- বি। দে । শ
- অক্টোবর ১২, ২০২৬
ভূমিধসে নদীর গতিরোধ, নেপালে ফের হড়পা বান ! ভাঙল অস্থায়ী বাঁধ, ভেসে গেল বাড়ি-সেতু, ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প
প্রকৃতির রোষ যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না নেপালের। গত আগস্টে হিমালয়ের কোলের ভয়াবহ বিপর্যয়ের স্মৃতি এখনো টাটকা। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহেও প্রবল বর্ষণ ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়েছে দেশের একাধিক এলাকা। সে ক্ষত সামলে ওঠার আগেই রবিবার ভোরে ফের হড়পা বানের তাণ্ডব। এ বার বিপর্যয়ের কেন্দ্র গোরখা জেলা। ত্রিশূলী নদীর উপনদী বুধি গণ্ডকীতে আচমকা জল বেড়ে ভেসে গেল বাড়িঘর, সেতু এবং নদীর ধারের একাধিক পরিকাঠামো। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, অন্তত ৫ জন নিখোঁজ। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর মেলেনি। বিপর্যস্ত এলাকা থেকে ৯৫ জনকে উদ্ধার করেছে নেপালের সেনাবাহিনী। তাঁদের মধ্যে ৯ জন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
নেপাল প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, গোরখা জেলার চুমচেতের কাছে পাহাড়ি এলাকায় বড়ো ধরনের ভূমিধসের জেরে বুধি গণ্ডকী নদী অথবা তার কোনো উপনদীর জলপ্রবাহ সাময়িক ভাবে আটকে গিয়েছিল। তাতে তৈরি হয়েছিল অস্থায়ী প্রাকৃতিক বাঁধ। পরে সে বাধা ভেঙে জমে থাকা জল, কাদা, পাথর ও পলি প্রবল বেগে নীচের দিকে নেমে আসে। তার জেরেই এই বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে। যদিও প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। হিমবাহ থেকে বরফের বিশাল স্তূপ ধসে পড়ার কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রবিবারের ঘটনার ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। তাতে দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ি উপত্যকার মধ্যে দিয়ে কালচে ও ছাইরঙা কাদামিশ্রিত জল প্রবল বেগে নেমে আসছে। তার তোড়ে ভেঙে পড়ছে বাড়িঘর, ভেসে যাচ্ছে নির্মাণ ও নদীর উপর থাকা সেতু। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যাচ্ছে নদীর চেহারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বিপদের আঁচ পেয়ে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু এলাকায় আশ্রয় নেন। কেউ কেউ আবার শেষ মুহূর্তে নিরাপদ স্থানে পৌঁছতে পেরেছেন। জল নেমে যাওয়ার পরেও বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন না বহু মানুষ।
বুধি গণ্ডকী নদীতে জল কত দ্রুত বেড়েছিল, তার ইঙ্গিত মিলেছে প্রশাসনের প্রাথমিক পরিসংখ্যানে। নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, রবিবার সকাল ৬টা ৩০ মিনিট নাগাদ নদীর জলস্তর ছিল ৩.৬৬ মিটার। মাত্র ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের মধ্যে, সকাল ৮টা ৪০ মিনিট নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮.৪৩ মিটারে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে জলস্তর বেড়েছে প্রায় ৪.৮ মিটার। শেষ দশ মিনিটেই জলস্তর প্রায় ২ মিটার বেড়ে গিয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। নদীর বিপদসীমা যেখানে ৫ মিটার, সেখানে জলস্তর পৌঁছে যায় ৮.৪৩ মিটারে। আকস্মিক জলস্ফীতি থেকেই বোঝা যায়, কত দ্রুত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল নদীর ধারের জনবসতিগুলি। স্বাভাবিক বর্ষার বন্যার মতো ধীরে ধীরে জল বাড়ার সুযোগ ছিল না বাসিন্দাদের হাতে। বরং অল্প সময়ের মধ্যে নদীর জলস্তর বিপদসীমার অনেক উপরে উঠে যাওয়ায় নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য সময় পেয়েছেন খুব কম মানুষ। জলস্তর পরিমাপের কাজে ব্যবহৃত কেন্দ্রটিও বন্যার তোড়ে ভেসে গিয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের জাতীয় বিপর্যয় ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ)। ওই কেন্দ্রের সঙ্গে সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নদীর পরবর্তী জলস্তর সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, পরিমাপ কেন্দ্রটি ভেসে যাওয়ায় সেখান থেকে আর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এই হড়পা বান শুধুমাত্র বৃষ্টির কারণে হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে না। প্রাথমিক তথ্য, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিবরণ ও উপগ্রহের পাঠানো ছবি বিশ্লেষণ করে নদীর জলপ্রবাহ কোথাও আটকে যাওয়ার সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত মিলেছে। পরে সে বাধা ভেঙে বিপুল জলরাশি নীচের দিকে নেমে এসে বিপর্যয় ঘটিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু ঠিক কোথায় এবং কী ভাবে জল আটকে গিয়েছিল, তা জানতে আরও বিশদ বিশ্লেষণ প্রয়োজন। গোরখার মুখ্য জেলা আধিকারিক ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, রবিবার ভোর ৪টা ৩৫ মিনিট নাগাদ তিনি নতুন হড়পা বানের খবর পান। চুমনুব্রি গ্রামীণ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দিক থেকে জল নেমে এসেছিল। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, সিউরিবাসের উপরের দিকে একটি ভূমিধস হয়। তার জেরেই নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। চুমনুব্রি গ্রামীণ পুরসভার চেয়ারম্যান নিমা লামার বক্তব্য, ভূমিধসের ফলে চুমকে খোলা নদীর গতিপথ আটকে গিয়েছিল। তার পরেই জল নেমে আসে নীচের দিকে। স্থানীয় প্রশাসনের আর এক আধিকারিক নারায়ণ সাপকোটা জানিয়েছেন, উজানের দিকে নদীর প্রবাহ আটকে গিয়ে অস্থায়ী বাঁধ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে আচমকা জলস্রোত তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে ভূমিধসের জেরে নদীর গতিপথ আটকে যাওয়ার কোনো ব্যাখ্যাই এখনো চূড়ান্ত নয়। স্থানীয় কয়েক জন বাসিন্দা উজানের দিকে বরফের ধস দেখতে পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। ফলে হিমবাহ বা বরফের স্তূপ ধসে পড়ার সঙ্গে এ বিপর্যয়ের কোনো যোগ রয়েছে কি না, সে সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞেরা।হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের আন্তঃসরকারি সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট’ (আইসিআইএমওডি)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত প্রাথমিক মূল্যায়নেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে। যদিও, সে মূল্যায়নে ঘটনাটিকে সরাসরি ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’ বা হিমবাহ-হ্রদের জল উপচে পড়ার বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত করার মতো প্রমাণ মেলেনি। বরং বরফের ধসের পরে হ্রদের জল সরে যাওয়া আর ভূমিধসের ফলে নদীর গতিপথে পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ, হড়পা বানের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আরও তথ্যের প্রয়োজন।
বন্যার সবচেয়ে বড়ো ধাক্কা লেগেছে বুধি গণ্ডকী নদীর ধারের বসতিগুলিতে। গোরখার জগৎ এলাকায় নদীগর্ভে থাকা পাঁচ থেকে সাতটি বাড়ি ভেসে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্য জেলা আধিকারিক মিশ্র। নদীর আরও নীচের দিকে কয়েকটি বাড়িও ভেসে গিয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নেপালের বিপর্যয় ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০০-র বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে ৬৫০-র বেশি মানুষের জীবনে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ৩৫টির বেশি বাড়ি ও সেতু ভেসে যাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রশাসনিক সূত্রে ক্ষয়ক্ষতির যে হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, তার মধ্যে এখনো পার্থক্য রয়েছে। তাই মোট কতগুলি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, কতগুলি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত, তা নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না।
তবে, নদীর ধারে থাকা একাধিক ঝুলন্ত সেতু ভেসে গিয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলে এ ধরনের সেতুই অনেক সময় এক জনপদের সঙ্গে অন্য জনপদের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। ফলে সেতু ভেঙে যাওয়ায় বহু এলাকার মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নদীতীরবর্তী সড়ক এবং অন্যান্য পরিকাঠামোও। কোথাও কোথাও উদ্ধারকারী দলের পক্ষে স্থলপথে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের তরফে মাইকে প্রচার চালিয়ে এবং মোবাইল বার্তা পাঠিয়ে মানুষকে সতর্ক করা হয়। বন্যার জল না কমা পর্যন্ত নদীর কাছাকাছি না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিপর্যয়ের পরেই উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে নেমেছে নেপালের সেনাবাহিনী। জগৎ এলাকা থেকে ৬ জনকে হেলিকপ্টারে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, কাঠমান্ডুতে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য বিশেষ দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানের জন্য চারটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনা।
