- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৩১, ২০২৬
পাক গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ, হাসিমারা থেকে গ্রেফতার সেনা জওয়ান
পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের (ISI) কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে হাসিমারা থেকে গ্রেপ্তার হলেন এক সেনা জওয়ান। ধৃতের নাম জবীর সিং। তিনি পাঞ্জাবের বাসিন্দা। পাঞ্জাব পুলিশের স্পেশাল অপারেশন সেল তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে পাঞ্জাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় নিরাপত্তা মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, জবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে সহযোগীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সেনা ছাউনি সংক্রান্ত গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ফাজিলকার স্টেট স্পেশাল অপারেশন সেলে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেফতারের পর শুক্রবার তাঁকে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। আদালত অভিযুক্তকে দু’দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে পাঞ্জাবে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, অভিযুক্ত জওয়ান ঠিক কী ধরনের সামরিক ও সংবেদনশীল তথ্য পাচার করেছেন, কতদিন ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছেন। পাশাপাশি, দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোপন তথ্য পাচারের নেপথ্যে তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল, তাও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার নাম করে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে এক চিনা নাগরিককেও গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। ধৃতের নাম ইউহাস লিউ। জানা গিয়েছে, চলতি মাসেই চিন থেকে নেপালে আসেন তিনি। সেখানে তাঁর পরিচয় হয় নেপালি গাইড দীনেশ পুরির সঙ্গে।
শুক্রবার ভোররাতে নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে দু’জনকে ভারতের দিকে আসতে দেখা যায়। তাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় টহলরত সশস্ত্র সীমা বলের (SSB) জওয়ান ও আধিকারিকরা তাঁদের আটক করেন। এরপর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে যৌথভাবে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ।
প্রাথমিক জেরায় দীনেশ পুরি নিজেকে নেপালের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। ইউহাস লিউ-ও নিজেকে নেপালি নাগরিক বলে দাবি করেন। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের সময় লিউ ভাঙা ইংরেজি ছাড়া নেপালি বা হিন্দি ভাষায় কথা বলতে পারেননি। তাতেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় গোয়েন্দাদের। পরে দোভাষীর সাহায্যে তাঁকে জেরা করতেই সামনে আসে আসল পরিচয়। জানা যায়, তিনি আদতে চিনের নাগরিক।
এরপরই ইউহাস লিউ ও তাঁর সঙ্গী দীনেশ পুরিকে আটক করেন গোয়েন্দারা। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার অজুহাতে ভারতে প্রবেশের পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একদিকে আইএসআইয়ের কাছে সেনাবাহিনীর গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে ভারতীয় সেনা জওয়ানের গ্রেপ্তারি, অন্যদিকে নেপাল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় চিনা নাগরিকের আটক— পরপর এই দুই ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা ও দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
❤ Support Us






