Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ২৮, ২০২৬

দিল্লিতে এসসিও বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারতের, নজর কূটনৈতিক মহলে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিল্লিতে এসসিও বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারতের, নজর কূটনৈতিক মহলে

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজ়েশন (এসসিও)-এর আসন্ন অনুষ্ঠানে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানাল ভারত। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা এবং তার প্রত্যুত্তরে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটলেও বহুপাক্ষিক মঞ্চে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। শুধু পাকিস্তান নয়, এসসিও-র বাকি সদস্য দেশগুলিকেও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে।

আগামী ২০ থেকে ২২ নভেম্বর দিল্লিতে এই এসসিও-র অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। সংবাদসূত্রের খবর, সেখানে যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের সংস্কৃতিমন্ত্রী ঔরঙ্গজেব খানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সম্মেলনের সঙ্গে যুক্ত কর্তাদের বক্তব্য, এসসিও-র সমস্ত সদস্য দেশের প্রতিনিধিদেরই এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁদের মতে, এটি একটি বহুপাক্ষিক উদ্যোগ। তাই ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপড়েনের সঙ্গে বিষয়টিকে সরাসরি যুক্ত করে দেখা উচিত নয়। বরং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেই এই আমন্ত্রণকে দেখছে নয়াদিল্লি। তবে ভারতের আমন্ত্রণ নিয়ে পাকিস্তানের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ওই হামলার জবাবে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায়। সেই অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করার দাবি করে ভারতীয় সেনা। এরপর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েন অব্যাহত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নিজেদের অবস্থান বারবার স্পষ্ট করেছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও রকম আপস করা হবে না। জঙ্গিদমনের ক্ষেত্রে ভারত ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী বলেও বারবার জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে অন্য দেশগুলিকেও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ভারত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক মন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদত দিয়ে আসছে। যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের অবস্থানও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে কিরঘিজ়স্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত এসসিও-র ২৬তম সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দ্বিচারিতার বিরোধিতা করে তিনি বলেছিলেন, “সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় দ্বিচারিতার কোনও স্থান নেই।”

সন্ত্রাসবাদকে যারা নিজেদের নীতির অংশ করে নিয়েছে এবং জঙ্গিদের আশ্রয় ও সাহায্য দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলকে একজোট হওয়ার বার্তাও দিয়েছিলেন মোদী। তাঁর বক্তব্য ছিল, সন্ত্রাসবাদ কখনও কোনও দেশের কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না। এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসবাদে মদতদাতা দেশগুলির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি।

ভারতের বক্তব্য, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সন্ত্রাসবাদ ছাড়াও কাশ্মীর প্রশ্নে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তান বারবার কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছে। অন্য দিকে, ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়। এই প্রশ্নে তৃতীয় কোনও পক্ষের হস্তক্ষেপ বা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিষয়টি উত্থাপনকে সমর্থন করে না নয়াদিল্লি।

এই মতপার্থক্যের জেরেও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক চাপানউতর অব্যাহত রয়েছে। ফলে দিল্লির আসন্ন এসসিও অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা যোগ দেন কি না, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন থাকলেও বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের অংশগ্রহণের নজির রয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে গোয়ায় আয়োজিত এসসিও-র বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিয়েছিল পাকিস্তান।

এর পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে এসসিও কাউন্সিলের বৈঠকে যোগ দিতে পাকিস্তান সফর করেছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তবে সেই সফরে পাকিস্তানের কোনও মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়নি।

দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন এখনও অব্যাহত। এক দিকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের কঠোর অবস্থান, অন্য দিকে কাশ্মীর প্রশ্নে দুই দেশের বিপরীত অবস্থান—সব মিলিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত এখনও স্পষ্ট নয়।

এই পরিস্থিতিতে দিল্লির আসন্ন এসসিও অনুষ্ঠানে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত বহুপাক্ষিক কূটনীতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই আমন্ত্রণকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায় কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। আপাতত নজর পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার দিকে। শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদ এই অনুষ্ঠানে কোনও প্রতিনিধি পাঠায় কি না, সেটাই এখন দেখার।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!