- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২১, ২০২৬
ছর্রা-কাণ্ডে দিল্লি পুলিশের দফতরের সামনে ধর্নায় রাহুল গান্ধী, সঙ্গে আক্রান্ত ছাত্র সাহিল
দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে শুক্রবার তৈরি হল নাটকীয় পরিস্থিতি। যন্তর মন্তরে ছাত্রবিক্ষোভ চলাকালীন ছর্রা বা পেলেট ছোড়ার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের না হওয়ায় দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনারের (ডিসিপি) দফতরের সামনে ধর্নায় বসলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ওই ঘটনায় ছর্রায় আহত ছাত্র সাহিল লোচাব।
জানা গিয়েছে, গত ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালীন পড়ুয়াদের উপর ছর্রা ছোড়ার অভিযোগ ওঠে কয়েক জন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে। সে ঘটনায় আহত সাহিলের হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে শুক্রবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যান রাহুল। আচমকা রাহুল থানায় পৌঁছনোয় পুলিশ আধিকারিকদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। আক্রান্ত ছাত্র সাহিলের অভিযোগ, তিনি ওই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করতে চাইলেও পুলিশ তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করেনি। কেন অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে না, থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে তার জবাব চান রাহুল। কংগ্রেসের দাবি, সাহিল প্রথমে ১৪ আগস্ট এবং পরে ১৭ আগস্ট ছর্রা-কাণ্ড নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ পাওয়ার পরও পুলিশ কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেনি।
কংগ্রেসের এক নেতার দাবি, রাহুল প্রথমে মন্দির মার্গ থানায় অভিযোগ দায়ের করার চেষ্টা করেছিলেন। সেখানে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। এরপর তিনি পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সংলগ্ন দিল্লি পুলিশের ডিসিপির দফতরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন। পরে এফআইআর দায়ের না হওয়া পর্যন্ত ধর্নায় বসার সিদ্ধান্ত নেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য, এ ঘটনায় এফআইআর দায়ের না হওয়া পর্যন্ত তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ছর্রা-কাণ্ডে প্রথম দিকে মোট পাঁচ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। আহতদের মধ্যে ছিলেন ২৫ বছরের শেখ ইরশাদ মনসুরি, ৩২ বছরের নূতন টোপ্পো, ২৫ বছরের প্রশান্ত সিংহ, ১৯ বছরের সাহিল লোচাব এবং একটি ইংরেজি সংবাদপত্রের এক সাংবাদিক। পরে জানা যায়, ছর্রা গুলিতে আহতের সংখ্যা অন্তত ১০ জন। তবে তাঁদের প্রত্যেকের নাম ও পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
ছর্রা বা পেলেট প্রাণঘাতী না হলেও শরীরে অসংখ্য ছোটো ক্ষত তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে চোখে ছর্রা বিঁধলে গুরুতর চোটের পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ হারানোর আশঙ্কাও থাকে। অতীতে জম্মু ও কাশ্মীরে বিক্ষোভ দমনে ছর্রা ব্যবহারের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ২০১০ সালে কাশ্মীরে বিদ্রোহ দমনের সময় নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে ছর্রা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন রাজ্য সরকার তা বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়। ২০১৬ সালে জঙ্গি সংগঠনের প্রচারক বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর কাশ্মীর জুড়ে ব্যাপক অশান্তি ছড়ালে ফের বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে ছর্রা ব্যবহার করা হয়। সেই ব্যবস্থার ফলে বহু মানুষ গুরুতর আহত ও দৃষ্টিশক্তি হারান বলে অভিযোগ উঠেছিল।
এ বার দিল্লির মাটিতে ছাত্রবিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে একই ধরনের ছর্রা ছোড়ার অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে কেন এখনও এফআইআর দায়ের করা হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলেই শুক্রবার পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গে আহত সাহিলের উপস্থিতি এই প্রতিবাদকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
❤ Support Us







