Advertisement
  • দে । শ
  • জুন ৩, ২০২৬

পাটনায় কোচিং সেন্টারে হামলা, গুলি চালানোর অভিযোগ। আহত নিরাপত্তারক্ষী

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পাটনায় কোচিং সেন্টারে হামলা, গুলি চালানোর অভিযোগ। আহত নিরাপত্তারক্ষী

রাতের অন্ধকারে আচমকা ইট-পাটকেলের বৃষ্টি। মুহূর্তের মধ্যে ভাঙচুর। রক্তাক্ত নিরাপত্তারক্ষী। আর সে সঙ্গে গুলি চলার অভিযোগ ঘিরে তুমুল বিতর্ক। বিহারের রাজধানী পটনার মুসাল্লাহপুর হাট এলাকায় জনপ্রিয় শিক্ষক ফয়জল খান, ওরফে খান স্যার’-এর কোচিং সেন্টারে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। যদিও গুলি চলার অভিযোগ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশতবু কোচিং সেন্টারে হামলাব্যাপক ভাঙচুর এবং নিরাপত্তারক্ষীকে মারধরের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত।  

মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে। খান স্যরের দাবিরাত সাড়ে দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে অনলাইন ক্লাস চলাকালীন একদল দুষ্কৃতী তাঁর কোচিং সেন্টারে হামলা চালায়। প্রথমে তিনি দাবি করেছিলেনহামলাকারীরা অন্তত আট থেকে দশ রাউন্ড গুলি চালিয়েছে। এমনকি সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই গুলি চলতে দেখেছি।’ তাঁর অভিযোগ ছিলদীর্ঘ দিন ধরে কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সংস্থার পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল, সেই হুমকিরই বাস্তব রূপ এই হামলা। তবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দাবিতে খানিক বদল আসে। বুধবার তিনি জানানঘটনার সময় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল। চারপাশে চিৎকারভাঙচুরআতঙ্ক— সব মিলিয়ে ঠিক কী ঘটেছিলতা তিনি স্পষ্টভাবে বুঝে উঠতে পারেননি। নিরাপত্তারক্ষী, উপস্থিত অন্যদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্রথম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্বীকার করেনপুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগপত্র বা এফআইআর-এ গুলি চালানোর কোনো উল্লেখ নেই।

বে, হামলার ভয়াবহতা নিয়ে তাঁর বক্তব্যে কোনো পরিবর্তন নেই। খান স্যরের অভিযোগকয়েক জন সমাজবিরোধী আগেই তাঁর কোচিং সেন্টারে এসে প্রশ্ন তুলেছিলকেন এত কম খরচে পড়ানো হয়। এমনকি প্রতিষ্ঠানটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। বুধবার সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড়ো অপরাধআমরা গরিব মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের কম খরচে পড়াই। হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী যখন সাফল্য পায়তখন কিছু মানুষের ব্যবসায় ধাক্কা লাগে। সে কারণেই আমাদের টার্গেট করা হচ্ছে।

খান স্যরের দাবিসম্প্রতি বিহার পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষায় তাঁর কোচিংয়ের বহু পড়ুয়া সফল হয়েছেন। সাফল্য উদ্‌যাপনের জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয়েছিল। এরপর থেকেই চাপহুমকি আর ভয় দেখানোর ঘটনা বাড়তে থাকে। তাঁর অভিযোগকোচিং ব্যবসার প্রতিযোগিতাই হামলার নেপথ্যে অন্যতম কারণ হতে পারে। এদিকেপুলিশের বক্তব্য অনেকটাই সংযত। পাটনার পুলিশ সুপার কার্তিকেয় কে শর্মা জানিয়েছেনএখনো পর্যন্ত তদন্তে গুলি চালানোর কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ মেলেনি। তবে কোচিং সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাপ্রত্যক্ষদর্শী ও কোচিং সেন্টারের কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদও শুরু হয়েছে।

পাটনা পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এদিন একদল দুষ্কৃতী কোচিং সেন্টারের সামনে পাথর ছুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। পুলিশ সূত্রের দাবিপ্রাথমিক তদন্তে কিছু ছাত্রের জড়িত থাকার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বুধবার সামনে আসে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও। সেখানে দেখা গিয়েছেমুখ ঢেকে একদল যুবক রাতের অন্ধকারে কোচিং সেন্টারের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়ছে। প্রতিষ্ঠানের ব্যানার ও হোর্ডিং ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্যও ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। তবে ওই ফুটেজে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার বা গুলি চালানোর কোনো স্পষ্ট ছবি এ পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।

হামলার সময় কোচিং সেন্টারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রক্ষীকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি। চিকিৎসকদের একটি সূত্রের দাবিতাঁর আঘাত গুরুতর হলেও বর্তমানে অবস্থা স্থিতিশীল। তবে জবানবন্দি দেওয়ার মতো অবস্থায় তিনি নেই। ঘটনার পর বুধবার সকাল থেকেই কোচিং সেন্টারের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন পড়ুয়ারা। বহু ছাত্রছাত্রী বিক্ষোভে সামিল হন। উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘উই ওয়ান্ট সিকিওরিটি’— স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। প্রশাসনের কাছে দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও কোচিং সেন্টারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবিঘটনার আগে থেকেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। কয়েকটি কোচিং প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের মধ্যে বচসা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার খবরও শোনা যাচ্ছিল। কিছু সূত্রের দাবিঅন্য একটি কোচিং সেন্টারের ছাত্রদের সঙ্গে বিবাদের জেরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে সে তত্ত্বেরও কোনো স্বীকৃতি মেলেনি। তবে, এই প্রথম নয়। ২০১৯ সালেও খান স্যরের কোচিং সেন্টারকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সে বারও হামলার অভিযোগ সামনে এসেছিল। ফলে নতুন ঘটনায় ফের এক বার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ না দেখিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন খান স্যার। তাঁর মতে, ‘পুলিশ  প্রশাসনের উপর আমাদের আস্থা রয়েছে। ঘটনার পরে রাত গভীর পর্যন্ত সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে ছিলেন। আমরা চাইনিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং প্রকৃত দোষীরা আইনের আওতায় আসুক।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!