Advertisement
  • বি। দে । শ
  • আগস্ট ১২, ২০২৬

আমেরিকা-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার আগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সতর্কবার্তা কিম জং উনের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আমেরিকা-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার আগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সতর্কবার্তা কিম জং উনের

আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক  মহড়া শুরুর আগেই ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া। এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে পিয়ংইয়ং। বুধবার ভোরে উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের ওনসান এলাকা থেকে জাপান সাগরের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা নাগাদ ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। পরে সেটি সমুদ্রে গিয়ে পড়ে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্তাদের দাবি, উত্তর কোরিয়ার এই উৎক্ষেপণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার আগে পিয়ংইয়ংয়ের এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নতুন নয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আসন্ন সামরিক মহড়ার আগে ওয়াশিংটন ও সিওলকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা এবং প্রস্তুতির বিষয়ে কড়া বার্তা দিতেই ফের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করলেন উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন।

সিওল ও ওয়াশিংটন নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করার লক্ষ্যে আগামী ১৭ আগস্ট থেকে বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ শুরু করার ঘোষণা করেছে। তার মাত্র দু’দিনের মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অতীতে এই ধরনের মহড়ার আগে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্ক করেছে পিয়ংইয়ং।

এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমীকরণেও সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটিয়েছে উত্তর কোরিয়া। কিম জং উন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে চিনের সঙ্গেও সম্পর্ক মজবুত করার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে পিয়ংইয়ং। গত জুনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাত বছর পর প্রথমবার উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং সফর করেন। এই সফরকে উত্তর কোরিয়া-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একাধিক প্রস্তাবে পিয়ংইয়ংয়ের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি ক্রমাগত সম্প্রসারণ করে চলেছে।

সম্প্রতি নিজেদের পরমাণু নীতিতেও বড় পরিবর্তন এনেছে উত্তর কোরিয়া। গত মে মাসে দেশটির পরমাণু নীতিতে এমন কিছু পরিবর্তনের কথা সামনে আসে, যার মাধ্যমে বিদেশি কোনও রাষ্ট্রের হামলায় কিম জং উনের মৃত্যু হলে পাল্টা পরমাণু হামলার পথ খোলা রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের এই অবস্থানের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে, শত্রু রাষ্ট্রগুলিকে আগাম সতর্ক করা এবং উত্তর কোরিয়ার শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখা।

ফলে একদিকে রাশিয়া ও চিনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং অন্যদিকে আমেরিকা-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার আগে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা— দুই দিক থেকেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে কিম জং উনের সরকার। বুধবারের উৎক্ষেপণও সে কৌশলেরই অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে অশান্ত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির মধ্যেই আমেরিকাকে ফের সামরিক শক্তির বার্তা দিল পিয়ংইয়ং।

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!