Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ১২, ২০২৬

বাদল অধিবেশনে লোকসভার কাজ মাত্র ১৫ ঘণ্টা । ৩৬ মিনিটে সাত বিল পাস, হয়নি প্রশ্নোত্তর পর্ব

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বাদল অধিবেশনে লোকসভার কাজ মাত্র ১৫ ঘণ্টা । ৩৬ মিনিটে সাত বিল পাস, হয়নি প্রশ্নোত্তর পর্ব

চলতি বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভে বার বার অচল হয়েছে সংসদের কাজ। দিল্লির যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়েও নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। তবে অধিবেশনে সময় নষ্ট হওয়ার অভিযোগ থাকলেও, এখনও পর্যন্ত ১৯টি বিল পাস করিয়ে ফেলেছে এনডিএ সরকার। এর মধ্যে নজির তৈরি হয়েছে মাত্র ৩৬ মিনিটে সাতটি বিল পাস করানোর ঘটনায়। বিরোধীদের অভিযোগ, একের পর এক বিল পাস হলেও সেগুলি নিয়ে যথাযথ আলোচনা বা বিতর্কের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

সাতটি বিল পাস করতে গড়ে সময় লেগেছে মাত্র পাঁচ মিনিট। কয়েকটি বিলের ক্ষেত্রে সাংসদেরা সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ায় সেগুলি পাস করতে তুলনামূলক বেশি সময় লেগেছে। তবে এই দ্রুততার সঙ্গে বিল পাস করানোর পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।

সংসদের কার্যকরী সময়ের হিসাবও সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। সাধারণভাবে প্রতিদিন ছ’ঘণ্টা করে অধিবেশন চললে ১৫ দিনে মোট ৯০ ঘণ্টা সংসদীয় কাজ হওয়ার কথা। কিন্তু চলতি বাদল অধিবেশনে এখনও পর্যন্ত লোকসভা বসেছে মাত্র ১৫ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কার্যকরী কাজের সময় অনেকটাই কমেছে। রাজ্যসভায় অবশ্য কাজ হয়েছে ২৪ ঘণ্টা ২১ মিনিট। সেখানে প্রতিটি বিল পাস করাতে গড়ে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে।

লোকসভায় বিরোধী সাংসদেরা একাধিক বার স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। রাজ্যসভাতেও বিরোধীরা বার বার কক্ষত্যাগ করেছে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার একের পর এক বিল পাস করিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হল পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল। এই বিল নিয়ে লোকসভায় প্রায় ১১ ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। রাজ্যসভায় আলোচনার সময় ছিল সাত ঘণ্টা ১৪ মিনিট।

তবে চলতি অধিবেশনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলির একটি হল—এক দিনও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়নি। শুধু এই অধিবেশনেই নয়, অষ্টাদশ লোকসভার একাধিক অধিবেশনেই বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে প্রশ্নোত্তর পর্বের সময় কমেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের বাদল অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বের তিন শতাংশ সময় নষ্ট হয়েছিল। একই বছরের শীতকালীন অধিবেশনে সেই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬ শতাংশে। ২০২৫ সালের বাদল অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বের ৭৭ শতাংশ সময় নষ্ট হয়। আর চলতি বাদল অধিবেশনে এখনও পর্যন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিতই করা সম্ভব হয়নি।

এর ফলে সাংসদেরা সরকারের কাছে সরাসরি প্রশ্ন তুলে জবাব পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রশ্নোত্তর পর্বের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।

অর্থাৎ, একদিকে বিরোধীদের বিক্ষোভে সংসদের স্বাভাবিক কাজ বার বার ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে সেই পরিস্থিতির মধ্যেই দ্রুত গতিতে একাধিক বিল পাস হয়েছে। ফলে চলতি বাদল অধিবেশনে সংসদের কার্যকরী সময়, বিল পাসের পদ্ধতি এবং প্রশ্নোত্তর পর্বের অনুপস্থিতি—তিনটি বিষয় নিয়েই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!