- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১১, ২০২৬
দুর্গাপুজোয় এ বার বাছাই করে অনুদান ? মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রাজ্যের বহু পুজোকমিটি
ক্যালেন্ডারের হিসাবে বেশ খানিকটা দেরি থাকলেও, রাজ্যজুড়ে ধীরে ধীরে শুরু হয়ে গিয়েছে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি। কোথাও খুঁটি পুজো সেরে ফেলেছেন উদ্যোক্তারা, কোথাও মণ্ডপের নকশা চূড়ান্ত। কিন্তু এ বারের পুজোয় রাজ্য সরকারের আর্থিক অনুদান মিলবে কি না, মিললেও কারা পাবেন, তা নিয়েই এখনও ধোঁয়াশা। তার মধ্যেই কলকাতা-সহ রাজ্যের সমস্ত দুর্গাপুজো কমিটিকে সরকারের তরফে ‘সব রকম সম্ভব সহযোগিতা’ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানাল দুর্গোৎসবের আয়োজকদের শীর্ষ সংগঠন ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’।
সম্প্রতি, রাজ্য সচিবালয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন ফোরামের দুই প্রতিনিধি। সেখানেই দুর্গাপুজোর আয়োজন নিয়ে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছে বলে জানিয়েছেন ফোরামের প্রবীণ সদস্য পার্থ ঘোষ। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বলেছেন, ‘দুর্গাপুজো হবে। সরকার সব রকম সম্ভব সহযোগিতা করবে।’ তবে সে ‘সহযোগিতা’র মধ্যে আর্থিক অনুদান ঠিক কী ভাবে থাকবে, কতটা থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুজো কমিটিগুলির মধ্যে জল্পনা, ১০ লক্ষ টাকার কম বাজেটের পুজোগুলিকেই হয়তো এ বার সরকারি অনুদানের আওতায় আনা হবে। কিন্তু এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো সরকার ঘোষণা করেনি। ‘শিবমন্দির সর্বজনীন দুর্গাপুজো’-র মুখপাত্র পার্থ ঘোষ বলেছেন, ‘রাজ্য সরকারের তরফে এখনো তো কিছু ঘোষণা করা হয়নি। আমরা সরকারি নীতির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। তবে বড়ো বাজেটের এবং পরিচিত বহু পুজোর মতো আমরাও প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি। খুঁটি পুজোও হয়ে যাচ্ছে।’
তবে সরকারি সূত্রের খবর, আগের সরকারের মতো এ বার রাজ্যের সমস্ত দুর্গাপুজো কমিটিকে ঢালাও আর্থিক অনুদান দেওয়ার পথে হাঁটতে চাইছে না নতুন বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সে ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাজ্য সরকারের এক আধিকারিক। পরিবর্তে যে সব পুজো কমিটির সত্যিই আর্থিক সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে বেছে বেছে অনুদান দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ, সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রে এ বার ‘সর্বজনীন’ নীতি বদলে ‘প্রয়োজনভিত্তিক’ নীতি নেওয়া হতে পারে। তবে সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। রাজ্য অর্থ দফতরের সঙ্গে আলোচনার পরেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত নীতি নির্ধারিত হবে বলে নবান্ন সূত্রের খবর।
গত বছর পর্যন্ত অবশ্য ছবিটা ছিল অন্য রকম। তৃণমূল পরিচালিত পূর্ববর্তী সরকার রাজ্যের প্রতিটি অনুমোদিত দুর্গাপুজো কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছিল। ২০১৮ সালে প্রথম এই সরকারি অনুদান চালু হয়েছিল। তার পর কোভিড অতিমারির সময় লকডাউন ও আর্থিক সঙ্কটে পড়া পুজো কমিটিগুলির কথা মাথায় রেখে অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়। পরবর্তী বছরগুলিতে ধাপে ধাপে সে অর্থ বাড়তে বাড়তে ২০২৫ সালে কমিটি-পিছু ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছয়। এবার সে অনুদান ব্যবস্থাতেই বদলের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ছোটো ছোটো পুজো কমিটিগুলি। অনেক কমিটিই সরকারি সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে বাজেট চূড়ান্ত করতে পারছে না। কোথাও খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, কোথাও পরিকল্পিত থিম ছোটো করে আনার কথা ভাবা হচ্ছে। এমনকি কয়েকটি ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই থিমশিল্পী বদলানোর পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে বলে উদ্যোক্তাদের একাংশের দাবি।
বেহালার একটি পুজো কমিটির এক সদস্যের জানিয়েছেন, তাঁদের পুজোর মোট বাজেটই ৫ লক্ষ টাকার কম। সরকারি অনুদান পাওয়া গেলে পুজোর আয়োজন আরও একটু বড়ো করে করা সম্ভব হবে। তাঁর মতে, ছোটো পুজোর ক্ষেত্রে ওই অর্থের গুরুত্ব অনেকটাই বেশি। মণ্ডপ, প্রতিমা, আলোকসজ্জা থেকে শুরু করে নিরাপত্তা— সব ক্ষেত্রেই খরচ সামলাতে ওই সাহায্য কাজে আসে। তবে, শুধু আর্থিক অনুদান নয়, দুর্গাপুজো ঘিরে আরও একাধিক বিষয় নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে ফোরামের প্রতিনিধিদের। কলকাতার বড়ো রাস্তা কিংবা সরু গলিতে পুজো করার অনুমতি, বিদ্যুৎ বিলে ছাড়, হোর্ডিং ও ব্যানারের উপর কর কমানো এবং পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক সাহায্য— বৈঠকে একাধিক বিষয় উঠে এসেছে।
ফোরামের আশা, সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে আলোচনা করে চলতি মাসের শেষ দিকে একটি বৈঠকে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হবে। সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, ‘বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়গুলিতে রাজ্য সরকার চলতি মাসের শেষ সরকার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে বলে আমরা আশা করছি।’ এ বার অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে পুজো হওয়ার কথা। ফলে দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি একদিকে যেমন জোরকদমে চলছে, অন্যদিকে তেমনই সরকারি অনুদান নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী নীতি নেওয়া হয় সে দিকেও তাকিয়ে বহু পুজোকমিটি।
❤ Support Us








