- বৈষয়িক
- অক্টোবর ১, ২০২৬
বাংলায় বিনিয়োগ বার্তা, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রির
পশ্চিমবঙ্গে একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ়ের শীর্ষ কর্তারা। বুধবার সন্ধ্যায় নবান্নে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংস্থার সিইও তরুণ ঝুনঝুনওয়াল-সহ একাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে গণেশ পুজোর আমন্ত্রণ রক্ষা করতে মুম্বইয়ে রিলায়েন্স কর্তা মুকেশ আম্বানির বাসভবন ‘অ্যান্টিলিয়া’-য় গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি জানিয়েছিলেন, রিলায়েন্সের একটি প্রতিনিধি দল খুব শীঘ্রই বাংলায় এসে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করবে। সেই ঘোষণার পরই বুধবার নবান্নে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হল।
সূত্রের খবর, আগামী দিনে মুকেশ আম্বানি নিজে বাংলায় এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। সেই বৈঠকেই রাজ্যে রিলায়েন্সের সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিস্তারিত রূপরেখা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবারের বৈঠকের পর প্রকল্পভিত্তিক আরও একাধিক বৈঠক হবে বলেও জানা গিয়েছে।
রিলায়েন্সের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলির জন্য প্রয়োজনীয় জমি হাতে পাওয়া গেলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই কাজ পুরোদমে শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের তরফে সম্ভাব্য প্রকল্পগুলির জন্য বিভিন্ন জায়গায় জমির প্রাপ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য রিলায়েন্স কর্তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থার প্রতিনিধিরা সেই তথ্য পর্যালোচনা করে প্রকল্পগুলি চূড়ান্ত করবেন বলে সূত্রের খবর।
রাজ্যে শিল্পায়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে জানান, বিভিন্ন শিল্প ও পরিকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
মুম্বই সফর থেকে ফিরে মুখ্যমন্ত্রী আগেই বলেছিলেন, ‘‘অনেক বিনিয়োগ হবে, দেখতে থাকুন।’’ বুধবার মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে বিদ্যাসাগরের জন্মভিটেতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি জানান, ওই দিনই রিলায়েন্স কর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক রয়েছে। বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হবে, বিনিয়োগ আসবে এবং তার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলায় তৃণমূলের শাসনকালেও মুকেশ আম্বানি একাধিকবার বাণিজ্য সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে রাজ্যে বিনিয়োগের কথা জানিয়েছিলেন। তবে সেই সময় ঘোষিত বিনিয়োগের বড় অংশ বাস্তবে কতটা রূপ পেয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য ইতিমধ্যেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে রাজ্যে শিল্প ও বিনিয়োগের পথে কোনও ধরনের বাধা তৈরি হতে দেওয়া হবে না।
সূত্রের খবর, রিলায়েন্স পশ্চিমবঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রকল্প গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। সম্ভাব্য প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে ডেটা সেন্টার, আন্তর্জাতিক কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন, কয়লা থেকে গ্যাস উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ফুড পার্ক, সড়ক পরিকাঠামো এবং একটি হাসপাতাল।
রাজারহাটের সিলিকন ভ্যালি হাবে ইতিমধ্যেই রিলায়েন্সকে ৪০ একর জমি দেওয়া হয়েছে। সেখানে নির্মাণকাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি দিঘায় প্রস্তাবিত কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনটি সমুদ্রের নীচে থাকা ডেটা কেবলের মাধ্যমে বাংলাকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এ ছাড়াও কয়লা থেকে গ্যাস উৎপাদনের প্রকল্পে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছে রিলায়েন্স। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও সংস্থাটি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সব মিলিয়ে বুধবারের বৈঠকের পর রাজ্যে রিলায়েন্সের একাধিক নতুন প্রকল্পের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। তবে প্রকল্পগুলির চূড়ান্ত রূপরেখা, বিনিয়োগের পরিমাণ এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা পরবর্তী বৈঠকগুলির পরই স্পষ্ট হবে।
❤ Support Us








