Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২১, ২০২৬

বকেয়া মহার্ঘভাতা কি পাবেন সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষকরা? ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যকে অবস্থান জানাতে নির্দেশ হাই কোর্টের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বকেয়া মহার্ঘভাতা কি পাবেন সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষকরা? ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যকে অবস্থান জানাতে নির্দেশ হাই কোর্টের

পশ্চিমবঙ্গের সরকারপোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মীরা কি বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) পাবেন? এই প্রশ্নেই এবার রাজ্য সরকারের কাছে স্পষ্ট অবস্থান জানতে চাইল কলকাতা হাই কোর্ট। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লিখিত রিপোর্ট দিয়ে রাজ্যের বক্তব্য আদালতে জানাতে হবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ-র অপেক্ষায় থাকা সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে মামলা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ানোর পর রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, বকেয়া মহার্ঘভাতার একটি বড়ো অংশ ইতিমধ্যেই মেটানো হয়েছে। কিন্তু মামলাকারীদের অভিযোগ, সরকারি কর্মীদের একাংশ ডিএ পেলেও সরকারপোষিত, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা এখনও বকেয়া ডিএ-র টাকা পাননি। তাঁদের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার যে হিসাব দিয়েছে, তাতে সরকারপোষিত কর্মীদের জন্যও বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের কথা বলা হয়েছিল। অথচ বাস্তবে সেই অর্থ তাঁদের হাতে পৌঁছয়নি।

এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক সংগঠন এবিটিএ কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিংহের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। মামলাকারীদের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। শুনানি শেষে আদালত রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চায়, সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট অবস্থান কী। সেই অবস্থান লিখিত ভাবে জানাতে বলা হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টে কী জানিয়েছিল রাজ্য?

ডিএ সংক্রান্ত মামলায় গত ১৮ অগস্ট সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল, সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘভাতার প্রায় ৬৫ শতাংশ ইতিমধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানানো হয়। রাজ্যের তরফে আরও জানানো হয়েছিল, এখনও পর্যন্ত বকেয়া ডিএ বাবদ ৭,৭০০ কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়েছে।

এর আগে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকার যে হিসাব দিয়েছিল, তাতে সরকারি কর্মী, সরকারপোষিত কর্মী এবং পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে মোট প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানানো হয়েছিল। সেই হিসাব অনুযায়ী—

  • সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ:প্রায় ১১,৭৯০ কোটি টাকা
  • সরকারপোষিত কর্মীদের বকেয়া ডিএ:প্রায় ১৮,৩৬৯ কোটি টাকা
  • পেনশনভোগীদের বকেয়া ডিএ:প্রায় ১১,৬১১ কোটি টাকা

অর্থাৎ, সরকারপোষিত কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটাতেই প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হতে পারে বলে রাজ্য আদালতে জানিয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টের মূল নির্দেশ কী ছিল?

পশ্চিমবঙ্গের ডিএ মামলার মূল রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল যে কর্মচারীদের প্রাপ্য বকেয়া মহার্ঘভাতা মিটিয়ে দিতে হবে। আদালত বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ দ্রুত মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। বাকি ৭৫ শতাংশ কী ভাবে এবং কোন সময়সীমার মধ্যে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের জন্য একটি মনিটরিং কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল, রাজ্য সরকারের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বকেয়া ডিএ মেটানোর একটি বাস্তবসম্মত পদ্ধতি নির্ধারণ করা। সম্প্রতি সেই মনিটরিং কমিটি তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রথম কিস্তি দেওয়ার নির্দেশ

মনিটরিং কমিটির সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী, যেসব সরকারি কর্মীর ই-সার্ভিস বুক স্ক্যান করে আপলোড করা হয়ে গিয়েছে, তাঁদের ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি মেটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। রাজ্য সরকারের তরফে মনিটরিং কমিটিকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে ৬৪,৭৫৯ জন সরকারি কর্মীর ই-সার্ভিস বুক স্ক্যান করে আপলোড করা হয়েছে। এই কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এখানেই তৈরি হয়েছে সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মূল প্রশ্ন। সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া এগোলেও সরকারপোষিত এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে একই ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

শিক্ষক সংগঠনের অভিযোগ

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা বকেয়া ডিএ-র কিছু অংশ পেলেও সরকারপোষিত এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা এখনও কোনও টাকা পাননি। এ বিষয়ে সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যসচিবের দৃষ্টিও আকর্ষণ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

শিক্ষক সংগঠনগুলির বক্তব্য, সরকার যখন সুপ্রিম কোর্টে সরকারপোষিত কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য প্রায় ১৮,৩৬৯ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে হিসাব দিয়েছে, তখন বাস্তবে তাঁদের প্রাপ্য কেন দেওয়া হচ্ছে না, সেটি রাজ্যের স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

এখন নজর ১১ সেপ্টেম্বরের দিকে

কলকাতা হাই কোর্টের শুক্রবারের নির্দেশের পর বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে। এতদিন সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে বকেয়া ডিএ পাওয়া নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, এবার সেই বিষয়ে রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান আদালতে জানাতে হবে।

১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্য কী রিপোর্ট দেয়, সরকারপোষিত ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত জানায়—এখন সেদিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। আদালতে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পরই তাঁদের বকেয়া মহার্ঘভাতা পাওয়ার পথ কতটা পরিষ্কার হয়, তা বোঝা যাবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!