নেপালের সেনাবাহিনীর দাবি, নদীর ধারের বিপর্যস্ত এলাকা থেকে ৯৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৯ জন বিদেশি নাগরিক। তবে অন্তত পাঁচ জনের খোঁজ এখনো মেলেনি। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।প্রশাসনের আশঙ্কা, নদীর উজানে আবার কোথাও জল আটকে থাকলে নতুন করে জলস্ফীতি ঘটতে পারে। তাই উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নদীর গতিপথের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। বন্যার জেরে ক্ষতি হয়েছে বুধি গণ্ডকী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেরও। সেলেরির কাছে ৩৪১ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্পের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কিছু যন্ত্রপাতি জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের উপর বিপর্যয়ের সামগ্রিক প্রভাব নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।
জলবিদ্যুৎ নেপালের শক্তি উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাহাড়ি নদীর জলকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কর্মসংস্থান, নির্মাণকাজ এবং স্থানীয় অর্থনীতির প্রশ্নও। ফলে বন্যায় প্রকল্পের ক্ষতি হলে তার প্রভাব শুধু পরিকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তবে এই ক্ষেত্রে প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদন বা নির্মাণকাজ কতটা ব্যাহত হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। বন্যার জেরে নদীর জলস্তর পরিমাপের কেন্দ্রটিও ভেসে যাওয়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। নেপাল সরকারের সঙ্গে যুক্ত আবহবিদ বিনোদ পরাজুলি জানিয়েছেন, ওই কেন্দ্রটি ভেসে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার জলস্তরের তথ্য আর পাওয়া যাচ্ছে না। পাহাড়ি নদীর জলপ্রবাহের আকস্মিক পরিবর্তন বুঝতে এ ধরনের পরিমাপ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ। তাই কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন করে জল বাড়ার আশঙ্কা নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আগস্টের ভয়াবহ বিপর্যয়ের ক্ষতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছে নেপাল। সে সময় গিয়রং-রাসুওয়া অঞ্চলে হিমবাহের বিশাল অংশ ধসে পড়ার জেরে বিপর্যয় নেমে এসেছিল। ওই ঘটনায় ১,৪৫৪ জনের মৃত্যুর কথা জানা গিয়েছিল। নিখোঁজ ছিলেন ৫,২০০-র বেশি মানুষ। এর পরে ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রবল বর্ষণ ও ভূমিধসে আরও ২১ জনের মৃত্যু হয় এবং ১৪৩ জন গৃহহীন হয়ে পড়েন। আগস্ট বিপর্যয়ের পরে বহু পরিবারকে নতুন করে ঘরবাড়ি গড়ে তোলার লড়াইয়ে নামতে হয়েছে। শিশুদের পড়াশোনা, জীবিকা, খাদ্য আর নিরাপদ আশ্রয়ের মতো মৌলিক বিষয়গুলি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই নতুন করে হড়পা বান আসায় দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ জানিয়েছে, দুর্গত শিশুদের সাহায্যে একটি জরুরি সহায়তা দল পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। নেপালে সংস্থার অধিকর্তা তারা ছেত্রী বলেছেন, ‘শিশুদের জীবন আবার এক মুহূর্তে তছনছ হয়ে গিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ ছবি এখন আমাদের সামনে আসেনি। তবে অনেক শিশু হয়তো তাদের বাড়ি, স্কুল কিংবা পরিচিত জনপদ হারিয়েছে। আগস্টের ভয়াবহ বন্যার পরে গোরখার বহু শিশু এখনো মানসিক ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। নিজেদের জীবন আবার গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়ার আগেই তাদের ফের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হলো।’
উল্লেখ্য, বুধি গণ্ডকী নদী ত্রিশূলী নদীর একটি উপনদী। হিমালয়ের খাড়া ঢাল, দ্রুত জলপ্রবাহ এবং ভূমিধসের ঝুঁকির কারণে এই নদী অববাহিকা বরাবরই বিপর্যয়প্রবণ। এর আগে, ২৪ সালের এপ্রিলেও একই উপত্যকায় বড় ধরনের বন্যার ঘটনা ঘটেছিল। সে বার মানাসলু হিমবাহের প্রান্ত থেকে বরফের বিশাল স্তূপ ধসে বিরেন্দ্র তাল হ্রদে পড়ে। তার ফলে হ্রদের জল আচমকা উপচে বুধি গণ্ডকী নদীতে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি করে। এ বারের ঘটনায় সেই পুরনো বিপর্যয়ের স্মৃতি ফিরে এসেছে। নেপালের হিমালয় অঞ্চলে ভূমিকম্প, ভূমিধস আর বন্যার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি দীর্ঘদিনের। পাহাড়ি ঢালের অস্থিতিশীলতা, আকস্মিক বৃষ্টিপাত, নদীর প্রবল স্রোত এবং হিমবাহের পরিবর্তনশীল অবস্থার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ দ্রুত গলছে। এর জেরে হিমবাহ-সংলগ্ন হ্রদের আয়তন বৃদ্ধি, বরফের স্তূপের অস্থিতিশীলতা এবং পাহাড়ি নদীতে আকস্মিক জলস্রোত তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
❤ Support Us







