- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
উপনির্বাচনে জোটের প্রস্তাব খারিজ, কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতায় নারাজ মমতা
উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জোটের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় জাতীয় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বার্তা, ভবিষ্যতে সংসদের ভিতরে কিংবা বাইরে — কোনো ক্ষেত্রেই জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোটে থাকবে না তৃণমূল কংগ্রেস।
রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমন্বয়ের লক্ষ্যে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে জোটের প্রস্তাব দিয়েছিল তৃণমূল। জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন আগে দিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। তবে পরে ‘এআইসিসি’-র সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল তৃণমূলের এক সাংসদকে জানান, বাংলার স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব জোটের প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি নয়।
এ অবস্থানে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস যদি শুধুমাত্র স্থানীয় নেতাদের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সংসদেও কংগ্রেসের সঙ্গে একযোগে চলার কোনও বাধ্যবাধকতা তৃণমূলের নেই। অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, প্রথমে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর — এই দুই আসনে তৃণমূল কংগ্রেস কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থন করুক। তাঁর কথায়, সেখান থেকেই ভবিষ্যতের সমঝোতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে। আগামী দিনে আরও অনেক রাজনৈতিক লড়াই রয়েছে, তখন দুই দলের জোটের বিষয়টি নিয়ে ফের আলোচনা করা যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম — দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হয়। সেই অনুযায়ী নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। ফলে ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে। নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী করেছে খুন হওয়া শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের স্ত্রী হাসিরানি রথকে। অন্যদিকে, রেজিনগর ও নওদা আসনে জয়ী হয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর। তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানেও উপনির্বাচন হচ্ছে। ওই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী শাখারফ সরকার।
তৃণমূল কংগ্রেসও দুই আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। নন্দীগ্রামে দলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। একইসঙ্গে দুই কেন্দ্রেই প্রার্থী দিয়েছে কংগ্রেস। নন্দীগ্রামে ভূমি আন্দোলনের নেতা মিলন প্রধান এবং রেজিনগরে জেলা পরিষদের সদস্য মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফিকে প্রার্থী করেছে দল। ফলে উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে জোটের সম্ভাবনা আপাতত ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি, দুই দলের সম্পর্কও নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে।
❤ Support Us








