- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ১৪, ২০২৬
উত্তরাখণ্ডের জলবিদ্যুৎ সুড়ঙ্গে আবার ধস! নিহত ৯ শ্রমিক, গুরুতর জখম ১৬
উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে নির্মানাধীন জলবিদ্যুৎ সুড়ঙ্গে ধস ও জল ঢোকার কারণে ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আরও ১৬ জন শ্রমিক গুরুতর আহত। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বৃহস্পতিবার সন্ধেয়, উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার ‘বিষ্ণুপুর-পিপলকোটিতে টিএইচডিসি’ প্রকল্পে এদিন দুর্ঘটনা ঘটে। লাগাতার দুর্ঘটনায় এ প্রকল্পে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠছে। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই সুড়ঙ্গে এটিই প্রথম দুর্ঘটনা নয়। ৮ মাস আগে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, সুড়ঙ্গের ভেতরে দুটি লোকোমোটিভ ট্রলির সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছিলেন।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যের সময় জলবিদ্যুৎ সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজ চলছিল। সে সময় হঠাৎ করে ধস নামে সুড়ঙ্গে। হু হু করে ঢুকে পড়ে জল। সেই মুহুর্তে বহু শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে কাজ করছিলেন। আকস্মিক ধসে তাঁরা ভেতরেই আটকে পড়েন। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ঘটনাস্থলে রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে শ্রমিকদের উদ্ধার করে ওপরে তোলা হয়। ঘটনাস্থলেই ৭ জন শ্রমিক মারা যান। পরে আরও দুই শ্রমিক মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে ধ্বংসাবশেষ সরাতে এবং জল নিষ্কাশন করতে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি উদ্ধার অভিযান পর্যবেক্ষণ করছেন। আজ গোপেশ্বরে তিনি আহতদের সঙ্গে দেখা করবেন। চামোলি জেলার ম্যাজিস্ট্রেট গৌরব কুমার জানান, ১৬ জন শ্রমিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং টানেলের ভিতরে আটকে পড়া বাকিদের বের করে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সেনাবাহিনী, ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী, রাজ্য দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীর দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটির ক্ষমতা ৪৪৪ মেগাওয়াট এবং এর প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পরপর এই দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি উদ্বেগের কারণ। টানেলের ভেতরে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা, পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে প্রকল্পটি পরিচালনাকারী সংস্থা ‘টিএইচডিসি’ বর্তমান ঘটনাটিকে একটি ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রকল্প ব্যবস্থাপনার মতে, হঠাৎ করে জল ও ধ্বংসাবশেষের ঢলের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানের জন্য তাদের সমস্ত ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।
প্রকল্প পরিচালক শারদ কুমার এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে এটিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হল আটকে পড়া সকল মানুষকে নিরাপদে উদ্ধার করা।’ তিনি আরও বলেন, সে উদ্দেশ্যে সমস্ত সংস্থান সম্পূর্ণরূপে মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে।
❤ Support Us







