- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
যন্তরমন্তরে প্রতিবাদীর বাবার উপর হামলা! ‘সিজেপি’-র চাপে অভিযুক্তকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আশ্বাস দিল্লি পুলিশের
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ চলাকালীন ছাত্র আন্দোলনকর্মী নিশু আজাদের বাবা সঞ্জয় কুমারের উপর গুরুতর হামলা অভিযোগ ঘিরে চাপ বাড়ল দিল্লি পুলিশের উপর। অভিযুক্ত স্বতন্ত্র ভারতদ্বাজকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হবে বলে পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে— শুক্রবার এমনটাই জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের ধারা এবং অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের ধারা যুক্ত করার দাবিও জানিয়েছে তাঁরা।
শুক্রবার, ‘সিজেপি’-র সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে দলের সমর্থকেরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার দিকে মিছিল করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ এবং পাপ্পু যাদব। পটেল চক থেকে মিছিল করে থানার সামনে পৌঁছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের দাবি, যন্তর মন্তরে ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে সঞ্জয় কুমারের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই সাক্ষাৎকারের ভিডিয়োয় ভারতদ্বাজকে সঞ্জয় কুমারকে মারধরের কথা বলতে শোনা যায়। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘নিশুর বাবার মাথা আমরা ফাটিয়েছি।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনার পর তাঁকে জেলে যেতে হয়নি। তাঁর কথায়, ‘সারা পৃথিবী জানুক, আমি জেলেও যাইনি। সারা রাত ঘুরে বেড়িয়েছি।’ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের হাত তাঁর মাথায় উপর রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ‘ভালো সম্পর্ক’-এর কথাও গর্বভরে বলেন তিনি। ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পরেই নতুন করে সরব হয় সিপিজে। সংগঠনের অভিযোগ, এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত কী ভাবে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সেটিই প্রশ্ন। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
যদিও দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, সঞ্জয় কুমারের মাথার খুলি ফাটেনি। পুলিশ জানিয়েছে, ৩৮ বছর বয়সি কুমার হাতাহাতির ঘটনায় মাথায় সামান্য চোট পেয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকেই স্বতন্ত্র ভারতদ্বাজ এবং সূরজ কুমার নামে আরও এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নোটিস দেওয়া হয়েছে। মামলায় চার্জশিটও পেশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে, এ বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয় সিপিজে। সংগঠনের অভিযোগ, পুলিশ ইচ্ছাকৃত ভাবে গুরুতর ধারাগুলি এড়িয়ে গিয়েছে। ‘সিজেপি’-র সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা খুনের চেষ্টার ধারা এবং এসসি/এসটি আইনের ধারা যুক্ত করার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ তা করতে চায়নি। এমনকি গুরুতর আঘাতের ধারা যুক্ত করার দাবিও প্রত্যাখ্যান করে আমাদের আদালতের নির্দেশ আনতে বলা হয়েছিল।’
শুক্রবারের বৈঠকে দিল্লি পুলিশ তাদের দাবিগুলি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে বলে দাবি ‘সিজেপি’ নেতৃত্বের। ‘এআইসিসি’-র আইন বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ঋষভ বলেন, ‘যে গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলি বাদ পড়েছিল— খুনের চেষ্টা, এসসি/এসটি আইন এবং অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের ধারা— সেগুলি যুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশ রাজি হয়েছে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বতন্ত্রকে গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছে।’ আহত ব্যাক্তির মেয়ে নিশু আজাদও একই দাবি করেছেন। তিনি জানান, ‘পুলিশ জানিয়েছে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্বতন্ত্রকে গ্রেফতার করা হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এ বার তারা ব্যবস্থা নেবে। আগের মতো বিষয়টি নিয়ে টালবাহানা করবে না’।
শুধু বাবার উপর হামলার অভিযোগ নয়, নিজের বিরুদ্ধেও হুমকি, অনলাইন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন নিশু। তাঁর দাবি, ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে তাঁকে কটূক্তি করা হয়েছে, এমনকি যৌন নির্যাতনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। সে ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নিশুর দাবি, ‘বাড়ির বাইরে বেরোতেও আমার লজ্জা লাগছিল। কয়েক সপ্তাহ স্কুলে যেতে পারিনি। মনে হতো, সবাই আমাকে বিচার করছে। আশা করি পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।’ ‘সিজেপি’-র দাবি, নিশুকে লক্ষ্য করে সমাজমাধ্যমে আপত্তিকর ছবি ও হুমকি ছড়ানোর ঘটনায় পৃথক এফআইআর করার আশ্বাসও দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ‘পকসো আইন’-এর ধারা যুক্ত করার কথাও পুলিশ জানিয়েছে বলে দাবি সংগঠনের।
দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে আরও তীব্র অভিযোগ তুলে সৌরভ দাস বলেন, ‘স্বতন্ত্র ভারতদ্বাজের মতো গুন্ডারা যন্তর মন্তরে এসেছিল। দিল্লি পুলিশ কি তাদের শনাক্ত করতে পারেনি? সে খুনের চেষ্টা করেছে। দিল্লি পুলিশ তাকে বাঁচাচ্ছে, কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’এ ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও জুড়েছে বিতর্কে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাক্ষাৎকারে ভারতদ্বাজকে কথিত ভাবে বলতে শোনা যায়, রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণেই তিনি জেলে যেতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে তিনি দিল্লির মন্ত্রী কপিল মিশ্র এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ানের নাম নিয়েছেন। এই দাবির ব্যাখ্যা চেয়েছেন সৌরভ দাস। তাঁর কথায়, ‘যদি ওই ব্যক্তি প্রকাশ্যে বলে থাকেন যে কপিল মিশ্র এবং চিরাগ পাসোয়ান ফোন করে তাঁকে ছাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তা হলে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে এর জবাব দিতে হবে।’
যন্তর মন্তরের ২০ জুলাইয়ের ঘটনাটি অবশ্য বৃহত্তর রাজনৈতিক বিক্ষোভের অংশ ছিল। ওই বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ সংসদের দিকে মিছিল করে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে। সংঘর্ষের সময় লাঠিচার্জ, প্যালেন গান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র বক্তব্য, সেদিন বিক্ষোভে এক দল লোক ঢুকে পড়েন, তার পরেই গোলমাল শুরু হয়। সে সময়ই সঞ্জয় কুমার আক্রান্ত হন। সংগঠনটির আরও অভিযোগ, ওই ঘটনায় আরও কয়েক জন জড়িত থাকলেও তাঁদের এখনো শনাক্ত করা হয়নি।
শুক্রবার সিপিজে-র মিছিল ঘিরে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি ব্যারিকেডও বসানো হয়। থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনার পর সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস তাঁরা পেয়েছেন। তবে সেই আশ্বাস কার্যকর না হলে ফের থানায় আসার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ‘সিজেপি’। সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা এখানে এসে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা যদি প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে, তা হলে আমাদের আবার আসতে হবে। দিল্লি পুলিশকে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। আমরা ছাত্রছাত্রীদের পাশে আছি।’ এখন নজর ৭২ ঘণ্টার দিকে। পুলিশের আশ্বাস অনুযায়ী ওই সময়সীমার মধ্যে ভারতদ্বাজকে গ্রেফতার করা হয় কি না, এবং তাঁর বিরুদ্ধে নতুন ধারাগুলি যুক্ত হয় কি না— তা নিয়েই পরবর্তী রাজনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নির্ভর করছে।
❤ Support Us








