- প্রচ্ছদ রচনা বি। দে । শ
- মার্চ ২, ২০২৬
পাকিস্তানে তালিবানের ড্রোন হামলা, নূর খান এয়ারবেস-সহ একাধিক সামরিক ঘাঁটিকে নিশানা
পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার আবহে এবার নতুন করে তীব্র হল আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংঘাত। আফগানিস্তানের তালিবান-নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রক পাকিস্তানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে ‘সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত’ ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে। হামলায় রাওয়ালপিন্ডির Nur Khan Airbase-সহ একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আফগানিস্তানের Afghanistan’s Taliban-led defence ministry এক্স -এ প্রকাশিত বিবৃতিতে জানায়, শনিবার গভীর রাত থেকে রবিবার ভোররাতের মধ্যে ডুরান্ড লাইন অতিক্রম করে পাকিস্তানের ভেতরে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। এই অভিযানে বালোচিস্তানের কোয়েট্টায় অবস্থিত ১২তম ডিভিশনের সদর দপ্তর, খাইবার পাখতুনখোয়ার মহম্মদ এজেন্সির খোইজো ক্যাম্প এবং রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নূর খান এয়ারবেস পাকিস্তানের একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। এর আগেও ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-পরবর্তী প্রত্যাঘাতে এই ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানা যায়।
তালিবান সরকারের দাবি, পাকিস্তান পূর্বে আফগান ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়েছিল, যার জবাব হিসেবেই এই ড্রোন অভিযান। শনিবার আফগানিস্তান অভিযোগ তোলে যে, পাকিস্তান কাবুল ও বাগরামে বিমান হামলা চালিয়েছে। তার আগে ২২ ফেব্রুয়ারি আফগান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলায় একাধিক নিরীহ আফগান নাগরিক নিহত হন বলে অভিযোগ। এর চার দিন পর, ২৬ ফেব্রুয়ারি, আফগানিস্তান পাল্টা আঘাত হানে। এরপর আবার বাগরামে পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগ ওঠে।
এই প্রেক্ষাপটে রবিবারের ড্রোন হামলাকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে। তালিবান-নেতৃত্বাধীন সরকার বিবৃতিতে ইসলামাবাদকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, ভবিষ্যতে পাকিস্তান যদি আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন করে বা নতুন করে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আরও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
যদিও এই হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান সরকারের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এদিকে, আফগানিস্তানের এই এয়ার স্ট্রাইকের পর পাকিস্তানের চিনা নির্মিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই সামরিক উত্তেজনা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
❤ Support Us








