- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- আগস্ট ১৯, ২০২৬
ইমরান খানকে শিফা হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ, শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন পাক সরকারের
কারাবন্দী পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ও দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের সেই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিল করেছে পাকিস্তান সরকার। দেশের শীর্ষ আদালত আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষকে ৭৩ বছর বয়সী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে দু’দিনের মধ্যে ওই বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেওয়ার একদিন পর ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরির অ্যাডভোকেট জেনারেলের মাধ্যমে ইসলামাবাদের চিফ কমিশনার এই আবেদনটি দাখিল করেন।
পুনর্বিবেচনার আবেদনে ফেডারেল সরকার যুক্তি দিয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টের ১৮ আগস্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশটি তার এখতিয়ারের বাইরে ছিল এবং তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। সরকার জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট একজন অতিরিক্ত দায়রা জজ ইমরান খানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। পরবর্তীতে তিনি ইসলামাবাদ হাইকোর্টে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন, যেখানে ১২ মার্চ চিকিৎসার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সরকার যুক্তি দেখিয়েছে যে, কোনও বন্দীকে হাসপাতালে স্থানান্তর নির্দিষ্ট কার্যপ্রণালী দ্বারা পরিচালিত হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে এর জন্য সরকারের অনুমোদন ও কারা মহাপরিদর্শকের পদক্ষেপ প্রয়োজন হয়।
আবেদনে পাকিস্তান কারা বিধিমালা, ১৯৭৮–এর ১৯৭ নম্বর বিধির উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিধিতে কারাগার থেকে হাসপাতালে বন্দি স্থানান্তরের পদ্ধতি নির্ধারণ করা আছে। এতে আরও বলা হয়েছে যে, হাসপাতালে স্থানান্তরিত বন্দিদের অবশ্যই পুলিশি তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। সরকার আরও পাকিস্তানের সংবিধানের ১০ক অনুচ্ছেদের উল্লেখ করেছে, যা সুষ্ঠু বিচার এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়।
ফেডারেল সরকার দাবি করেছে যে, বিষয়টি প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্টে এসেছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নোটিশ জারি করা হয়নি। তারা আরও যুক্তি দিয়েছে যে, ইমরান খান অতীতে নিয়মিত ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়েছিলেন এবং একাধিকবার মেডিকেল বোর্ড থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেছিলেন। সরকার বলেছে, স্বাস্থ্যগত কারণে ইমরানকে শিফা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার আগে সুপ্রিম কোর্টের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল।
মঙ্গলবার জারি করা এক আদেশে সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য একটা মেডিকেল বোর্ড গঠন করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডক্টর ফয়সাল সুলতান এবং তার বোন ডক্টর উজমা খান যেন তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তাঁর চিকিৎসার সমস্ত খরচ ইমরানের পরিবারকে বহন করতে হবে। কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত এও সতর্ক করেছে যে, এর নির্দেশ অমান্য করা হলে পিটিআই প্রতিষ্ঠাতাকে বর্তমানে দেওয়া সুযোগ–সুবিধা প্রত্যাহার করা হতে পারে।
ইমরান খানের চোখের রোগ সংক্রান্ত আবেদনে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার দাবি জানানো হয়। আবেদনকারীরা বলেন যে, তারা সরকারি হাসপাতালে প্রদত্ত চিকিৎসায় সন্তুষ্ট নন এবং ইমরান খানকে আরও উন্নত চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া উচিত। চলতি বছরের জানুয়ারির শেষে ইমরান খানের চোখের সমস্যাটি প্রকাশ্যে আসে। তিনি তাঁর ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন নামে এক রোগে ভুগছিলেন। এরপর তাঁকে বেশ কয়েকবার ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস–এ নিয়ে যাওয়া হয়।
জেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, অসুস্থতা শনাক্ত হওয়ার পর ইমরান খান যথাযথ চিকিৎসা পেয়েছেন। পিআইএমএস-এর চক্ষু বিভাগের প্রধান ডাঃ মুহাম্মদ আরিফ খান এবং রাওয়ালপিন্ডির আল–শিফা ট্রাস্ট চক্ষু হাসপাতালের ভিট্রো–রেটিনাল সার্জন ডাঃ নাদিম কোরেশি তাঁর চিকিৎসা করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, চিকিৎসার পর ইমরান খানের চোখের অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং তার দৃষ্টিশক্তি প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। জেল কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন যে, ইমরান খানকে সম্ভাব্য সর্বোত্তম স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য জেল প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে।
❤ Support Us





