- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ২৩, ২০২৬
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে কড়া যাচাই, ভুয়ো নাম ঠেকাতে ‘এসআইআর’ তালিকাকে ব্যবহার করবে রাজ্য সরকার
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের বর্তমান উপভোক্তাদের তালিকা খতিয়ে দেখে নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। আগামী ১ জুন থেকে এই নতুন প্রকল্প কার্যকর হতে চলেছে। সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। তবে প্রাপকদের তালিকায় মৃত, নিখোঁজ, ডুপ্লিকেট বা স্থানান্তরিত ব্যক্তিদের নাম যাতে না থাকে, তার জন্য বিশেষ যাচাই অভিযান শুরু হচ্ছে।
এ কাজে রাজ্য সরকার ‘স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ বা ‘আর আই আর’ প্রক্রিয়ার তথ্যকে মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। জেলাস্তরে জরুরি ভিত্তিতে ‘মিশন মোডে’ সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার)-দের ভোটার তালিকা সামনে রেখে মৃত, স্থানান্তরিত, ডুপ্লিকেট ও সন্দেহভাজন নামগুলি যাচাই করতে বলা হয়েছে।
মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ২৫ মে-র মধ্যে এই যাচাইয়ের কাজ শেষ করে জেলাশাসকদের রিপোর্ট জমা দিতে হবে। গোটা প্রক্রিয়ার নিয়মিত নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্থসচিব প্রভাত মিশ্র এবং স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষকে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘এস আই আর’ প্রক্রিয়ার সময় যেসব নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল, সেগুলিও পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের সময় চিহ্নিত হওয়া প্রায় ৫৮ লক্ষ এএসডিডি (মৃত, স্থানান্তরিত, ডুপ্লিকেট ও নিখোঁজ) তথ্য, শুনানির সময়ে আরও ৬ লক্ষ আনম্যাপড নাম এবং ভোটার স্লিপ বিলির সময় দ্বিতীয় দফায় যাচাই হওয়া তালিকাও পর্যালোচনা করা হবে।
সরকারের লক্ষ্য, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের তালিকায় যেন কোনও মৃত ব্যক্তি, ভুয়ো নাম বা বিদেশি অনুপ্রবেশকারীর নাম না থাকে। তবে যাঁদের নাম অ্যাজুডিকেশন বা ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত কারণে ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে এবং যাঁরা আপিল করেছেন, তাঁদের নাম তালিকায় থাকলে আপত্তি নেই বলেই জানিয়েছে প্রশাসন।
যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে বিডিওদের নিজস্ব দপ্তরের কর্মীদের পাশাপাশি বিএলওদেরও কাজে লাগাতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, বিএলওরা এলাকায় এলাকার ভোটারদের সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন, ফলে যাচাইয়ের কাজ সহজ হবে। ভবিষ্যতে নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের যাচাই করা হবে। এ জন্য নারী ও শিশুকল্যাণ দপ্তর শীঘ্রই একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করতে চলেছে।
তবে ভোট-পরবর্তী সময়ে বিএলওদের এভাবে প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্য মঞ্চ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, বিএলওদের কাজ শুধুমাত্র ভোট সংক্রান্ত হওয়া উচিত। ‘এস আই আর’ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময় তাঁদের নিয়োগ করা হয়েছিল, কিন্তু তারপর থেকে একের পর এক বিভিন্ন কাজে তাঁদের ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোট শেষ হলেও এখনও তাঁদের মূল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি অনেকের পাওনাও বাকি রয়েছে বলে অভিযোগ। সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এই নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
❤ Support Us







