- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১১, ২০২৬
‘ভারতের অবিচ্ছেদ্য, অবিচ্ছিন্ন অংশ’: অরুণাচল নিয়ে চিনকে কড়া বার্তা দিল্লির
অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে নতুন করে ভারত-চিনের টানাপড়েন। অরুণাচলের বিভিন্ন জায়গার নাম বদলে চিনা নাম দেওয়ার বেজিংয়ের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মধ্যেই এবার চিনকে কড়া বার্তা দিল দিল্লি। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের ‘অবিচ্ছেদ্য, অবিচ্ছিন্ন অংশ’। কোনো কিছুই ভারতের এই অখণ্ড বাস্তবতাকে বদলাতে পারবে না।
ঘটনার সূত্রপাত অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি জায়গাকে সরকারি ভাবে চিহ্নিত করা নিয়ে। গত শুক্রবার ‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’-র সরকারি মানচিত্রে ওই ২৭টি জায়গা ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে তাদের প্রচলিত ভারতীয় নামেই আনুষ্ঠানিক ভাবে চিহ্নিত করা হয়। দিল্লির বক্তব্য, জায়গাগুলির সঠিক ভৌগোলিক পরিচয় নিশ্চিত করা এবং সেগুলির ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানোই এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য। কিন্তু ভারতের সে পদক্ষেপে তীব্র আপত্তি জানায় চিন। অরুণাচলকে ‘জাংনান’ বলে উল্লেখ করে বেজিং ফের দাবি করে, ওই অঞ্চল চিনের ভূখণ্ড। ভারতের মানচিত্রে জায়গাগুলিকে প্রচলিত নামে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্তকে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন ‘অবৈধ, বাতিল ও অকার্যকর’ বলে অভিহিত করেন। বেজিংয়ের দাবি, ভারতের এ উদ্যোগ তাদের ভূখণ্ডগত অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না।
চিনের এ আপত্তির জবাবেই মঙ্গলবার দিল্লির অবস্থান ফের স্পষ্ট করে দেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।তাঁর বক্তব্য, ক্নো এলাকার নাম বদলে দেওয়া বা নতুন নাম দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা সার্বভৌমত্বের বাস্তবতা বদলে যায় না। অরুণাচল নিয়ে চিনের দাবিকে ভারত আগেও একাধিক বার প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়া নামকরণের উদ্যোগকে ‘কাল্পনিক’ এবং ‘অর্থহীন’ বলে অভিহিত করেছে। অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন জায়গার নাম বদলে দেওয়ার চেষ্টা চিনের নতুন নয়। ২০১৭ সালে প্রথম বার অরুণাচলের ৬টি জায়গার চিনা নাম প্রকাশ করেছিল বেজিং। তার পর ২০২১ সালে আরও ১৫টি এবং ২০২৩ সালে ১১টি জায়গার নতুন নাম প্রকাশ করা হয়। চলতি বছরেও অরুণাচলের বিভিন্ন এলাকার জন্য নতুন নাম প্রকাশ করেছে চিন।
ভারত প্রতিবারই সেই পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে। দিল্লির স্পষ্ট বক্তব্য, একতরফা ভাবে কোনো এলাকার নাম বদলে দিয়ে ‘ভিত্তিহীন আখ্যান’ তৈরি করা যেতে পারে, কিন্তু তাতে বাস্তব পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না। ভারতের দাবি, অরুণাচল প্রদেশ ‘ছিল, আছে এবং থাকবে’ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সম্প্রতি ‘সার্ভে অফ ইন্ডিয়া’-র মানচিত্রে যে ২৭টি জায়গাকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার বেশ কয়েকটির কৌশলগত এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। তালিকায় রয়েছে লংজু। ১৯৫৯ সালে ভারত-চিন উত্তেজনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল এ এলাকা। রয়েছে থাগ লা-ও, ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ের সংঘর্ষের সঙ্গে যার যোগ রয়েছে।
এ ছাড়াও তালিকায় রয়েছে পূর্ব অরুণাচল প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও রসদকেন্দ্র জাইরামপুর। রয়েছে জসওয়ন্ত গড় এবং শের-এ-থাপা মেমোরিয়ালও। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে ভারতীয় সেনাদের বীরত্বের স্মরণে স্মারকগুলি তৈরি করা হয়েছিল। সরকারি তালিকায় আরও রয়েছে সম্ভো সরোবর, বড়ো কুন্দুন, ছোটো কুন্দুন, ধানবাড়ি, প্রীতনগর, তেরিতনগর, রামনগর, সাগর, পদ্মা, জ্যোতিনগর এবং বৈশাখী। কেন্দ্র সরকারের দাবি, এ উদ্যোগের সঙ্গে ভারতের সীমানা নতুন করে নির্ধারণের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং সরকারি মানচিত্রে জায়গাগুলির সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।
অরুণাচল নিয়ে দু–দেশের মধ্যে নতুন করে বাকযুদ্ধ শুরু হলেও সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার উপরেই জোর দিয়েছে দিল্লি। কেন্দ্রের বক্তব্য, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর শান্তি বজায় না থাকলে ভারত-চিনের সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও তার প্রভাব পড়বে। জয়সওয়ালও এদিন জানান, সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়কে ভারত ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ দিয়ে দেখে। সীমান্তের পরিস্থিতির সঙ্গে দু-দেশের বৃহত্তর সম্পর্কের সরাসরি যোগ রয়েছে বলেও বেজিংকে বার বার জানিয়েছে মোদি সরকার। গত ৬ আগস্ট দিল্লিতে ‘ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয় ব্যবস্থা’-র ৩৬তম বৈঠকেও এ অবস্থান জানানো হয়। ওই বৈঠকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দুই দেশ। সীমান্ত নির্ধারণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং সীমান্ত পেরিয়ে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। সীমান্ত-সমস্যাগুলির সমাধান এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভুল বোঝাবুঝি বা ভুল হিসাব-নিকাশ এড়াতে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও দুই দেশ সম্মত হয়েছে।
❤ Support Us







