Advertisement
  • বি। দে । শ
  • অক্টোবর ১২, ২০২৬

ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত আমেরিকার জনজীবন ! মৃত চার, বিদ্যুৎহীন লক্ষ লক্ষ মানুষ, মেক্সিকোতেও জারি সতর্কতা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে  বিপর্যস্ত আমেরিকার জনজীবন !  মৃত চার, বিদ্যুৎহীন লক্ষ লক্ষ মানুষ, মেক্সিকোতেও জারি সতর্কতা

প্রবল ঝড়, মুষলধারে বৃষ্টি আর বন্যার জেরে বিপর্যস্ত আমেরিকার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল। হারিকেন ইসাইয়াসের দাপটে অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে। উপড়ে পড়েছে গাছ, উড়েছে বাড়ির ছাদ, ভেঙে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকাঠামো। প্রায় আট লক্ষ বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ফ্লরিডা ও আলাবামার বিস্তীর্ণ এলাকায় সাড়ে তিন লক্ষেরও বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন। কোথাও পানীয় জলের সঙ্কট, কোথাও আবার রাস্তায় জমে থাকা বন্যার জল আর ছড়িয়ে থাকা বিদ্যুতের তারের কারণে বন্ধ যান চলাচল। ঝড়ের তীব্রতা কমলেও বিপদ কাটেনি।

২৬ সালের আটলান্টিক ঘূর্ণিঝড় মরসুমের প্রথম হারিকেন ইসাইয়াস শুক্রবার ফ্লরিডার ডেস্টিনের কাছে উপকূলে আছড়ে পড়ে। স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঝড়টি দ্বিতীয় শ্রেণির হারিকেনের শক্তি নিয়ে এগোচ্ছিল। তার সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১০৫ মাইল বা ১৬৮ কিলোমিটার। পরে উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শক্তি হারিয়ে ক্রান্তীয়-উত্তর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় সেটি। কিন্তু ঝড়ের দাপট কমলেও তার রেখে যাওয়া ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট দক্ষিণের একাধিক রাজ্যে। ফ্লরিডা ও আলাবামায় দু-জন করে মোট চার জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে প্রশাসন। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এমন ব্যক্তিরাও, যাঁদের বাড়ির উপর গাছ ভেঙে পড়েছিল। ফ্লরিডার এসকাম্বিয়া কাউন্টিতে এক মহিলার বাড়ির উপর গাছ পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয় শেরিফ চিপ সিমন্স জানান, ঝড়ের কারণে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের বিষক্রিয়ায়। বাড়ির গ্যারাজে যথাযথ বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না রেখেই জেনারেটর চালানো হয়েছিল। সেই জেনারেটর থেকে নির্গত গ্যাসের বিষক্রিয়ায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। একই বাড়িতে থাকা আরও চার জনকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে।

শুধু বাড়িঘর নয়, ঝড়ের জেরে বিপদের মুখে পড়েছেন রাস্তায় থাকা মানুষও। বন্যার জলে ডুবে যাওয়া গাড়ি থেকে একাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে হয়েছে। ফ্লরিডার ন্যাশনাল গার্ডের তরফে প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা গিয়েছে, বন্যার জলে ভরা নালায় আটকে রয়েছে একটি ট্রাক। সেনারা জলে নেমে গাড়িটির কাছে পৌঁছন এবং ভিতরে থাকা যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার করেন।

ফ্লরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস জানিয়েছেন, ঝড়ের পরে জল জমে থাকার কারণে পরিস্থিতি এখনও বিপজ্জনক। বন্যার আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। তাই বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ঝড়ের আগেই ফ্লরিডা, আলাবামা ও জর্জিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। ফ্লরিডা ও আলাবামার বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

