Advertisement
  • দে । শ
  • মার্চ ৩০, ২০২৬

প্রয়াত রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রয়াত রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়

চোখের পলকে সব শেষ । কয়েক ঘণ্টা আগেও শুটিং করছিলেন, আর আজ তিনি নেই । তালসারির সমুদ্রে শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর । মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তাঁর এই অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিউড ও অনুরাগীরা ।

‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে রবিবার তালসারিতে জলে নামেন রাহুল । সেই সময় আচমকাই জোয়ার এসে গেলে তিনি তলিয়ে যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে । সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন । দিঘা থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে এবং তমলুক হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর তাঁর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে ।

রবিবার রাতে তাঁর পল্লীশ্রীর বাড়িতে যান রাজ্যের মুন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সিপিআইএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, পার্থ প্রতিম বিশ্বাস । মুখ্যমন্ত্রী শিল্পীর অকাল প্রয়ানে শোক জ্ঞাপন করেন । মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস প্রয়াত শিল্পীর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন ।

এই ঘটনায় শুটিং সেটের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে । অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিযোগ করেছেন, কোনও রকম নিরাপত্তা ছাড়াই শুটিং চলছে, যা শিল্পীদের জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ । একই সঙ্গে সুদীপ্তা চক্রবর্তী নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন । তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, শুটিং স্পটে এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে কঠোর পুলিশি তদন্ত হওয়া উচিত ।

ঘটনার আরও একটি দিক সামনে এসেছে । সূত্রের দাবি, নৌকায় শুটিং করার সময় রাহুল এবং তাঁর সহঅভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র জলে পড়ে যান । শ্বেতা সুস্থ থাকলেও রাহুলকে বাঁচানো যায়নি । প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চিত্রনাট্যে জলের কোনও দৃশ্য ছিল না এবং তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না । তাঁর কথায়, অনেকেই নাকি রাহুলকে জলে নামতে বারণ করেছিলেন, কিন্তু তিনি সেই সতর্কবার্তা শোনেননি ।

রাহুলের মৃত্যুর খবরে স্তম্ভিত তাঁর সহকর্মী ও বন্ধুরা । পরিচালক রাজ চক্রবর্তী তাঁর সঙ্গে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর স্মৃতি মনে করে শোকপ্রকাশ করেছেন । অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, পরিচালক মৈনাক ভৌমিক, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ-সহ অনেকেই এই ঘটনাকে মেনে নিতে পারছেন না ।

সহকর্মীদের কথায়, রাহুল শুধু একজন দক্ষ অভিনেতাই নন, ছিলেন একজন প্রতিভাবান লেখক ও চিন্তাশীল মানুষ । সাহিত্যচর্চা থেকে সমাজ-রাজনীতি—সব ক্ষেত্রেই তাঁর সরব উপস্থিতি ছিল। বড়পর্দা, ছোটপর্দা ও থিয়েটার—সব জায়গাতেই তাঁর অবাধ বিচরণ।

২০০০ সালে ‘চাকা’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়জগতে পা রাখেন তিনি। এরপর ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’, ‘আবার আসব ফিরে’, ‘জ্যাকপট’, ‘জুলফিকার’, ‘বিদায় ব্যোমকেশ’ ও ‘ব্যোমকেশ গোত্র’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় । অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালিখিতেও তিনি সমান দক্ষ ছিলেন ।

ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন একজন দায়িত্বশীল মানুষ ও স্নেহশীল বাবা । ছেলে সহজের কথা ভেবে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার-এর সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন । ছেলের নামেই শুরু করেছিলেন তাঁর পডকাস্ট ‘সহজ কথা’।

রাহুলের এই আকস্মিক মৃত্যুতে শুধু একটি প্রতিভার অবসানই নয়, বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল । শেষ দৃশ্যের অভিনয় সেরে চিরবিদায় নিলেন তিনি, রেখে গেলেন অসংখ্য স্মৃতি, প্রশ্ন এবং গভীর শূন্যতা । সোমবার তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের পরে কলকাতায় আনা হবে অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহ । সকাল সাড়ে ৯ নাগাদ ময়না তদন্ত শুরু হয় । সেই সঙ্গে ভিডিওগ্রাফিও করা হবে বলে জানা গিয়েছে । ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হবে ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!