Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুন ১৩, ২০২৬

আমফান ত্রাণে ২৫০ কোটির দুর্নীতি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর : নতুন বিতর্কে উত্তাল ডায়মন্ড হারবার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আমফান ত্রাণে ২৫০ কোটির দুর্নীতি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর : নতুন বিতর্কে উত্তাল ডায়মন্ড হারবার

রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে আমফান ত্রাণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ । এবার ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আমফান ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি । তাঁর দাবি, ঘূর্ণিঝড় আমফানের পর কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো ত্রাণের বিপুল অঙ্কের অর্থ প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে না পৌঁছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে ।
শনিবার বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অভিজিৎ দাস ববি । তিনি জানিয়েছেন, ডায়মন্ড হারবার মহকুমার প্রতিটি থানায় একই ধরনের অভিযোগ দায়ের করা হবে । পাশাপাশি জেলা পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি ।
২০২০ সালের ২০ মে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আমফান বাংলা ও ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়ে । ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা । ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বিপুল পরিমাণ ত্রাণ বরাদ্দ করে ।
অভিযোগকারীর দাবি, সেই ত্রাণের অর্থের বড় অংশ প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছায়নি। বরং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে ।
বিষ্ণুপুর-১ ব্লকে আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি মেরামতের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল ২৫ কোটি ৮০ লক্ষ ২০ হাজার টাকা । সরকারি নথিতে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩১ হাজার । অভিযোগ, পরে কাগজে-কলমে সেই সংখ্যা ৩৪ হাজার দেখানো হয় । এছাড়া, বিষ্ণুপুর-২ ব্লকে প্রায় ৩২ কোটি ৫ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে । একই মোবাইল নম্বরে একাধিক ব্যক্তির নামে ত্রাণ প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে । একই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৭-৮ জনের নামে টাকা পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে । এমনকি একই পরিবারের ১১-১২ জন সদস্যকে ত্রাণপ্রাপক হিসেবে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ । অভিজিৎ দাস ববির দাবি, গোটা ডায়মন্ড হারবার এলাকায় এই ধরনের অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।
অভিযোগে শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, প্রশাসনের একাধিক স্তরের আধিকারিকদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে । তদন্তের আওতায় আনার দাবি করা হয়েছে —
তৎকালীন বিডিওদের, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধানদের, জেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাদের, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের ।
বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলের অর্থ তছরূপের অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে ।
এই অভিযোগ এমন সময়ে সামনে এল, যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই একাধিক মামলায় তদন্তের মুখোমুখি ।
বিধানসভা সংক্রান্ত একটি সই জালিয়াতি মামলায় সম্প্রতি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি । গত বৃহস্পতিবার ভবানীভবনে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জেরা করা হয় । এই মামলায় তাঁকে ফের হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
অন্যদিকে, ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায়ও সিআইডি তাঁর বাড়িতে সমন পৌঁছে দিয়েছে । আগামী ১৬ জুন তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে ।
এছাড়াও আগামী ১৫ জুন ইডি-র দপ্তরেও তাঁর হাজিরার কথা রয়েছে ।
একদিকে সই জালিয়াতি মামলা, অন্যদিকে ডিজে মন্তব্য বিতর্ক, তার সঙ্গে এবার আমফান ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগ — সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি চাপ ক্রমশ বাড়ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর । তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি । তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের ।

  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!