- বি। দে । শ
- অক্টোবর ২৭, ২০২৬
ইজরায়েলে নির্বাচন
মঙ্গলবার, ইজরায়েলে সংসদীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ইজরায়েলের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই নির্বাচন শুধু বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জয় বা পরাজয়ের বিষয় নয়। বলা হচ্ছে যে, এই নির্বাচন পশ্চিম এশিয়ার ভবিষ্যত গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে, যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনেক কিছু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যেমন উদ্বিগ্ন, তেমনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্বেগের মাত্রাও বেড়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, চ্যালেঞ্জটা শুধু নেতানিয়াহুর জন্য নয়। ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে থাকা ট্রাম্পও তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতার সম্ভাব্য হুমকির সম্মুখীন। তাই, ট্রাম্প ইজরায়েলের নির্বাচনের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুকে সমর্থন করছেন। ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘কিছু খারাপ লোক ইজরায়েলকে ‘ছোট শয়তান’ এবং আমেরিকাকে ‘বড় শয়তান’ বলে ডাকত। কিন্তু এখন, ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘ইজরায়েল ধ্বংস হোক’ স্লোগান আর শোনা যায় না। এবং তা আর কখনও শোনা যাবেও না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুকে ভোট দিন। আমরা যা শুরু করেছি তা শেষ করতে হবে।’’ ট্রাম্প ইজরায়েলে এমন একটা সরকার চান, যা তাঁর পররাষ্ট্রনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং সৌদি আরবের মতো প্রধান মুসলিম দেশগুলোকে এই বলয়ে আনতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করবে।
ট্রাম্পের কাছে ইজরায়েলের নির্বাচন শুধু কোনও প্রতিবেশী বা মিত্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম এশিয়া নীতি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ট্রাম্পের নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতির সাফল্যের সঙ্গে সরাসরিভাবে জড়িত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইজরায়েলে নেতানিয়াহু ৯৯ শতাংশ সমর্থন পান।
এদিকে, ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক নির্বাচনী সমাবেশে বলেন, ‘‘বেরিয়ে আসুন, ঘরে বসে থাকবেন না। জয় নিশ্চিত না হলেও, তা আপনাদের নাগালের বাইরে নয়। পরিস্থিতি সংকটজনক, এবং সবকিছু আপনাদের ওপর নির্ভর করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা শুনুন। তিনি আপনাদের ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন।’’
এদিকে, বিরোধী ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট বলেছেন, ‘‘নেতানিয়াহু তাঁর নেতৃত্বাধীন একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে ইজরায়েলকে ফাঁদে ফেলতে চান। আমি তা হতে দেব না। মঙ্গলবার নেতানিয়াহুকে বাড়ি ফিরতে হবে।’’ বিরোধীদের চ্যালেঞ্জের মুখে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন যে , ইরানের বিরুদ্ধে জয় আর দূরে নয়। তিনি বলেন, “একবার আমরা তা অর্জন করলে, আমাদের জীবন থেকে ধ্বংসের হুমকি চিরতরে দূর করে দেব। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, আমরা আপনাদের কল্পনার বাইরে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিয়ে আসব। এই সবকিছু কেবল তখনই ঘটবে যদি আপনারা আমাদের সমর্থন করেন। যদি আমরা আইজেনকোট এবং মনসুর আব্বাসকে নির্বাচিত করি, তাহলে তা হবে না।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেছেন, ‘‘আমি মনে করি না ইজরায়েলে এগুলো নির্বাচন। এটা আসলে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা, কে সবচেয়ে বেশি জঘন্য কাজ করতে পারে তা দেখার জন্য। তাদের মূল স্লোগান হল, ‘আমি তোমার চেয়ে বেশি অপরাধ, ধর্ষণ ও খুন করতে পারি,’ তাই কে জিতল তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না।’’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের উপর হামাসের হামলা এবং এর ফলস্বরূপ গাজা, ইরান, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনের মতো অঞ্চলজুড়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর এটাই প্রথম নির্বাচন। নেতানিয়াহু ইজরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী। এই নির্বাচনে শুধু নেতানিয়াহুর জন্যই নয়, ট্রাম্পের জন্যও বাজিটা অনেক বড়। নির্বাচন ইজরায়েলে চললেও, তেল আবিব থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত উত্তেজনা তুঙ্গে।
নেতানিয়াহু আশঙ্কা করছেন যে তেহরান এই নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এদিকে, ট্রাম্প হয়তো ভাবছেন যে নেতানিয়াহু হেরে গেলে তার ইরান মিশনের কী হবে। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, আইডিএফ প্রধান ইরানে হামলা চালানোর জন্য নেতানিয়াহুর আদেশ মানতে অস্বীকার করেছেন। এর ফলে তিনি দেশে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এদিকে, ট্রাম্প ইজরায়েলি ভোটারদের ভোট দেওয়ার আগে মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে নেতানিয়াহু একজন যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী।
ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আশঙ্কা করছেন যে, নির্বাচনে হেরে গেলে তিনি অসংখ্য মামলার সম্মুখীন হতে পারেন এবং এমনকি কারাবাসেরও শিকার হতে পারেন। অধিকন্তু, নেতানিয়াহু হেরে গেলে আমেরিকার গাজা পরিকল্পনাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নেতানিয়াহু দেশের ভেতরেও অসংখ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। প্রতিবেদন অনুসারে, আইডিএফ প্রধান ইয়াল জামির বলেছেন যে, ইরানে হামলা করার আদেশ এলে লিখিত অনুমোদন দিতে হবে।
❤ Support Us








