- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ১০, ২০২৬
‘২০ বছর বিরোধী আসনে থাকব, তবু সমঝোতা নয়’, হুমায়ুন-ভিডিয়ো বিতর্কে তৃণমূলকে নিশানা শাহর
ভোটের আগে বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে নতুন বিতর্ক। হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে, বিজেপির সাথে আর্থিক লেনদেনের একটি ‘স্টিং ভিডিও’ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এ আবহে কলকাতায় বিজেপির সংকল্পপত্র প্রকাশ মঞ্চ থেকে সরাসরি জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, ‘২০ বছর বিরোধী আসনে বসে থাকতে হলেও, এ ধরনের মানুষের সঙ্গে হাত মেলাব না।’
বিতর্কের সূত্রপাত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে প্রকাশিত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ওই ভিডিওতে (যার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি) শোনা গিয়েছে, হুমায়ুন কবীর বিজেপির সঙ্গে হাজার কোটি টাকার এক গোপন ‘ডিল’-এর কথা বলছেন। এমনকি অভিযোগ উঠেছে, রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে, মুসলিম ভোট ভাগাভাগির উদ্দেশ্যে অর্থের বিনিময়ে আলাদা দল গড়ে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে তাঁর কথায়। ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়েছে, ১০০০ কোটি টাকার ওই চুক্তির মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা নাকি আগাম নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, সেখানে বিজেপি শাসিত দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নামও উচ্চারিত হয়েছে ওই ‘কথোপকথন’-এ।
ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তৃণমূল, বিজেপির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি, সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাল্টা হিসেবে হুমায়ুন কবীর নিজেই ভিডিওটিকে ‘ফেক’ বলে দাবি করেন এবং অভিযোগ তোলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভিডিওটি সম্পূর্ণভাবে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি হতে পারে এবং বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার অনুসন্ধান হওয়া প্রয়োজন। এমনকি তিনি হুমায়ুন কবীরকেই সিবিআই তদন্তের দাবি জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে।
শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির সংকল্পপত্র প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই প্রসঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়েন অমিত শাহ। সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘আপনারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতা জানেন না। উনি চাইলে একটা নয়, এমন দু-হাজার ‘ফেক’ ভিডিও বানাতে পারেন।’ শাহের এ মন্তব্যে কার্যত ভিডিওটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। শুধু তাই নয়, হুমায়ুন কবীর এবং বিজেপির মধ্যে কোনোরকম যোগাযোগ বা সমঝোতার অভিযোগও সাফ খারিজ করে দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘হুমায়ুন কবীর এবং ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে সম্পর্ক উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুর মতো দূরত্বপূর্ণ।’ মতাদর্শগত অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কখনো কোনো মিল হতে পারে না। যারা বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার থেকে আমরা আরও ২০ বছর বিরোধী আসনে বসতে রাজি।’
শাহের মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে। কারণ, তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন তৃণমূলের দিকে অভিযোগের তীর ছোড়া হয়েছে, অন্যদিকে হুমায়ুন কবীরের দাবি—ভিডিওটি ভুয়ো—তার সঙ্গেও এক ধরনের সুর মেলানো হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিজেপি কি কৌশলে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, নাকি সত্যিই ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে ? তবে, বিতর্কের সরাসরি প্রভাব পড়েছে জোট রাজনীতিতেও। আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল ‘মিম’-এর সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের দলের সম্ভাব্য জোট ভেঙে গিয়েছে। দলের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যাঁর জন্য সংখ্যালঘু সমাজের মর্যাদা ও সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, এমন কোনো ব্যক্তি বা দলের সঙ্গে তারা সম্পর্ক রাখতে রাজি নয়। তাদের দাবি, ভিডিওতে হুমায়ুনের বক্তব্যে মুসলিম সমাজের অসহায়তা এবং রাজনৈতিক ব্যবহারের ইঙ্গিত স্পষ্ট। সে কারণেই তাঁরা জোট থেকে সরে এসে বাংলায় একাই লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভবিষ্যতে অন্য কোনো দলের সঙ্গেও জোট না করার কথাও জানিয়েছে।
❤ Support Us





