ারা বিশেষ ভাবে উপকৃত হবে।
এর আগে মহারাষ্ট্রের ভিলার এবং কেরলের পেরুকালামে এই ধরনের ‘বইয়ের গ্রাম’ গড়ে ওঠার নজির রয়েছে। সে অভিজ্ঞতা থেকেই পানিঝোরাকে কেন্দ্র করে ডুয়ার্সে এমন উদ্যোগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের আশা, আগামী দিনে এই গ্রাম পর্যটকদের কাছেও বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে প্রকল্পটির গুরুত্ব শুধু পর্যটনের প্রসারে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের কাছে বইয়ের গ্রাম মানে নিজেদের সন্তানদের জন্য নতুন ভবিষ্যতের দরজা খুলে দেওয়া। বক্সার অরণ্যঘেরা গ্রামগুলিতে জীবনযাপন বরাবরই কঠিন। পানিঝোরার বাসিন্দাদেরও তার ব্যতিক্রম নয়। দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন বহু পরিবার। আয় ছিল সামান্য। ফলে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর বদলে অনেক সময় সংসারের কাজে তাদেরও যুক্ত হতে হতো।
পানিঝোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রণজিৎ বর্মনের বক্তব্য, দারিদ্রই ছিল শিশুদের স্কুলে না যাওয়ার অন্যতম কারণ। তিনি জানান, এখনো গ্রামের মানুষের জীবিকার সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি। অনেক পরিবারকে চাষের জন্য জমি দেওয়া হলেও হাতির পাল এসে ধানের ফসল নষ্ট করে দেয়। অন্যদিকে, জঙ্গলে প্রবেশের উপরেও বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে বিকল্প আয়ের সন্ধান করা ছাড়া উপায় নেই। এ পরিস্থিতিতে মাশরুম, গোলমরিচ, কমলালেবুর মতো ফসলের চাষ শুরু হয়েছে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহযোগিতায় জৈব সার ব্যবহার করে বিকল্প কৃষিকাজের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, এর ফলে ধীরে ধীরে জীবিকার নতুন পথ খুলবে।
শিক্ষার ছবিতেও বদল এসেছে। এক সময়ে যে গ্রামে শিশুদের স্কুলে পাঠানোই ছিল অন্যতম চ্যালেঞ্জ, সেখানে এখন আর স্কুলছুটের সংখ্যা নেই বলে দাবি স্থানীয় শিক্ষকদের। কাছের একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জানান, গত কয়েক বছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় গ্রামের পড়ুয়াদের সাফল্য উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। পানিঝোরার নিজস্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও নিয়মিত চলছে। ছয় কিলোমিটার দূরে দামনপুরের উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়ায় সেখানেও নতুন করে প্রাণ ফিরেছে। পানিঝোরার পরিবর্তনের আরও এক অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক, গ্রামের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সামাজিক সংযোগ তৈরি হওয়া। গ্রামের তরুণেরা নিজেদের উদ্যোগে একটি স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি করেছেন। প্রবীণদের স্বাক্ষর করতে শেখানো থেকে শুরু করে বিপদে পড়া পরিবারের পাশে দাঁড়ানো — নানা কাজে যুক্ত এই দলের সদস্যেরা। তাঁদের উদ্যোগে গ্রামের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের কাছাকাছি এসেছেন।
গ্রামের মেয়েদের নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি লোকগান ও নাচের দল। গড়ে উঠেছে ফুটবল অ্যাকাডেমিও। পাশাপাশি গ্রামের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নিজেদের উদ্যোগে কিছু নিয়ম তৈরি করেছেন বাসিন্দারা। প্লাস্টিক ব্যবহার না করা, যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলা, নেশা থেকে দূরে থাকার মতো বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত বাসিন্দারাও। তাঁদের মতে, বইয়ের গ্রন্থাগার তৈরি হলে শুধু পড়ুয়ারাই নন, গ্রামের সমস্ত মানুষ উপকৃত হবেন। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে তার চেয়েও বড় কথা, এত দিন যে গ্রামকে মূলত দারিদ্র, জীবিকার সঙ্কট আর শিক্ষার অভাবের সঙ্গে চিহ্নিত করা হতো, সেই গ্রামের পরিচয় বদলাতে পারে বই।
পানিঝোরার ‘বই গ্রাম’-এর উদ্যোগে ইতিমধ্যেই সাড়া দিয়েছেন বাইরের কয়েক জন মানুষ। কেউ দিয়েছেন পুরনো বই, কেউ বা বই রাখার তাক। কিন্তু গ্রামের তরুণদের মতে, প্রয়োজনের তুলনায় সে সাহায্য এখনো সামান্য। বিশেষ করে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নতুন সংস্করণের বই, সাধারণ জ্ঞানের বই ও বিভিন্ন বিষয়ের সাম্প্রতিক তথ্যসমৃদ্ধ বইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। বাড়িতে বাড়িতে গ্রন্থাগার তৈরি হলেও সেগুলিকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। ছোটোদের জন্য গল্প ও কমিকসের পাশাপাশি বড়দের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বই প্রয়োজন। মাঝেমধ্যে গ্রামের পড়ুয়াদের জন্য স্পোকেন ইংলিশ এবং সাধারণ জ্ঞানের ক্লাসেরও আয়োজন করা হয়। বাইরের বিভিন্ন শিক্ষক এসে বিনা পারিশ্রমিকে পড়ান। কিন্তু নিয়মিত পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করতে হলে আরও বেশি বই দরকার।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যখন বইয়ের দোকানে হামলা, বই নষ্ট করা কিংবা মনীষীদের প্রতিকৃতি ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন বক্সার অরণ্যের এই ছোট্ট গ্রামে বইকে ঘিরেই তৈরি হচ্ছে সামাজিক ঐক্যের নতুন পরিসর। পানিঝোরার তরুণদের কাছে বই কেবল পড়ার উপকরণ নয়, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া, শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা এবং ভিন্ন ভাষা-সংস্কৃতির মানুষকে এক ছাতার নীচে নিয়ে আসার মাধ্যম। যে রাজ্যে বইয়ের অস্তিত্ব ও স্বাধীন চিন্তার পরিসর নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, সেই রাজ্যেই অরণ্যের ভিতরে বই হাতে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখছে একদল তরুণ। তাঁদের বিশ্বাস, একটি বই যেমন একজন মানুষের জীবন বদলাতে পারে, তেমনি অনেকগুলো বই মিলে বদলে দিতে পারে একটি গোটা গ্রামের ভবিষ্যৎ।
❤ Support Us





