Advertisement
  • এই মুহূর্তে
  • অক্টোবর ৩০, ২০২৬

ভুটানে হিমবাহের হ্রদ ভেঙে হড়পা বান, বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা ! উত্তরবঙ্গ-অসমে বন্যার আশঙ্কা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভুটানে হিমবাহের হ্রদ ভেঙে হড়পা বান, বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা ! উত্তরবঙ্গ-অসমে বন্যার আশঙ্কা

ভুটানে হিমবাহের গলিত জলে তৈরি একটি হ্রদ থেকে আচমকা বিপুল পরিমাণ জল বেরিয়ে আসায় সৃষ্টি হয়েছে হড়পা বান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তর-পশ্চিম ভুটানের গাসা জেলার শিন্টাফু হ্রদ থেকে এই বিপুল জলরাশি নেমে আসে। এর জেরে ভুটানের একাধিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি, ভুটান থেকে প্রবাহিত নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কায় উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি অসমের কিছু অংশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে সঙ্কোশ নদীর জলস্তর উল্লেখযোগ্য ভাবে না বাড়ায় আপাতত স্বস্তিতে আলিপুরদুয়ারের ভুটান লাগোয়া এলাকার মানুষ।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হড়পা বানের প্রবল স্রোতে গাসা শাচু উষ্ণ প্রস্রবণ সংলগ্ন বিভিন্ন পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মো ছু নদীতেও দ্রুত জল বেড়ে যায়। পুনাখা এলাকায় একটি জলসেচ প্রকল্পের কিছু অংশের ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। একই সঙ্গে জলের তোড়ে পুনাখা থেকে গাসা যাওয়ার রাস্তার একটি অংশ ভেসে গিয়েছে। তবে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ভুটানে মোট কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।

উল্লেখ্য, শিন্টাফু হ্রদটি ভুটানের বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত ১৭টি হিমবাহসৃষ্ট হ্রদের অন্যতম। এর আগেও এই হ্রদ থেকে বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালের ২৬ অগস্ট হ্রদের জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় মো ছু নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান নেমেছিল। সেই সময় নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে এবং গাসা শাচু উষ্ণ প্রস্রবণ সম্পূর্ণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সাম্প্রতিক ঘটনার ফলে ফের ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে, ভুটানে বিপর্যয়ের খবর আসার পরেই উত্তরবঙ্গের নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রশাসন। বিশেষ করে সঙ্কোশ নদীর জল বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম ব্লকের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের জন্য বিভিন্ন ত্রাণশিবিরের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। আতঙ্কিত বেশ কয়েকজন বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের পরিবর্তে জাতীয় সড়কের উপর রাত কাটান।

কিন্তু শুক্রবার সকালে সঙ্কোশ নদীর জলস্তরে বড় কোনও পরিবর্তন দেখা যায়নি। নদীর পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক অনেকটাই কমেছে। ফলে ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নেওয়া বহু মানুষ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যেই কয়েকজন নিজেদের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক এবং রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের তরফে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিকে আগাম সতর্ক করা হয়। এরপর থেকেই নদীগুলির জলস্তরের গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নদী সংলগ্ন জনবসতিগুলিতে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়।

জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ এবং সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে কোনও ধরনের আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকও জানিয়েছেন, বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ভুটানে হড়পা বানের কারণে ক্ষয়ক্ষতি হলেও সঙ্কোশ নদীর জলস্তর আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকায় আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম ব্লকে বড়সড় বন্যার আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে। তবুও ভুটানের পরিস্থিতি এবং সীমান্তবর্তী নদীগুলির জলস্তরের উপর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!