Advertisement
  • বৈষয়িক
  • সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

বিমা কমিশন কমানোর প্রস্তাব, প্রভাব শেয়ারবাজারে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিমা কমিশন কমানোর প্রস্তাব, প্রভাব শেয়ারবাজারে

উৎসবের মরসুমের মুখে ফের বড়সড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ারবাজার। বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, দিনভর ব্যাপক বিক্রির চাপে হু-হু করে পড়ল সেনসেক্স ও নিফটি। মাত্র কয়েক ঘণ্টার লেনদেনেই বিপুল পরিমাণ বাজারমূল্য খোয়া যাওয়ায় মাথায় হাত পড়ে লগ্নিকারীদের। বাজারের এই পতনের নেপথ্যে একাধিক কারণের কথা বলছেন আর্থিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তবে জীবন, স্বাস্থ্য ও গাড়ির বিমায় কমিশন এবং লভ্যাংশ সংক্রান্ত বিধিনিষেধের প্রস্তাবকেই এই ধসের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বাজার খোলার পর থেকেই নিম্নমুখী ছিল শেয়ার সূচকগুলি। দুপুর দেড়টার মধ্যেই সেনসেক্স প্রায় ১,১০০ পয়েন্ট পড়ে যায়। দিনের শেষে পতনের পরিমাণ আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১,২৪৭.৭১ পয়েন্টে। এর ফলে ১.৬৭ শতাংশ কমে ৭৩,৫৮০.৫৪ পয়েন্টে থামে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) প্রধান সূচক সেনসেক্স।

একই ছবি দেখা যায় ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জেও। বৃহস্পতিবার ৩৮৩.৭০ পয়েন্ট পড়ে ২৩,০৬৩.১০ পয়েন্টে দিনের লেনদেন শেষ করে নিফটি-৫০। শতাংশের হিসাবে এই পতন ১.৬৪ শতাংশ।

শুধু বড় সূচকগুলিই নয়, বাজারের বিভিন্ন ক্ষেত্রের সূচকেও এ দিন ব্যাপক পতন দেখা যায়। ভারতীয় শেয়ারবাজারে প্রধান শিল্পক্ষেত্রগুলির ভিত্তিতে মোট ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ সূচক রয়েছে। লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মধ্যে ১৪টি সূচক নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ শেয়ারে বিক্রির চাপ ছিল উল্লেখযোগ্য। নিফটি মিডক্যাপ-৫০, নিফটি মিডক্যাপ-১০০ এবং নিফটি স্মলক্যাপ-১০০ সূচক যথাক্রমে ২.৫৭ শতাংশ, ২.২৫ শতাংশ এবং ১.৫৩ শতাংশ কমেছে।

বাজারে আতঙ্কের মাত্রা কতটা বেড়েছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে ‘ইন্ডিয়া ভোলাটিলিটি ইনডেক্স’ বা ‘ইন্ডিয়া ভিআইএক্স’-এর গতিবিধিতেও। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত বাজার-অস্থিরতা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত এই সূচকটিকে অনেক সময় ‘ভয় সূচক’ বলা হয়। বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়া ভিআইএক্স ২২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ১২.৬৪ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। বাজারে অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ যে যথেষ্ট বেড়েছিল, এই উত্থান তারই ইঙ্গিত দেয়।

এই বাজার-ধসের অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে বিমা খাত সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, জীবন, স্বাস্থ্য এবং গাড়ির বিমা নিয়ে নতুন কিছু প্রস্তাব প্রকাশ্যে আসে। সেখানে বিমা সংস্থাগুলির কমিশন কমানো-সহ একাধিক নতুন শর্তের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবগুলি কার্যকর হলে বিমা সংস্থাগুলির মুনাফায় চাপ পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বাজারে। সেই আশঙ্কাতেই বিমা সংস্থাগুলির শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়।

এর প্রভাব পড়ে বিমা সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাঙ্কগুলির শেয়ারেও। উদাহরণ হিসেবে পিবি ফিনটেক এবং ম্যাক্স ফিনান্সিয়ালের কথা বলা যায়। বৃহস্পতিবার পিবি ফিনটেকের শেয়ারের দাম প্রায় ৩৪ শতাংশ এবং ম্যাক্স ফিনান্সিয়ালের শেয়ার প্রায় ৯.৭১ শতাংশ কমে যায়।

বিমা খাতের পাশাপাশি ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক পরিষেবা সংস্থাগুলির শেয়ারেও বড়সড় পতন দেখা যায়। অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের শেয়ারের দাম ৪.০৯ শতাংশ এবং এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শেয়ার ১.০১ শতাংশ কমেছে। একই ভাবে বিক্রির চাপ দেখা যায় বজাজ গোষ্ঠীর আর্থিক পরিষেবা সংস্থাগুলিতেও। বৃহস্পতিবার বজাজ ফিনসার্ভের শেয়ার ৪.৩৩ শতাংশ এবং বজাজ ফিনান্সের শেয়ার ৫.৮৭ শতাংশ পড়ে যায়।

সব মিলিয়ে বিমা কমিশন ও অন্যান্য বিধিনিষেধ সংক্রান্ত প্রস্তাবকে ঘিরে তৈরি হওয়া উদ্বেগ, আর্থিক ও ব্যাঙ্কিং সংস্থার শেয়ারে ব্যাপক বিক্রি এবং বাজারের সামগ্রিক অস্থিরতা—এই একাধিক কারণেই বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে বড় পতন দেখা গেল। সেনসেক্স ও নিফটির পাশাপাশি মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ সূচকের পতনও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!