- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২১, ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুরে ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ যাদবপুর কর্তৃপক্ষের, তিন সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগের ঘটনায় অবশেষে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার দুপুরে ই-মেলের মাধ্যমে যাদবপুর থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গোটা ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসে থাকা সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিমবক্স মণ্ডল জানিয়েছেন, উপাচার্যের নির্দেশেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে এবং যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, তদন্ত কমিটিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত কোনো প্রতিনিধিকে রাখা হচ্ছে না। সম্ভাব্য সদস্যদের মধ্যে থাকতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তন উপাচার্য, কলকাতার অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য এবং আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি বিভাগের অধিকর্তা। তাঁরা গোটা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে একটি রিপোর্ট জমা দেবেন।
শিক্ষক ও পড়ুয়াদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বহিরাগতেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ভবনের সামনে আগুন জ্বালিয়েছিল। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে থাকা সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত বুধবার রাতে অরবিন্দ ভবনে বহিরাগতদের হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। এর পর বৃহস্পতিবার ফের ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমব্লেম বা গৌরবচিহ্নের একটি অংশ ভেঙে যাওয়াকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুর ২টো থেকে ৪টে পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। অরবিন্দ ভবনে অবস্থান বিক্ষোভও করেন শিক্ষকরা। বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষকদেরও সে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে, প্রতীক ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে এবিভিপি সমর্থকেরা জমায়েত করে ক্যাম্পাসের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। গেট বন্ধ থাকায় তাঁরা নন্দলাল বসুর নকশা করা ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের উপর পা দিয়ে উঠে দরজা পার হওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় প্রতীকের একটি অংশ ভেঙে পড়ে বলে অভিযোগ। পরে বৃত্তাকার ধাতব অংশটি ক্যাম্পাসের ভিতরে ছুড়ে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে শুক্রবার সে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে এবিভিপি। সংগঠনের দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার ঘটনা অতিবাম তথা নকশালপন্থীদের পরিকল্পিত চক্রান্ত। তাদের বক্তব্য, ফলকে পদ্মফুলের পাপড়ির নকশা থাকায় নকশালপন্থীরাই সেটি ভেঙেছে। এই ঘটনার সঙ্গে যাদবপুরের বাংলা বিভাগের শিক্ষক রাজ্যেশ্বর সিংহের যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে এবিভিপি। ফলক ভাঙার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পথে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।
যদিও এবিভিপির এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্যেশ্বর সিংহ। তাঁর বক্তব্য, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে কী ভাবে প্রতীকটি ভাঙা হয়েছিল। তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি ক্যাম্পাসের ভিতরে ছিলেন, অথচ প্রতীকটি রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের দিকে। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা প্রত্যেকে কী ঘটেছে তা দেখেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ভাঙার ঘটনাকে ঘিরেও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও পাল্টা-অভিযোগের চাপানউতোর। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তেই গোটা ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
❤ Support Us







