Advertisement
  • বি। দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

৭৬৯ কোটি টাকার অস্ত্র চুক্তিতে গরমিলের অভিযোগ, বিতর্কে এস্তোনিয়ার মন্ত্রী ও ভারতীয় সংস্থা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
৭৬৯ কোটি টাকার অস্ত্র চুক্তিতে গরমিলের অভিযোগ, বিতর্কে এস্তোনিয়ার মন্ত্রী ও ভারতীয় সংস্থা

রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহায়তার উদ্দেশ্যে অস্ত্র কেনার একটি চুক্তি ঘিরে বড়সড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে এস্তোনিয়া। প্রায় ৭৬৮.৫০ কোটি টাকার এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অনিয়ম, অস্ত্র সরবরাহে দেরি এবং গোলাবারুদের নিম্নমানের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা দফতর এবং একটি ভারতীয় সংস্থার। বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের ঘোষণা করেছেন এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হ্যান্নো পেভকুর।

এস্তোনিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘ইআরআর’ সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য এস্তোনিয়া বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ কেনার বরাত দিয়েছিল। এই অস্ত্র কেনার খরচ বহন করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। অভিযোগ, যে ভারতীয় সংস্থাকে অস্ত্র তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাদের সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ছিল না। তা সত্ত্বেও সংস্থাটিকে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ দেওয়া হয়।

এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘সেন্টার ফর ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্টস’ ইতালিতে নথিভুক্ত সংস্থা ‘ডেটাসেল এসআরএল’-এর সঙ্গে অস্ত্র সরবরাহের চুক্তি করেছিল। পরবর্তীতে একই বছরে ইতালির ওই সংস্থাটি ভারতীয় সংস্থা ‘নেকো ডিফেন্স মিউনিশনস’-এর মালিকানায় চলে যায়।

চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গোলাবারুদ সরবরাহ করার কথা থাকলেও তা করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ। পরে ২০২৫ সালে এস্তোনিয়ায় যে গোলাগুলি পাঠানো হয়, সেগুলির গুণমান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ করা হয়, সরবরাহ করা গোলাবারুদের একটি বড় অংশ প্রত্যাশিত মানের ছিল না।

চুক্তি ঘিরে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ পরে এস্তোনিয়ার ন্যাশনাল অডিট অফিসের তদন্তেও উঠে আসে। অডিট রিপোর্টে অস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া, অর্থপ্রদান এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে একাধিক প্রশ্নের বিষয় সামনে আসে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে।

এই পরিস্থিতিতে বুধবার এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হ্যান্নো পেভকুর পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, গোটা বিতর্কের দায় তিনি নিজের কাঁধে নিচ্ছেন এবং সেই কারণেই মন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন।

তবে ভারতীয় সংস্থার মালিকানাধীন ‘ডেটাসেল’ এস্তোনিয়া সরকারের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। সংস্থাটির পাল্টা দাবি, এস্তোনিয়া চুক্তি বাতিল করার আগেই তাদের হাতে চুক্তির আওতায় থাকা অধিকাংশ অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। ফলে এস্তোনিয়া একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করে বরং তাদের আর্থিক ক্ষতি করেছে বলেই দাবি করেছে ডেটাসেল।

অর্থাৎ, ৭৬৯ কোটি টাকার কাছাকাছি মূল্যের এই অস্ত্র চুক্তিকে কেন্দ্র করে এখন মুখোমুখি এস্তোনিয়া সরকার ও ভারতীয় মালিকানাধীন সংস্থা। একদিকে রয়েছে অস্ত্র সরবরাহে দেরি ও নিম্নমানের গোলাবারুদের অভিযোগ, অন্যদিকে ডেটাসেলের দাবি—চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তই ছিল অন্যায্য। মন্ত্রীর পদত্যাগের পরও তাই এই প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ঘিরে বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!