- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ১১, ২০২৬
বৃহঃস্পতিতেই সিআইডির মুখোমুখি অভিষেক! হঠাৎ কেন বিস্ফোরক কল্যাণ ?
স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বৃহস্পতিবারই সিআইডির সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তাঁকে ভবানী ভবনে সিআইডি দফতরে উপস্থিত হতে হবে। যদিও মামলার পরবর্তী শুনানি দু-সপ্তাহ পরে নির্ধারিত হয়েছে, ততদিন অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ৩ সপ্তাহ অভিষেককে গ্রেফতার করা যাবে না। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে থাকা অভিষেক বিকেল ৪টে নাগাদ কলকাতায় ফিরে সরাসরি সিআইডি দফতরে যাবেন। অন্যদিকে, রক্ষাকবজের বিরোধিতা করে সিআইডি আদালতে বলেছে, সই জাল কাণ্ডে মূলচক্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তাঁকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তিনি এখন আর শুধু সই জাল কান্ডের সাক্ষী নন, মূলচক্রী।
আদালতের এই নির্দেশে সাময়িক স্বস্তি পেলেও দলের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছেন তৃণমূল সাংসদ ও প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের বিরুদ্ধে ‘ঔদ্ধত্যের’ অভিযোগ তুলে তিনি মামলার আইনজীবীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কল্যাণ বলেন, “ওর জন্যই দলটা শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপরেও উদ্ধত ভাব যায়নি।” বৃহস্পতিবার হাই কোর্টে অভিষেকের পক্ষে সওয়াল করার কথা ছিল কল্যাণের। কিন্তু শুনানির আগেই তিনি মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যান্য জুনিয়র আইনজীবীরাও মামলা ছেড়ে দেন।
কল্যাণ জানান, বুধবার তিনি নিজে আদালতে অভিষেকের মামলার জরুরি শুনানির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ তাঁর ছেলেকে ফোন করে জানানো হয় যে এই মামলায় অন্য এক জুনিয়র আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য সওয়াল করবেন। এ ঘটনাতেই তিনি অপমানিত বোধ করেন। কল্যাণের অভিযোগ, ‘আমি ৪৫ বছর ধরে এই পেশায় আছি। এ ধরনের উদ্ধত আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। আমি মমতাদিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, নয় আমাদের রাখুন।’
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের একাধিক সাংসদ ও বিধায়ক প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির জন্য তাঁর রাজনৈতিক কৌশল ও সংগঠন পরিচালনার ধরনকেই দায়ী করেছেন অনেকে। তবে এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কল্যাণ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। সেই তিনিই এবার প্রকাশ্যে অভিষেকের সমালোচনায় মুখর হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সই জালিয়াতি মামলার সূত্রপাত হয় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক নির্বাচনের প্রক্রিয়া ঘিরে। ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ৬ মে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে তৃণমূলের জয়ী বিধায়কদের বৈঠক হয়। সেখানে বিধায়কেরা হাত তুলে মমতাকে পরিষদীয় দলের পদাধিকারীদের নির্বাচন করার ক্ষমতা দেন। পরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিধানসভায় পাঠানো হয়।
কিন্তু বিধানসভা সে চিঠি গ্রহণ করেনি। কারণ, বিধানসভা বিধি অনুযায়ী পরিষদীয় দলের নেতা ও অন্যান্য পদাধিকারীদের নির্বাচন সরাসরি পরিষদীয় দলের বৈঠকে হওয়া প্রয়োজন। এরপর ১৯ মে ফের কালীঘাটে একটি বৈঠকে বিধায়কদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগ, ওই স্বাক্ষরগুলি ৬ মে-র কার্যবিবরণীতে দেখানো হয়েছে। এ প্রক্রিয়াতেই কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলামের বক্তব্য তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি জানান, ৬ মে তিনি কালীঘাটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না; বরং ভাঙড়ে নিজের বাড়িতেই ছিলেন। তদন্তকারীরা তাঁকে যে নথি দেখিয়েছেন, তাতে থাকা স্বাক্ষর তাঁর নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
বিধায়কদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে সিআইডি। ইতিমধ্যে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, তাপস মাইতি এবং বাহারুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে তদন্তকারীরা তথ্য সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়েও গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করেছে সিআইডি। সই-কাণ্ডের তদন্তে গত ৩০ মে প্রথম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছয় সিআইডি। ১ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি ১৪ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেন। সিআইডি সেই আবেদন খারিজ করে একাধিকবার নোটিস পাঠায়। কিন্তু নির্ধারিত দিনে হাজিরা না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতে পৌঁছয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যেই তাঁকে সিআইডির মুখোমুখি হতে হবে।
❤ Support Us