আলাবামায় উদ্ধারকাজে গিয়ে আহত হয়েছেন এক শেরিফ। গাড়ি দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় তাঁর উপর একটি গাছ ভেঙে পড়ে। রাজ্যের গভর্নর কে আইভি সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, ঝড়ের কারণে দু-জন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁদের মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি। প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির কারণে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ঘূর্ণিবায়ু বা টর্নেডো তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর। সপ্তাহান্তে যাঁদের যাতায়াতের পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।  ঝড়ের প্রভাবে সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে ফ্লরিডার প্যানহ্যান্ডল অঞ্চলের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পেনসাকোলায়। সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু বাড়ি ও ভবনের ছাদ উড়ে গিয়েছে। পেনসাকোলার ‘রেস্ট অ্যান্ড রিল্যাক্স ইন’ হোটেলের ছাদ ঝড়ে সম্পূর্ণ উড়ে যায়। ডেস্টিনে একটি নৌকাঘরও ভেঙে পড়েছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের হিসাব রাখা স্বাধীন ওয়েবসাইট ‘পাওয়ারআউটেজ ডট কম’-এর তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দুপুরের পরেও দক্ষিণ আলাবামা এবং ফ্লরিডার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। ঝড়ের সর্বোচ্চ তীব্রতার সময়ে উপসাগরীয় উপকূলের প্রায় আট লক্ষ বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ফ্লরিডার বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ‘ফ্লরিডা পাওয়ার অ্যান্ড লাইট’-এর কর্মীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আমেরিকার আরও দুই ডজনের বেশি রাজ্য থেকে আসা কর্মীরা। পেনসাকোলায় বিদ্যুতের পাশাপাশি পানীয় জলের সঙ্কটও দেখা দিয়েছে। ঝড়ের জেরে পানীয় জলের কুয়ো এবং জল সরবরাহের পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র ডিসি রিভস। বাসিন্দাদের কলের জল ব্যবহারের আগে ফুটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণের আশায় শনিবার সকালে স্বেচ্ছাসেবী বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থা ‘ইউনাইটেড কাজুন নেভি’-র বিতরণ কেন্দ্রের সামনে কয়েকশো গাড়ির সারি দেখা যায়।

সমাজমাধ্যমে রিভস লেখেন, ঝড় মোকাবিলা ও পুনরুদ্ধারের কাজের তৃতীয় দিনেও প্রশাসনের মূল লক্ষ্য জনসুরক্ষা, রাস্তাঘাট থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানো এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও পরিষেবা ফের চালু করা। ক্ষতিগ্রস্ত বিমান পরিষেবাও কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির কারণে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পেনসাকোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। আলাবামার হিউস্টন কাউন্টিতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। রাস্তায় উপড়ে পড়ে রয়েছে গাছ ও বিদ্যুতের তার। আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সেখানে জরুরি সতর্কতা জারি রয়েছে। রাজ্যের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা সংস্থা সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে, হারিকেনের প্রভাবে কাউন্টির সমস্ত রাস্তা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝড়ের প্রভাব ফ্লরিডা ও আলাবামাতেই সীমাবদ্ধ নয়। উত্তর-পূর্ব দিকে এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ইসাইয়াসের শক্তি কমলেও ক্যারোলাইনা ও জর্জিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। আমেরিকার জাতীয় সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কিছু এলাকায় ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার চার্লস্টনে শনিবার রাতে জোয়ারের জল ৭.৫ ফুট বা ২.৩ মিটার পর্যন্ত ওঠার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। শহর প্রশাসনের সতর্কবার্তা ছিল, অন্ধকারে বন্যার জল দেখা কঠিন। গাড়ির ভিতর থেকে জলের গভীরতা আন্দাজ করাও প্রায় অসম্ভব।

আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলে ইসাইয়াসের তাণ্ডবের মধ্যেই প্রশান্ত মহাসাগরের অন্য প্রান্তে নতুন করে বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে হারিকেন সাইমন। মেক্সিকোর পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে আসা এই ঘূর্ণিঝড় রবিবার তৃতীয় শ্রেণির হারিকেন হিসেবে তাণ্ডব চালায়। ঝড়ের কেন্দ্র উপকূলের ঠিক বাইরে অবস্থান করলেও প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পুয়ের্তো ভাল্লার্তার দিকে ঝড় এগিয়ে আসায় উদ্বেগ বেড়েছে বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে। আমেরিকার জাতীয় হারিকেন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সাইমনের সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ কমে ঘণ্টায় ১২০ মাইল বা ১৯৫ কিলোমিটার হয়েছিল। কিন্তু শক্তি কমলেও ঝড়টি বিপজ্জনক অবস্থাতেই ছিল। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার মধ্যরাত নাগাদ পুয়ের্তো ভাল্লার্তা অঞ্চলে ঝড়ের সবচেয়ে তীব্র বাতাস ও বৃষ্টির প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল। সোমবার সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি বিপজ্জনক থাকতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল। জালিস্কো প্রদেশের এই পর্যটনকেন্দ্রের চারপাশে রয়েছে সমুদ্র ও সিয়েরা মাদ্রে পর্বতমালা। সমুদ্রতীরের বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্রগুলির ভিতরের দিকে বহু মানুষের বসতি। তাঁদের অনেকের বাড়িঘর প্রবল ঝড়ের ধাক্কা সামলাতে পারবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।

মেক্সিকোর জাতীয় হারিকেন কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ফিলিপ প্যাপিন জানিয়েছেন, মেক্সিকোর মূল ভূখণ্ডের পশ্চিমতম প্রান্ত কাবো কোরিয়েন্তেসে ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি আঘাত হানার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। ঝড়ের সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। প্যাপিনের জানান, মেক্সিকোর পশ্চিম-মধ্য উপকূলের যে এলাকায় হারিকেন সতর্কতা জারি রয়েছে, সেখানে বিধ্বংসী বাতাস ও প্রাণঘাতী জলোচ্ছ্বাসের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি এলাকায় বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত কোলিমা, জালিস্কো, নায়ারিত ও সিনালোয়া প্রদেশে আরও ২ থেকে ৪ ইঞ্চি বৃষ্টি হতে পারে। কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। মিচোয়াকান, কোলিমা ও জালিস্কোর কয়েকটি অঞ্চলে মোট বৃষ্টিপাত ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাতে নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে, কিংবা আগে থেকে বন্যাকবলিত এলাকাগুলির পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ঝড়ের আশঙ্কায় পুয়ের্তো ভাল্লার্তার রাস্তায় টহল দিচ্ছিল ন্যাশনাল গার্ডের গাড়ি। পুলিশ মাইকে ঘোষণা করে সমুদ্রতীরবর্তী এলাকা বন্ধ থাকার কথা জানায় এবং মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কয়েক জনকে সমুদ্রের ধারে হাঁটতে, দৌড়তে কিংবা সাইকেল চালাতে দেখা যায়।

জালিস্কো প্রাদেশিক প্রশাসন উপকূলবর্তী ২২টি পুরসভায় শুক্রবার ও সোমবারের জন্য স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজও শুরু হয়। পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে কর্মী ও পর্যটকদের নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম রবিবার সমাজমাধ্যমে জালিস্কো, কোলিমা, নায়ারিত ও মিচোয়াকানের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেন। সরকারি ভাবে বিপদ কেটে যাওয়ার ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তাঁদের আশ্রয়স্থল ছেড়ে বেরোতে নিষেধ করেন তিনি। পাশাপাশি নাগরিক সুরক্ষা বিভাগের নির্দেশ মেনে চলা এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেন। তবে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কার মধ্যেও পর্যটকদের আসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। পুয়ের্তো ভাল্লার্তার এক হোটেলকর্মী ভিক্টর মার্তিনেস জানান, গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় তিনি কাজে যেতে পারেননি। তাঁর হোটেলের অধিকাংশ অতিথিকেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের আগে প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে বেরিয়েছিলেন তিনি।

আমেরিকার উপসাগরীয় উপকূল থেকে মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল —  আপাতত দুই প্রান্তেই ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে বিপর্যস্ত জনজীবন। এক দিকে ইসাইয়াসের ক্ষত সারিয়ে বিদ্যুৎ, জল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার লড়াই চলছে। অন্যদিকে, সাইমনের সম্ভাব্য আঘাতের মুখে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ মানতে বলা হচ্ছে মেক্সিকোর উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের। ঝড়ের শক্তি কমার অপেক্ষার পাশাপাশি এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য প্রাণহানি ঠেকানো এবং বিপর্যয়ের পরিমাণ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!