- বি। দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
রুশ তেল না কিনলেই কি থেমে যাবে ইউক্রেন যুদ্ধ ? জেলেনস্কির দেশে বসেই ট্রাম্পকে বার্তা জয়শংকরের
রাশিয়া থেকে ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের তেল কেনার কারণেই ইউক্রেনে যুদ্ধ চলছে — মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন যুক্তির বিরোধিতা করে এবার ইউক্রেনের মাটিতে দাঁড়িয়েই পাল্টা বার্তা দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর । ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতের পর জয়শংকর স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, কোনো দেশ রাশিয়া থেকে তেল কিনছে কি না, তার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই । তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধের সমাধান একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব ।
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পশ্চিমের একাধিক দেশ রুশ তেল আমদানি বন্ধ করে দেয় । তবে একই সময়ে জার্মানির মতো বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশ রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি চালিয়ে যায় । অন্যদিকে, তুলনামূলক কম দামে রুশ তেল পাওয়ায় ভারত সেই তেল কেনা শুরু করে । সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় ।
ভারতের এই সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই ভালোভাবে নেয়নি আমেরিকা । তবে নয়াদিল্লির অবস্থান ছিল স্পষ্ট — দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং যে উৎস থেকে তেল আমদানি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক, সেখান থেকেই তেল কেনা হবে ।
রুশ তেল কেনার বিষয়টি নিয়ে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে চাপানউতোরও ক্রমশ বাড়ে । গত বছরের আগস্টে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প । রাশিয়া থেকে তেল কেনাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, রুশ তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে । সেই কারণে রুশ তেল আমদানি করা দেশগুলির উপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেও সওয়াল করেন ট্রাম্প । ভারতকেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার জন্য চাপ দেন তিনি ।
এর পাশাপাশি, ট্রাম্প প্রশাসন ‘Sanctioning Russia Act 2025’ পাশ করানোর উদ্যোগ নিয়েছে । প্রস্তাবিত ওই আইনে রাশিয়া থেকে তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম ও পেট্রোপণ্য আমদানি করা দেশগুলির উপর শুল্ক চাপানোর কথা বলা হয়েছে । সেই শুল্কের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে ।
রুশ তেল আমদানির প্রশ্নে এর আগেও একাধিকবার ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেছেন জয়শংকর। এবার জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেনের মাটিতেই সেই অবস্থান আরও স্পষ্ট করলেন তিনি ।
জয়শংকর বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে যুদ্ধ চলছে । কিন্তু কোন দেশ তেল বা অন্য কোনও পণ্য কিনছে, আর কোন দেশ কিনছে না —তার ভিত্তিতে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় । তাঁর মতে, যুদ্ধ বন্ধ করার একমাত্র কার্যকর পথ হল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মধ্যে আলোচনা ।
একইসঙ্গে ভারতের বাস্তব পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন বিদেশমন্ত্রী । তাঁর বক্তব্য, ভারতকে ১৪০ কোটি মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন শক্তি ও জ্বালানির জোগান নিশ্চিত করতে হয় । ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলেও ভারতের মতো একটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে ।
জয়শংকরের বক্তব্যে কার্যত এটাই স্পষ্ট — রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করলেই ইউক্রেন যুদ্ধ থেমে যাবে, এমন সরল সমীকরণকে ভারত মানছে না । নয়াদিল্লির মতে, যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা তেল কেনাবেচা বন্ধের মাধ্যমে নয়, বরং কূটনৈতিক আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই সম্ভব ।
❤ Support Us








