Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

দুর্গাপুজোয় ১ লক্ষ টাকা অনুদান, বড়ো পুজো কমিটিকে টাকা না নেওয়ার অনুরোধ মুখ্যমন্ত্রীর : বিসর্জনে ডিজে-ক্রেন নিষিদ্ধ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দুর্গাপুজোয় ১ লক্ষ টাকা অনুদান, বড়ো পুজো কমিটিকে টাকা না নেওয়ার অনুরোধ মুখ্যমন্ত্রীর : বিসর্জনে ডিজে-ক্রেন নিষিদ্ধ

এ বছরের জন্য দুর্গাপুজোর উদ্যোক্তা কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মিলনমেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। তবে বড়ো বাজেটের ও আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব পুজো কমিটির ছোট বাজেট এবং সরকারি সাহায্য ছাড়া পুজো আয়োজন করা কঠিন, তাদের জন্যই এই অনুদান। তাঁর আবেদন, ‘যারা সক্ষম, তাদের বলব, সরকারের অর্থনৈতিক সাহায্য না-নিতে। যাঁরা এই টাকা না হলে পুজো করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য সরকার এক লক্ষ টাকা দেবে।’ অনুদান প্রসঙ্গে রাজ্যের পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান ২৫ হাজার টাকা দিয়ে শুরু হয়েছিল এবং ধীরে ধীরে তা ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছেছিল। তাঁর দাবি, ভোটে এর কোনো লাভ হয়নি, বরং অনেকেই অনুদানের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

পুজো কমিটিগুলির জন্য একাধিক সুবিধার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের আগে রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। সিইএসসির সঙ্গেও কথা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যের পুজো কমিটিগুলিকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে সম্মতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি। এছাড়াও পুজোর জন্য দমকল বিভাগের ছাড়পত্র নিতে কমিটিগুলিকে কোনো টাকা দিতে হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে, এবারের পুজোয় ডিজে নিষিদ্ধ, অষ্টমীতে বন্ধ থাকবে মদের দোকান। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুজোর সময় রাজ্যের কোনো মণ্ডপ বা অনুষ্ঠানে ডিজে বাজানো যাবে না। মহরমের সময়ও ডিজে না বাজানোর জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বার দুর্গাপুজোতেও ডিজে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। অষ্টমীর দিন রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে পানশালাতেও মদ বিক্রি করা যাবে না বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রতিমা ও মণ্ডপ তৈরির ক্ষেত্রেও পুজো কমিটিগুলিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এমন কোনও প্রতিমা বা মণ্ডপ তৈরি করা যাবে না, যাতে রাজ্যের সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় ঐতিহ্যে আঘাত লাগে। প্রতিমা নিরঞ্জনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বছর ২৫ অক্টোবর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। তাই তার আগের দিন, অর্থাৎ ২৪ অক্টোবরের মধ্যেই সমস্ত দুর্গাপুজোর প্রতিমা নিরঞ্জন করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, প্রতিমা নিরঞ্জন পঞ্জিকা মেনেই করা উচিত এবং কেউ নিজের ইচ্ছামতো সময় নির্ধারণ করতে পারবেন না। তিনি বলেন, ‘কাটঅফ ডেট রাখব। কারও উপর কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না।’ এছাড়াও বিসর্জন ঘাটে ক্রেন ব্যবহার করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে পুরো প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!