Advertisement
  • বি। দে । শ
  • অক্টোবর ৮, ২০২৬

সৌদির দুই বিমানবন্দরে ফের হুথিদের হামলা ! নিহত ৩, জখম বহু, হুমকির মুখে হরমুজের বিকল্প পথ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সৌদির দুই বিমানবন্দরে ফের হুথিদের হামলা ! নিহত ৩, জখম বহু, হুমকির মুখে হরমুজের বিকল্প পথ

হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলা বিপন্ন সৌদি আরব। একের পর এক ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও তেল স্থাপনাগুলির ওপর হুমকি ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বুধবার রাতে সৌদি আরবের দুটি বিমানবন্দরে হুথিদের ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, বাব আল–মানদেব প্রণালীতেও লড়াই তীব্রতর হয়েছে। মানদেব প্রণালীতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে।

হুথিরা সৌদি আরবের আভা ও দিং খালিদ বিমানবন্দরে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালায়। আভা বিমানবন্দরের হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুইজন নাগরিক নিহত এবং আরও ২৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হামলায় একজন সুদানি নাগরিক নিহত এবং আরও ৮ জন আহত হয়েছেন। যদিও সৌদি আরব প্রশাসন এখনো হামলার কথা স্বীকার করেনি। তবে ইরানসমর্থিত ইয়েমেনি হুথি বিদ্রোহীরা উভয় বিমানবন্দরে হামলার কথা স্বীকার করেছে। এর আগে, বুধবার হুথিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সৌদি আরব আবার একটা নতুন রণাঙ্গনে জড়িয়ে পড়ছে, যা হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প সমুদ্রপথকেও হুমকির মুখে ফেলেছে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন যে, তারা রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, রিয়াদের উত্তরে একটা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতে, ফ্লাইট চলাচল অল্প সময়ের জন্য প্রভাবিত হয়েছিল। হুথি বিদ্রোহীদের এই হামলার জবাবে ইয়েমেনে বড় ধরনের স্থল ও আকাশ অভিযান শুরু করেছে সৌদি আরব এবং তার মিত্র ইয়েমেনি বাহিনী। এর লক্ষ্য হলো এক মাস আগে বিদ্রোহীদের দখল করা এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করা। এই এলাকাগুলো ইয়েমেনের পশ্চিম লোহিত সাগর উপকূল এবং বাব আল–মানদেব প্রণালীর কাছে অবস্থিত। এলাকাগুলো হুথি বিদ্রোহীদের উন্নততর নজরদারির সুবিধা দিচ্ছিল। তারা সৌদি আরবের জাহাজ চলাচল বন্ধ করার চেষ্টা করছে।

ইয়েমেন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বাহিনী বাব আল–মানদেব প্রণালীর চারপাশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে। বিশ্বের প্রায় ১২ শতাংশ বাণিজ্য এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার’ তাদের বিশ্লেষণে বলেছে যে, হুথি বিদ্রোহীরা বিশ্বাস করে, তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে তারা সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়াতে পারবে। এটি সৌদি আরবকে হুথি বিদ্রোহীদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করতে পারে। হুথিদের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা সৌদি আরবের আভা বিমানবন্দরকেও লক্ষ্যবস্তু করেছে, যা হুথি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের একটা নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু। হুথি বিদ্রোহীরা আরও দাবি করেছে যে, তারা খামিস মুশাইত শহরের একটা বিমানঘাঁটি এবং নাজরান ও আসিরের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো সবই ইয়েমেন সীমান্তের কাছে দক্ষিণ–পশ্চিমে অবস্থিত।

হুথি বিদ্রোহী এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার উভয়ের মতে, ইয়েমেনের অভ্যন্তরে লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু এখনও গুরুত্বপূর্ণ শহর ধুবাব এবং এর আশেপাশেই রয়েছে। ধুবাব বন্দর নগরী মোখা থেকে প্রায় ৫৪ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত, যা হুথি বিদ্রোহীরা গত মাসে দখল করেছিল। দক্ষিণ–পশ্চিমের তাইজ প্রদেশের ওয়াজিয়া জেলাতেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এই এলাকাটি ইয়েমেনের পার্বত্য অঞ্চলকে লোহিত সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে এবং বাব আল–মানদেব প্রণালীর দিকে যাওয়া রাস্তাগুলোর ওপর অবস্থিত। আল–মালিকি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে পূর্ণাঙ্গ সামরিক সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, হুথি বিদ্রোহীদের নির্মূল না করা পর্যন্ত এই সমর্থন অব্যাহত থাকবে। জোট জানিয়েছে যে, এই অভিযানে ১০০টি যুদ্ধবিমান সহায়তা করছে। আরেকটি লক্ষ্য হলো ইয়েমেনের বিদ্রোহী–নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানাকে মুক্ত করা। হুথি নেতা আব্দুল মালিক আল–হুথি, হুথিদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযানে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন করার জন্য সৌদি আরবের সমালোচনা করেছেন।

চার বছরের যুদ্ধবিরতির পর এই নতুন উত্তেজনা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে পুনরায় উস্কে দিয়েছে। জাতিসংঘের মতে, সাম্প্রতিক লড়াইয়ে প্রায় ১০০০ মানুষ নিহত হয়েছে। ২ লক্ষেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই সপ্তাহে জানিয়েছে যে কলেরা ও অপুষ্টির প্রকোপ বাড়ছে। কিছু হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরবরাহের অভাবে গুরুতর আহতদের চিকিৎসা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!