Advertisement
  • বি। দে । শ
  • অক্টোবর ২৮, ২০২৬

সুদানের বাজারে ড্রোন হামলা, নিহত শতাধিক শিশু ও মহিলা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সুদানের বাজারে ড্রোন হামলা, নিহত শতাধিক শিশু ও মহিলা

সুদানের দক্ষিণ দারফুরের রাজধানী নিয়ালার এক ব্যস্ত বাজারে সুদানি সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় ১০০–র বেশি মানুষ নিহত ও ১১৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই মহিলা ও শিশু। এই হামলার জন্য সুদানের সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেছে দেশের হিংসা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইমার্জেন্সি লয়ার্স। সংস্থাটি স্বাধীন তদন্তেরও আহ্বান জানিয়েছে। সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ড্রোন হামলা বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বিধ্বংসী প্রভাব ফেলে চলেছে।

ইমার্জেন্সি লয়ার্স জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় সুদানি সেনাবাহিনী ওই ব্যস্ত বাজারের ওপর ড্রোন হামলা চালায়। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, এটা একটা বেসামরিক বাজারকে ব্যাপক হতাহতের ঘটনাস্থলে পরিণত করেছে এবং চলমান সংঘাতের মধ্যে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস, যা মেডেসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স নামেও পরিচিত, তারা জানিয়েছে যে তাদের নিয়ালার হাসপাতালে ৩৬টি মৃতদেহ এসে পৌঁছেছে এবং জরুরি বিভাগে প্রায় ১৫০ জন আহত ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয়েছে।

নিয়ালা আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স  ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে আসছে। উভয় পক্ষই বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে, যার হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, বাজার, বাঁধ এবং বাস্তুচ্যুতদের শিবিরসহ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, সুদানে ড্রোন হামলা বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অন্যতম মারাত্মক হুমকিতে পরিণত হয়েছে, যাতে শিশুসহ মানুষ নিহত হচ্ছে এবং অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।

অন্য একটা ঘটনায়, মঙ্গলবার রাজধানীর উপকণ্ঠে ওমদুরমানে একটা ট্রান্সফর্মার স্টেশনে ড্রোন হামলায় সুদানের রাজধানী খার্তুমের বিস্তীর্ণ এলাকা ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎবিহীন ছিল। আল–মারখিয়াত ট্রান্সফরমার স্টেশনে হামলার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে, ফলে হাসপাতাল ও বেকারিগুলো জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এবং জল সরবরাহও সীমিত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ কোম্পানির এক কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন যে, এই হামলার কারণে রাজধানীর প্রায় ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রভাবিত হয়। এই হামলার জন্য নিয়ালা আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সকে দায়ী করা হয়েছে।

বছরের পর বছর ধরে চলা তীব্র লড়াইয়ের পর ২০২৫ সালের মে মাসে সুদানের সামরিক বাহিনী রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করলে খার্তুমে ড্রোন হামলা কমে এসেছিল। তবে, সর্বশেষ হামলা অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোর ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে খার্তুমে সামরিক বাহিনী ও নিয়ালা আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের মধ্যে উত্তেজনা প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নেওয়ার পর সুদানের যে সংঘাত শুরু হয়, তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং জাতিসংঘের মতে বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। এই সংঘাতে অন্তত ৫৯০০০ মানুষ নিহত হয়েছে। প্রায় ৮ লাখ ২৫ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টির সম্মুখীন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!