- এই মুহূর্তে দে । শ
- জানুয়ারি ১০, ২০২৬
‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’— ভোটের আগে উত্তাপ বাড়িয়ে তৃণমূলের নতুন ‘থিম সং’
কনকনে শীতের মরশুমেও রাজ্যরাজনীতিতে প্রবল উত্তাপ। একদিকে, আইপ্যাকে ইডি অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ-মিছিল-আইনি পদক্ষেপে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, অন্যদিকে সময় যত এগিয়ে আসছে ভোটপ্রচারে তৎপর হয়েছে তৃণমূল,বিজেপি, সিপিএমের মতো রাজনৈতিক সংগঠনগুলি। এ দূরে স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে রয়েছে রাজ্যের শাসক দল। এই মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর জেলা সফর, সভা, মিটিং-মিছিল করে নিবিড় জনসংযোগ করছেন, দলীয় খামতি মিটিয়ে চাঙ্গা করছেন নীচু তলার কর্মী সমর্থকদের। তৃণমূল ভোট প্রচারে নেমেছে আর ‘থিম সং’ থাকবে না, তাই কি হয়! গানও তো ‘গান’-এর থেকে কম শক্তিশালী নয়।
‘খেলা হবে’, ‘মমতাদি আরেকবার’ কিংবা দেবাংশু ভট্টাচার্যের লেখা হালফিলের গান ‘এ বাংলা ফের মমতার’ পর, ২৬-এর নির্বাচনের সুর বেঁধে দিতে, দলীয় কর্মীদের মধ্যে উন্মাদনা জাগানোর পাশাপাশি বিরোধীদের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিতে, শনিবার প্রকাশিত হয়েছে জোড়াফুল শিবিরের ভোটপ্রচারের টাটকা গান ‘আবার জিতবে বাংলা’। গানটি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, দলের নেতাকর্মীরা সর্বত্র ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এই গান। তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে গানটি প্রকাশের সঙ্গে শেয়ার করা বার্তায় বলা হয়েছে, ‘এটি শুধু প্রচারমূলক উদ্যোগ নয়, বাংলা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে রণহুংকার। রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে যাওয়ার জন্য এটি তৈরি। ষড়যন্ত্র এবং আক্রমণের বিরুদ্ধে একযোগে দাঁড়ানোর গান এটি। আমাদের প্রতিরোধের হৃদস্পন্দন, আমাদের গর্বের সুর এবং মা-মাটি-মানুষের কণ্ঠস্বর।’
গানের মূল ট্যাগলাইন ‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’ ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক জনসভায় ব্যবহার করেছেন। তৃণমূল সূত্রের দাবি, এ গান আসন্ন ভোটে দলের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগাবে। ৩ মিনিটের এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একুশের মঞ্চ থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা। বিভিন্ন সভা, মিছিল এবং তৃণমূল কর্মীদের উচ্ছ্বাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি উঠে এসেছে বাংলার উপর আক্রমণ, ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের চেষ্টা, এবং দলের প্রতিবাদমূলক কর্মকাণ্ড আর বাংলার জনগণের অটুট সংকল্প। জানা যাচ্ছে আইপ্যাক সংস্থাই এই ‘থিম সং’-এর ভিডিও নির্মাণ করেছে। সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, ইডির হানার মধ্যেও কাজ থেমে যায়নি, বরং দ্রুত সম্পাদনা এবং নতুন ফুটেজ সংযোজন করে ভিডিওটি প্রস্তুত করা হয়েছে। ভিডিওতে মমতাকে ‘বাঘিনী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এক দৃশ্যে দেখা যায়, মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা মমতার ছবি মুহূর্তের ভগ্নাংশে ক্রুদ্ধ বাঘিনিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। কয়েক মাস আগে তৃণমূলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘বাংলার বাঘিনী’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল।
ভিডিওতে আরও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলার উপর চলমান আক্রমণ, ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের চেষ্টা, এবং প্রতিটি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দলের সংগ্রাম। পাশাপাশি দেখানো হয়েছে দুর্গা কার্নিভালের খণ্ডচিত্র, মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে মমতার অংশগ্রহণ এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি। ভিডিওতে গত বছরের দুর্গাপুজোর মিছিল, তৃণমূল কর্মীদের উচ্ছ্বাস এবং অভিষেকের নদিয়া ও বনগাঁ সফরের ফুটেজও সংযোজন করা হয়েছে। বিপরীতপক্ষের নেতাদের চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারীর ছবি রয়েছে। তবে বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কোনো ছবি রাখা হয়নি। তৃণমূল সূত্রে জানানো হয়েছে, ভিডিওটি রাজ্যের সর্বত্র প্রচার করা হবে, যাতে বাংলার জনগণ প্রতিরোধের একজোট শক্তিকে অনুভব করতে পারে।
গানটি শেয়ার করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘যখন ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা স্বার্থপর ও সংকীর্ণ হয়, তখন প্রথমেই গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলার মানুষদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে প্রতিপক্ষ এখন ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে মানুষকে ভয়-ভীত করতে চাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পার্টি স্বার্থ অনুযায়ী বাঁকানো হচ্ছে, ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, মানুষকে ভয় দেখিয়ে চুপ করানো হচ্ছে। তবে বাংলার পবিত্র মাটিতে এক সত্য স্পষ্ট হয়েছে—বাংলার মানুষ এই জমিদারী অত্যাচারের যুগের শেষের দিকে ঘূর্ণায়মান। মা-মাটি-মানুষের আশীর্বাদে বাংলা তার অধিকার পুনরুদ্ধার করবে এবং গণতান্ত্রিক গৌরব ফিরিয়ে আনবে।’
❤ Support Us







