- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
শিশুশ্রম ও পাচারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান, তিন মাসে উদ্ধার প্রায় ৪ হাজার শিশু
শিশুশ্রম এবং শিশু পাচারের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে অভিযানে বড়সড় সাফল্য। ৮১ দিনের অভিযানে ৩৮০০-র বেশি শিশুকে উদ্ধার করেছে জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন। উদ্ধার অভিযানের সূত্রে ৫৭৫টিরও বেশি এফআইআর দায়ের হয়েছে। ১২ জুন শুরু হওয়া এই অভিযান চলে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। উদ্ধারেই অভিযান শেষ নয়, শিশুদের পুনর্বাসন, পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ফের শিক্ষার মূলস্রোতে নিয়ে আসার উপরও জোর দিয়েছে কমিশন।
১২ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই বিশেষ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘প্যান-ইন্ডিয়া রেসকিউ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ক্যাম্পেন’। শিশুশ্রমে যুক্ত শিশুদের চিহ্নিত করা, পাচার ও শোষণের ঝুঁকিতে থাকা নাবালকদের উদ্ধার ও তাঁদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে দেশ জুড়ে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছে কমিশন। জেলা প্রশাসন, শ্রম দফতর, পুলিশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকেও অভিযানে যুক্ত করা হয়। বিশেষ নজর দেওয়া হয় সেই সমস্ত এলাকায়, যেগুলি শিশুশ্রম এবং মানবপাচারের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত।
শুধু উদ্ধারেই থেমে থাকেনি কমিশনের উদ্যোগ। উদ্ধার হওয়া শিশুদের পরবর্তী অবস্থার উপরও নজর রাখা হয়েছে। তাঁদের পুনর্বাসন, পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, স্কুলে ফেরানো, প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মতো বিষয়গুলির তথ্য নিয়মিত ভাবে সংগ্রহ করতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযানের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনগুলির সঙ্গেও একাধিক বৈঠক করে কমিশনের কর্মকর্তারা। মাঠপর্যায়ে উদ্ধার অভিযানে কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, কোথায় প্রশাসনিক বাধা তৈরি হচ্ছে, বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে কি না— সেসব বিষয় বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানের পর ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ বা ‘এটিআর’ সময়মতো জমা দেওয়ার উপরও জোর দেওয়া হয়।
শিশুশ্রম এবং পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যে সমস্ত জায়গায় শিশুশ্রম বা পাচারের প্রবণতা বেশি, সেখানে নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়। কমিশনের নির্দেশ, এ অভিযানকে বিচ্ছিন্ন কোননো উদ্যোগ হিসেবে না দেখে ধারাবাহিক নজরদারির আওতায় আনতে হবে। সে কারণে উদ্ধার হওয়া শিশু এবং তাঁদের পরবর্তী পুনর্বাসনের বিষয়েও নিয়মিত তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এফআইআর দায়ের থেকে শুরু করে পরিবারের কাছে ফেরানো, শিক্ষায় পুনঃস্থাপন এবং ক্ষতিপূরণ— প্রতিটি পর্যায়ের অগ্রগতি নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতেও উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন। সামাজিক মাধ্যম এবং অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে শিশুশ্রমের ঘটনা প্রশাসনের নজরে আনার জন্য সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া শিশুদের পুনর্বাসন এবং শিক্ষার মূলস্রোতে ফেরানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হচ্ছে। ‘কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশুবিকাশ মন্ত্রক’-এর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, রাজ্য প্রশাসনগুলির সঙ্গে ধারাবাহিক সমন্বয় এবং নজরদারির ফলেই ৩৮০০-র বেশি শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের সূত্রে দায়ের হয়েছে ৫৭৫টিরও বেশি এফআইআর।
❤ Support Us







