- দে । শ বৈষয়িক
- নভেম্বর ১, ২০২৩
ভারত বাংলা মৈত্রি সম্পর্কে নয়া দিগন্ত। নতুন তিন প্রকল্প সূচনায় হাসিনাকে সৌহার্দ্যের আশ্বাস মোদির
প্রতিবেশী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুধবার ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারতের সহায়তায় বাংলাদেশে তৈরি তিনটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন। এই তিনটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে আখাউড়া-আগরতলা ক্রস-বর্ডার রেল লিঙ্ক, খুলনা-মংলা বন্দর রেল লাইন এবং রামপাল মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট ইউনিট-২। এই তিন প্রকল্প বাংলাদেশে সংযোগ ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রকল্পগুলির উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ভার্চুয়াল বক্তৃতায় ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “মাননীয়া আপনার স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্নকে সফল করতে ভারত সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন সফল হবে।” অপরদিকে, শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধন জোরদার করার বিষয়ে আপনার প্রতিশ্রুতির জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগের উদ্বোধনকে নরেন্দ্র মোদি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে এদিন মন্তব্য করেন। এই রেল সংযোগ বাংলাদেশ এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির মধ্যে প্রথম রেল সংযোগ। ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক দৃঢ় বন্ধনের কথাও এই প্রসঙ্গে মনে করিয়ে দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
#WATCH | On the inauguration of three development projects between India and Bangladesh, PM Narendra Modi says, “In last 9 years, our internal trade has tripled… Today the inauguration of the Akhaura-Agartala rail link is a historic moment… This is the first rail link between… pic.twitter.com/UjdKdkUlo5
— ANI (@ANI) November 1, 2023
বিগত গত ৯ বছরে ভারত-বাংলাদেশ এই দুই দেশ একসঙ্গে যে কাজ করেছে, এর আগে তা কখনও হয়নি বলে এদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, গত ৯ বছরে, স্থল সীমান্ত চুক্তি, সমুদ্রসীমা নিয়ে বিবাদের মীমাংসা, ঢাকা, শিলং, আগরতলা, গুয়াহাটি এবং কলকাতার মধ্যে ৩টি নতুন বাস পরিষেবা, ৩টি নতুন ট্রেন পরিষেবা, পার্সেল এবং কন্টেইনার ট্রেন পরিষেবা, গঙ্গা বিলাস ক্রুজের মতো যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। তিনি আরও জানান, গত ৯ বছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বেড়েছে তিনগুণ।
আখাউড়া-আগরতলা আন্তঃসীমান্ত রেল সংযোগ প্রকল্পটির জন্য ভারত ৩৯২.৫২ কোটি টাকার অনুদান বাংলাদেশকে দিয়েছে। মোট ১২.২৪ কিমি রেলপথের মধ্যে ৬.৭৮ কিমি রেলপথ রয়েছে বাংলাদেশে। আর ত্রিপুরা মধ্যে রয়েছে বাকি ৫.৪৬ কিমি। খুলনা-মংলা বন্দর রেললাইন প্রকল্পটির জন্য ভারত সরকার ৩৮ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ ঋণ দিয়েছে বাংলাদেশকে। এই প্রকল্পে, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দর মংলা এবং খুলনার মধ্যে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে পণ্য পরিবহনের অনুমতি দিয়েছে। কাজেই এই রেলপথ সংযোগের ফলে উপকৃত হবে দুই দেশই। মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্টের জন্য ভারত বাংলাদেশকে ঋণ দিয়েছে ১৬০ কোটি মার্কিন ডলার। খুলনা রামপালে তৈরি এই প্ল্যান্টের উৎপাদন ক্ষমতা ১,৩২০ মেগাওয়াট ! প্রকল্পটি তৈরি করছে বাংলাদেশ–ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড বা বিআইএফপিসিএল, যা ভারতের এনটিপিসি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বা বিপিডিবি মধ্যে ৫০ শতাংশের সমান হারে জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি।
মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রথম ইউনিটটি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে দু’দেশ যৌথভাবে উদ্বোধন করে এবং ইউনিট -২ আজ বুধবার উদ্বোধন করলেন নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা। মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট চালু হলে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছে ভারত সরকার।
❤ Support Us








