Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • আগস্ট ২১, ২০২৬

হরমুজ প্রণালীর ভয়াবহ আতঙ্ক! গ্রেনেড-গুলির মাঝখানে ভারতীয় নাবিকেরা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
হরমুজ প্রণালীর ভয়াবহ আতঙ্ক! গ্রেনেড-গুলির মাঝখানে ভারতীয় নাবিকেরা

ইরান লাগোয়া হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়েই পরিবহণ করা হয়। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পরিণত হয় কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে। আর সেই সংঘাতের ভয়াবহতার সরাসরি মুখোমুখি হতে হয় বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের।

বিশ্বের মোট নাবিকদের প্রায় ১২.২ শতাংশই ভারতীয়। আন্তর্জাতিক সমুদ্র পরিবহণে তাই ভারতীয় নাবিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুন মাসে প্রকাশিত রাষ্ট্রপুঞ্জের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর হরমুজ় প্রণালী এবং সংলগ্ন এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেই হামলায় অন্তত ১৫ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অনেকেই ভারতীয় বলে জানা গিয়েছে।

সম্প্রতি ভারতীয় নাবিকদের সংগঠন ‘দ্য ফরওয়ার্ড সিমেনস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ (এফএসইউআই) একটি পুরনো ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এনেছে। এপ্রিল মাসে ধারণ করা ওই ভিডিয়োয় হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় নাবিকদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার ছবি ফুটে উঠেছে। গত ২২ এপ্রিলের ওই ঘটনার ভিডিয়োয় দেখা যায়, মূলত ভারতীয় নাবিক থাকা একটি জাহাজকে ঘিরে ফেলেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর একাধিক বোট।

ঘটনাটি একটি পানামার পতাকাবাহী কন্টেনার জাহাজকে কেন্দ্র করে। হরমুজ় প্রণালীতে উত্তেজনা যখন চরমে, তখন আইআরজিসি-র বোটগুলি ওই জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ভিডিয়োয় দেখা যায়, পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে। শুধু গুলিই নয়, জাহাজটিকে লক্ষ্য করে রকেটচালিত গ্রেনেড বা আরপিজিও ছোড়া হচ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে আতঙ্কিত ভারতীয় নাবিকেরা জাহাজের ভিতরে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে যাচ্ছেন। মুহূর্তের মধ্যে তাঁদের কর্মস্থল পরিণত হয় প্রবল আতঙ্কের জায়গায়।

তবে ভয়াবহ হামলার মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ওই জাহাজে থাকা ভারতীয় নাবিকেরা প্রাণে বেঁচে যান। ভারতের নৌপরিবহণ মন্ত্রক পরে জানায়, জাহাজটিতে মোট ২১ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন এবং তাঁদের প্রত্যেকেই অক্ষত ও নিরাপদ রয়েছেন। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেলেও ঘটনাটি হরমুজ় প্রণালীতে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এরই মধ্যে গত মাসে এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনায় ইরানকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাহাজের মালিক, ব্যবস্থাপক এবং নাবিক নিয়োগকারী সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী কোনও জাহাজে ভারতীয় নাবিকদের মোতায়েন না করতে।

কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ডাইরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং’-ও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলার ঘটনা সংঘাতপূর্ণ এলাকায় জাহাজ ও নাবিকদের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সেখানে চলাচলকারী জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষার জন্য অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছে দফতরটি।

পাশাপাশি, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং সংলগ্ন জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজগুলির ক্যাপ্টেনদেরও সর্বদা সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখার পাশাপাশি নৌ-চলাচল সংক্রান্ত সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তা নির্দেশিকাগুলিও গুরুত্ব সহকারে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালীর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তাই শুধু আন্তর্জাতিক রাজনীতি বা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্যই উদ্বেগের নয়। এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে সমুদ্রপথে কর্মরত হাজার হাজার নাবিকের জীবন ও নিরাপত্তা। গুলিবর্ষণ, গ্রেনেড হামলা এবং যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে আটকে পড়া ভারতীয় নাবিকদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার ভিডিয়ো সেই বিপদেরই স্পষ্ট ছবি তুলে ধরেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!