- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৩০, ২০২৬
পশ্চিম এশিয়া সঙ্কটকে ব্যবহার করে অশান্তির চেষ্টা ! বিরোধীদের নিশানা প্রধানমন্ত্রী মোদির
পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, ইজ়রায়েল ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে গোটা বিশ্বে। জ্বালানি ও সারের জোগান নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশে অশান্তি ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বিরোধীরা, এমনই অভিযোগ তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার গুজরাতের বনাসকাঁঠায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধী দলগুলিকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব যাতে ভারতের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, জ্বালানি সরবরাহ এবং কৃষিক্ষেত্রে না পড়ে, তার জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধি পেলেও দেশের বাজারে তার প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ মোদির। তাঁর দাবি, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে জ্বালানি ও সারের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে গোটা বিশ্ব যখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, তখন বিরোধী দলগুলির একাংশ ভুয়ো খবর ছড়িয়ে দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে। মোদির কথায়, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য যখন প্রত্যেক নাগরিক কাজ করছেন, তখন কিছু মানুষ দেশের কঠিন পরিস্থিতি দেখতে চান। দেশ বিপদের মুখে পড়লে তাঁরা আনন্দ পান বলেও বিরোধীদের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিনের সভা থেকে কৃষকদের আশ্বস্ত করার বার্তাও দেন মোদি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বেড়ে যাওয়ার চাপ যাতে ভারতীয় কৃষকদের উপর না পড়ে, তার জন্য সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে। তাঁর দাবি, পশ্চিম এশিয়ার সংকটের প্রভাব থেকে দেশের কৃষকদের সুরক্ষিত রাখতে প্রায় ১৬ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কৃষক এবং দেশের বাকি সমস্ত মানুষকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই, আমি আপনাদের পাশে আছি। পশ্চিম এশিয়ার সংকট এখনও কাটেনি। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বাড়লেও সেই বোঝা দেশের কৃষকদের উপর পড়তে দেয়নি সরকার।” বিরোধীদের আক্রমণ করে মোদি আরও বলেন, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের সময়েও ভারত ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে। অথচ বিরোধীদের একাংশ দেশের স্বার্থের কথা না ভেবে ভুয়ো তথ্য প্রচারে ব্যস্ত। কৃষকদের সারের জোগান নিয়ে ভুল বোঝানো এবং দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ছোট করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনীর ইরানে হামলার পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমশ বেড়েছে। সংঘাতের প্রভাব ওই অঞ্চলের একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বার বার বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, ইরানগামী জাহাজগুলির উপর অবরোধ জারি করেছে আমেরিকাও বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাতের প্রভাব ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পড়তে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে দেশের কৃষক, সাধারণ মানুষ এবং অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক সংকটের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে তাঁর সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
❤ Support Us





