Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২৭, ২০২৬

শক্তি বাড়িয়ে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’! অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ার পূর্বাভাস, বাংলায় বাড়বে বৃষ্টি, নামবে পারদ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শক্তি বাড়িয়ে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’! অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ার পূর্বাভাস, বাংলায় বাড়বে বৃষ্টি, নামবে পারদ

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে এই ঘূর্ণিঝড় তীব্র থেকে অতি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথের দিকে নজর রাখছেন আবহবিদরা। মঙ্গলবার রাতে গতিপথে পরিবর্তন এনে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ‘অর্ণব’। এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় দুর্যোগের আশঙ্কা বাড়ছে। অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গেও বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পাশাপাশি, আগামী কয়েক দিনে রাজ্যের তাপমাত্রা কমে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।

আবহাওয়া দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার সময় ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে এবং ওড়িশার গোপালপুর থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। পরবর্তী পর্যায়ে ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে বলে জানানো হয়েছে। সেই সময় গোপালপুর থেকে এর দূরত্ব ছিল প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে, বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া থেকে প্রায় ৪২০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে আবহবিদদের অনুমান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম ও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। এরপর রাতে গতিপথে বাঁক নিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাবে সেটি।

সব কিছু অনুকূলে থাকলে বুধবার, ২৮ অক্টোবর দুপুরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী কোনো এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে ‘অর্ণব’। ইয়ানাম সংলগ্ন উপকূলও সম্ভাব্য স্থলভাগে প্রবেশের এলাকার মধ্যে রয়েছে। স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। ফলে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগের আশঙ্কায় একগুচ্ছ ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওড়িশার স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় ঝড় ও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় প্রশাসনের সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, হাওড়া এবং হুগলি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এর পাশাপাশি বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। বুধবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই সময় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবারও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমান-সহ বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকার সম্ভাবনা থাকায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব শুধু বৃষ্টিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, রাজ্যের তাপমাত্রাতেও পরিবর্তন আসতে পারে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার থেকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় পারদ নিম্নমুখী হতে পারে। ফলে জেলায় জেলায় শীতের অনুভূতি আরও বাড়বে। যদিও বাংলায় এখনও পাকাপাকিভাবে শীতের আগমন ঘটেনি, ঋতুচক্র অনুযায়ী এখন হেমন্তকাল। তবে ভোর ও গভীর রাতে ইতিমধ্যেই ঠান্ডার আমেজ অনুভূত হচ্ছে। অনেক জেলাতেই সকালে হালকা চাদর গায়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সোমবার পুরুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগে এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সাধারণত ২০ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল। অন্যদিকে, কলকাতায় রাতের তাপমাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছে ২৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিক তাপমাত্রার কাছাকাছি।

আবহবিদদের অনুমান, বুধবার ও বৃহস্পতিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে নেমে আসতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কেটে গেলে তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সেই বৃদ্ধি খুব বেশি হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ফের তাপমাত্রা নিম্নমুখী হতে পারে। সব মিলিয়ে, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর গতিপথ ও শক্তির দিকে নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর। অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ঝড়ের সম্ভাব্য আঘাতের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও আগামী কয়েক দিন বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া এবং তাপমাত্রার পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও মৎস্যজীবীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির সর্বশেষ আপডেটের দিকে নজর রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!